"> সুনামগঞ্জের ডিসির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, বীরাঙ্গনা ও শহীদ পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিজয় দিবসের উপহার
 

সুনামগঞ্জের ডিসির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, বীরাঙ্গনা ও শহীদ পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিজয় দিবসের উপহার

Pronob paul 6:32 pm সারা দেশ,
Home  »  সারা দেশ   »   সুনামগঞ্জের ডিসির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, বীরাঙ্গনা ও শহীদ পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিজয় দিবসের উপহার

অধিকার ডেস্ক :: একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখায় বীর প্রতীক, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, শহীদ জননী, বীরাঙ্গনা ও শহীদ পরিবারের স্বজনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিজয় দিবসের ফুলেল শুভেচ্ছাসহ উপহার দিলেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

দেশ স্বাধীনের পর এই প্রথমবারের মতো ডিসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকা বীর প্রতীক, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, শহীদ জননী, বীরাঙ্গনা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা উপহার পেয়ে জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসন ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শনিবার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা বিজয় দিবসের উপহার পৌঁছে দেন।

এ দিকে দিনভর ডিসির এমন ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসন ও সরকারের ভুয়সী প্রশংসায় মেতে উঠেন।

শনিবার সকালেই একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে সুনামগঞ্জ শহরে সম্মুখ সমরে সুনামগঞ্জের প্রথম শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের স্ত্রী রহিমা বেগমকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে তার বাড়িতে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছাসহ বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন ডিসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ।

এ সময় পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসমিন নাহার রুমা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

এরপর জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকরা দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের রফিনগর গ্রামের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম (নুরু)-এর মা শহীদ জননী বার্ধক্যজনিত কারণে শয্যাশায়ী ১১৫ বছর বয়সী মোছাম্মৎ ফুলজান বিবিকে ফুলেল শুভেচ্ছাসহ বিজয় দিবসের উপহারসামগ্রী তুলে দিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন।

প্রসঙ্গত, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ নুরুল ইসলাম (নুরু) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৪নং সেক্টরের সাব-সেক্টরে বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ করে দিরাইয়ের কুলঞ্জে পাকবাহিনীর সঙ্গে ভয়াবহ সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষ্মণশ্রী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে বীর প্রতীক শহীদ আবদুল নুরের মেয়ে মোছা. হোসনে আরা বেগমকে মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের বাদে আবদুল্লাহপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছাসহ বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা উপহার পৌঁছে দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হারুন অর রশীদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা।

শাল্লা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের মৃত মামুদ আলীর মেয়ে বীরাঙ্গনা মোছা. জমিলা, আপ্তর আলীর মেয়ে মোছা. পেয়ারা বেগম, সুনাফর মিয়ার মেয়ে মোছা. মুক্তাবানু, পেরুয়া গ্রামের মৃত বাতের আলীর মেয়ে কুলছুম বিবি, দিরাই উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের মৃত আজিম উল্লাহর মেয়ে আলিফ জান বিবি, পেরুয়া গ্রামের ব্রজেন্দ্র দাসের স্ত্রী, প্রমিলা দাসসহ তাদের প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছাসহ বিজয় দিবসের উপহার তুলে দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমান।

বীর বিক্রম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি দাসের (২৬ এপ্রিল ১৯৪৯-১৬ নভেম্বর ১৯৭১) বড় বোন ফুলু রানী রায়কে দিরাই উপজেলা টুক দিরাই গ্রামে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছাসহ বিজয় দিবসের উপহার তুলে দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীরসহ অন্যরা।

এ ছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ ইদ্রীছ আলীর (বীর প্রতীক) বাসভবনে শুক্রবার সন্ধ্যায় গিয়ে সাক্ষাৎ করে ফুলেল শুভেচ্ছাসহ বিজয় দিবসের উপহারসামগ্রী তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ।