শনিবার, জানুয়ারি ১৬

প্রবন্ধ

সোনালী করমর্দন
প্রবন্ধ, শিল্প ও সাহিত্য

সোনালী করমর্দন

রোমেল রহমান :: জানা যাবে সরকার পাটকল গুলো বন্ধ ঘোষণা দেবার প্রক্রিয়ার চূড়ান্তে পৌঁছে গেছে এবং শীঘ্রই ২৫০০০ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বেন কমপক্ষে, তবে ধর্মাবতার একেবারে পাষণ্ড ভাষার প্রয়োগ করেন না, এই ব্যাপারটাকে তারা সোনালী দুঃখের মতন ‘সোনালী করমর্দন’ নাম দিয়ে শ্রমিকদের বেকার করে দেবেন! ফলে রাষ্ট্রের এই সন্তানেরা খাবার যোগাড়ের জন্য আগামী দিনে কোন রাস্তা বেছে নেবেন(কেনোনা যে পাওনা তারাপাবেন, তা দিয়ে সাফল্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক মুক্তি ঘটিয়ে বাকি জীবন পার করার সফল বিগত নজির নেই)! ন্যায় শব্দটা জীবিত থাকবে কি তাদের হাতে আর? নিরুপায়ের ন্যায় কি? কানুন বা শাস্ত্র অবশ্য অটল ব্যবস্থার পক্ষে কিন্তু ক্ষুধার্তের পাকস্থলী কি সেই পথের অনুগামী হতে সমর্থ? দ্বিতীয় পথ হিসেবে হয়তো পূর্বের ন্যায় বেছে নেয়া যাবে আত্মঘাতী হবার রাস্তা! সেই দায় আমরা রাষ্ট্রের কাঁধে দিলে রাষ্ট্রের তাতে কি এসে যায় সেই বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় ...
‘মাসুদ রানা’র স্রষ্টা আনোয়ার হোসেন, বেশিরভাগ বই লিখেছেন আবদুল হাকিম
প্রবন্ধ, শিল্প ও সাহিত্য

‘মাসুদ রানা’র স্রষ্টা আনোয়ার হোসেন, বেশিরভাগ বই লিখেছেন আবদুল হাকিম

অধিকার ডেস্ক:: বাংলাদেশের তুমুল জনপ্রিয় থ্রিলার ‘মাসুদ রানা’ সিরিজটির নাম উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি যে নাম মনে ভেসে আসে সেটি এর লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন। তবে সেই ভাবনায় ছেদ পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের দেওয়া এক রায়ে। কাজী আনোয়ার হোসেন এই তুমুল জনপ্রিয় সিরিজের স্রষ্টা তবে বেশিরভাগ পর্বের লেখক শেখ আবদুল হাকিম। রবিবার এই রায় দেন বাংলাদেশ কপিরাইট কার্যালয়। যার ফলে দাবিকৃত মাসুদ রানা সিরিজের ২৬০টি এবং কুয়াশা সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে কপিরাইট স্বত্ব পেতে যাচ্ছেন শেখ আবদুল হাকিম। রায়ে বলা হয়, সেবা প্রকাশনীর তুমুল জনপ্রিয় এই সিরিজটি প্রথম ১১টি বইয়ের পর ২৬০ পর্ব পর্যন্ত এটি লিখেছেন শেখ আব্দুল হাকিম। ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই মামলা করেন শেখ আবদুল হাকিম। তিনি ছাড়াও মাসুদ রানার আরেক লেখক ইফতেখার আমিনও কপিরাইট আইনে মামলা করেছেন মাসুদ রানার স্বত্ব নিয়ে। তবে ইফতেখার আমিনের মামলা এখনও চলম...
পাঠ প্রতিক্রিয়া: তোত্তো-চান
প্রবন্ধ, শিল্প ও সাহিত্য

পাঠ প্রতিক্রিয়া: তোত্তো-চান

বিপ্লব নন্দী :: তোত্তো-চান (জানলা ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট মেয়েটা);মূল (জাপানি ভাষায়): তেৎসুকো কুরোয়ানাগি;ইলাস্ট্রেশন: চিহিরো ইবাসাকি;বাংলা অনুবাদ: মৌসুমী ভৌমিক;প্রকাশক: ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, ইন্ডিয়া;প্রথম প্রকাশ: ২০০০খ্রি. আমার আজন্ম লালিত স্বপ্ন একটি আদর্শ স্কুল প্রতিষ্ঠা করা যেটি হবে আমার স্বপ্নের স্কুল। ইউনিক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ এই স্বপ্নের স্কুলের একটি খসড়া রূপরেখাও আমি তৈরি করে রেখেছি; কথা দিচ্ছি এটি অন্ততপক্ষে কোন বিদ্যা বিক্রির দোকান হবে না। শুধু অপেক্ষায় আছি কিছু স্বপ্নবাজ নবীন-প্রবীণ বন্ধুর যাদের সাথে নিয়ে অগ্রযাত্রা শুরু করবে আমার স্বপ্ন, হেটে বেড়াবে আমার স্বপ্ন, মাতিয়ে বেড়াবে আমার স্বপ্ন, স্বপ্নবাজ মানুষ তৈরি করবে আমার স্বপ্ন। মাঝে মাঝে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়ারের মত করে নিজেই নিজেকে স্বগতোক্তি করে বলি-‘আই হেভা ড্রিম!’ আমায় ক্ষমা করবেন বন্ধুরা, লিখতে বসেছি পাঠ প্রতিক্রিয়া, হ...
জাগো হে অমৃতজ্যোতি, জাগো হে মা দুর্গা
প্রবন্ধ, শিল্প ও সাহিত্য

জাগো হে অমৃতজ্যোতি, জাগো হে মা দুর্গা

সজল ঘোষ ::সাদা সাদা মেঘের ভেলা রয়েছে আকাশ জুড়ে। মনমাতানো কাশবন আর শিউলি ফুলের মুগ্ধ সমারোহ চারিদিকে। এমনই চমৎকার ও মধুময় লগ্নে এসেছেন মহামায়া মা দুর্গা। সবার মনে চলছে আনন্দানুভূতি। এই শরৎ শুভক্ষণে বছর ঘুরেই মা শ্রীদুর্গা আসেন সবার ঘরে। এবারও তাঁরব্যতিক্রম হয়নি । মহামায়ার আগমনে চারিদিকে তাই লেগেছে বর্ণাঢ্য আনন্দ উৎসবের ঢল। সকল স্থানেই হৃদয়ের উচ্ছল মুখরতা প্রকাশিত হচ্ছে। নজরকাঁড়া বর্ণিল আবহে চলছে পুজোর আয়োজন। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন অনাবিল ভালোবাসার সম্মিলনে।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হল শারদীয় শ্রীদুর্গা পুজা । ৫ দিন ব্যাপি দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দশভূজার শ্রীরাঙা রাতুল চরণে তাঁেদর মনবাসনা পুরণের আকুল প্রার্থনা জানান। শরৎ আকাশে এখন সাদা মেঘের ভেলা। শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জে মনভোলানো কাশফুল শিউলি ফুলের অপুর্ব মাখামাখি। দিকে দিকে চলছে এখন মাতৃদেবী বন্দনা। বছর ঘুরে ...
সমাজতন্ত্রের ‘সরদার’ : অসাধারণ এক সাধারণ-মানুষ
প্রবন্ধ, বিপ্লবীদের কথা, মতামত, শিল্প ও সাহিত্য

সমাজতন্ত্রের ‘সরদার’ : অসাধারণ এক সাধারণ-মানুষ

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম :: নাম তার সরদার ফজলুল করিম। একজন অনন্য পণ্ডিত, প্রজ্ঞাবান জ্ঞান তাপস ও নিবেদিতপ্রাণ বিপ্লবী। ২০১৪ সালের ১৫ জুন রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে ৭৯ বছরের এক সার্থক জীবন সমাপন করে এই জগত থেকে তিনি চির বিদায় নিয়েছেন। বেশির ভাগ মানুষ তাঁকে সম্বোধন করতো 'সরদার স্যার' অথবা শুধু 'স্যার' বলে। অবশ্য আমরা কেউ কেউ তাঁকে আগাগোড়াই 'সরদার ভাই' বলে ডাকতাম। কখনো কখনো আবেগঘন হয়ে 'কমরেড' বলে সম্বোধন করতাম। তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার একদিন আগে, ১৩ জুন বিকেলে, সমরিতা হাসপাতালে সিসিইউ-এর বেডে তাঁকে যখন আমি শেষ দেখা দেখেছিলাম- তখন প্রায় সম্পূর্ণ চেতনাহীন মানুষটির সামনে দাঁড়িয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে কয়েকবার জোরে উচ্চারণ করেছিলাম 'লাল সালাম, কমরেড!'। ডাক্তার-নার্সরা পাশে ছিলেন। স্পষ্ট মনে হয়েছিল, আমার 'কমরেড' ডাকে তাঁর প্রায় বুজে থাকা চোখ দু'টি কেমন যেন পিট-পিট করে উঠেছিল। ডাক্তার সাহেব বলেছিলেন...