শনিবার, ডিসেম্বর ৫

পুঁজিবাদী শোষণ ও দুর্বৃত্তায়িত বুর্জোয়া রাজনীতি রুখে দাঁড়ান : বজলুর রশীদ ফিরোজ

এখানে শেয়ার বোতাম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :: পুঁজিবাদী শোষণ, সাম্রাজ্যবাদী লুণ্ঠন, অধপতিত ও দুর্বৃত্তায়িত বুর্জোয়া রাজনীতি রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ। তিনি আজ চট্টগ্রাম বাসদের সমাবেশে এই কথা বলেন।

মহান রুশ বিপ্লবের ১০২ তম বার্ষিকী ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল -বাসদ এর ৩৯ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন রেলস্টেশন চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সমন্বয়ক কমরেড আল কাদেরী জয়ের সভাপতিত্ব এবং রায়হান উদ্দিনের পরিচালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ। সমাবেশে আর বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা শাখার সদস্য কমরেড স.ম.ইউনুচ, কমরেড মহিন উদ্দিন, কমরেড নুরুল হুদা নিপু।

সমাবেশে কমরডে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যে কোনো সচেতন মানুষ আতঙ্কিত না হয়ে পারে না। এক দিকে আকাশ ছোঁয়া উন্নয়ন অন্যদিকে বৈষম্যের পাহাড়। মানুষের দুর্দশার শেষ নেই। এত খাদ্য, আধুনিক গাড়ি, বিলাসবহুল বাড়ি আছে কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে সুখ – স্বাচ্ছন্দ্য আসছে না কেনো? মুনাফার জন্য খাদ্যে ভেজাল, শ্রমিকেকে মজুরি থেকে বঞ্চিত করা, কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম না দেয়া, মাদকের ব্যবসা, ক্যাসিনো জুয়ার আসর বসানো, যুবকদের সন্ত্রাসী খুনী বানানো, নারী – শিশু, খুন – ধর্ষণ – পাচার সবই বাড়ছে। কথিত উন্নয়নের সোরগোল সবই ঢাকা পড়ে আছে। সারা দুনিয়ার শ্রমিক শ্রণির মহান নেতা মার্কস – এঙ্গেলস ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন যে, পুঁজিবাদ সব কিছুকে পণ্য বানায়, মানুষকে পুঁজির অধীন করে ফেলে। তার নিষ্ঠুর চেহারা বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশে আমরা দেখছি। বিশ্বের ৩৬৫ কোটি মানুষের সম্পদের সমপরিমাণ সম্পদ ৮ জন ধনীর হাতে কুক্ষিগত। বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ৫ হাজার কোটিপতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছর এরা গড়ে ৭৩ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে, সুইস ব্যাংকে টাকা, আমেরিকা,কানাডা,অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় বাড়ি তৈরি করছে। সংসদ কোটিপতিদের ক্লাবে পরিণত হয়েছে। মুখে দেশপ্রেম আর ধর্মের বুলি আউড়ে এরা লুণ্ঠন করছে দেশের সম্পদ, শোষণ করছে সাধারণ মানুষকে। পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তা শ্রমিকের দেশে পরিণত করেছে এরা বাংলাদেশকে। আর এই শোষিত শ্রমিকের শ্রমেই পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস রপ্তানির দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। শিক্ষা ও চিকিৎসাকে ব্যয়বহুল করে সেবা – কে শোষণের খাতে পরিণত করেছে। কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম পায় না, ধান, পাট, সবজির উৎপাদন খাচ তুলতে পারে না অথচ খাদ্য বাণিজ্য লাখ লাখ কোটি টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে। বড় বড় প্রকল্পের প্রতিটি খাতেই উন্নয়নের নামে সীমাহীন দুর্নীতি চলছে। বালিশ, পর্দা, বই, ঢেউটিন এর দাম অস্বাভাবিক দেখানো হচ্ছে।

কমরেড ফিরোজ বলেন , একটি ঘটনা আগেরটা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।প্রতিদিন গড়ে ১১ জন নারী ধর্ষিতা হচ্ছে, ২ বছর বয়স থেকে ৬০ বছরের বৃদ্ধা যাই হোক না কেনো।দেশে ৮০ লাখ মাদকাসক্ত যাদের ৯০ ভাগই তরুণ – যুবক। এদের হাতে নারীর সম্ভ্রম, শিশুর নিরাপত্তা, বৃদ্ধের মর্যাদা সবই ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। পুলিশ আমলা প্রশাসন ও বিচার বিভাগ চরম দুর্নীতিগ্রস্ত ও দলীয়করণের কবলে। সাংবিধানিক সকল প্রতিষ্ঠান ভঙ্গুর – অকার্যকর।দেশে চলছে এক কর্তৃত্ববাদী শাডন। রাজনীতিতে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আইনের বেড়াজালে ও শাসকের রক্তচক্ষুরর আড়ালে হারিয় গেছে গণতান্ত্রিক সহিষ্ণুতা। প্রতিপক্ষকে নির্মূল করা, যুক্তি ও সমালোচনাকে স্তব্ধ করা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হয়ে দাঁঁড়িয়েছে। ভারতের সাথে বন্ধুত্বের নামে স্বেচ্ছা বন্দিত্ব বরণ করার প্রবণতা বাড়ছে। তিস্তারর পানি আনতে না পারলেও ফেনী নদীর পানি দিতে কার্পণ্য করেনি।তিন দিকে কাটাতারের বপড়া দিয়ে, একদিকে সমুদ্র উপকূলে রাডার বসিয়ে কড়া নজরদারিতে বন্ধুত্বের জয়গান গাওয়া হচ্ছে।ভারতের ও চীনের বাজারে পরিণত করা হয়েছে দেশটাকে। পেয়াঁজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। সরকার মুখে নানা কথা বললেও সিন্ডিকেট করে যারা হাজার হাজর কোটি টাকা জনগণ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। রাতের আধাঁরে পুলিশ – আমলা প্রশাসনের কারসাজিতে ভোট ডাকাতির নির্বাচন করে ক্ষমতাসীন সরকারের জনগণের প্রতি কোনো দায় বোধ নাই।

১৯৮০ সালে ৭ নভেম্বর বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক দল – বাসদ প্রতিষ্ঠার পর থেকে শোষণমূলক ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা আমাদের লড়াই অব্যাহত রেখেছি। মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন প্রতিরোধ, অপসংস্কৃতি অশ্লীলতার বিরুদ্ধে লড়াই, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, কৃষকের পণ্যের ন্যায্য দাম প্রাপ্তি, মৌলবাদ,সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে আমরা আমাদের সংগ্রাম পরিচালনা করছি। আমাদের মিলিত সংগ্রামের আঘাতে শোষণের অবসান ঘটাবোই।সমাবেশ একটি লাল পতাকা মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউ মার্কেট দলীয় গিয়ে কার্যালয়ে শেষ হয়।


এখানে শেয়ার বোতাম