"> বুয়েটে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট কাজকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান করায় ছাত্রফ্রন্টের নিন্দা
 

বুয়েটে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট কাজকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান করায় ছাত্রফ্রন্টের নিন্দা

Pronob paul 11:38 am সংগঠন সংবাদ,
Home  »  জাতীয়সংগঠন সংবাদ   »   বুয়েটে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট কাজকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান করায় ছাত্রফ্রন্টের নিন্দা

অধিকার ডেস্ক :: গত ২ ডিসেম্বর, ২০১৯ রবিবার বুয়েট প্রশাসন একটি বিবৃতি দিয়ে ন্যাক্কারজনক ভাবে “রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকা” কে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান করে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় সরাসরি বা পরোক্ষ ভাবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, রাজনৈতিক পদবী ধারণ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা (মিছিল, মিটিং, সভা, সমাবেশ, পোস্টারিং ও লিফলেট বিতরণ) অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। শিক্ষার্থীদের আবেগকে ব্যবহার করে প্রচন্ড চতুরতার সাথে এই ধরণের অগণতান্ত্রিক এবং ন্যাক্কারজনক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটি।

সভাপতি আল কাদেরী জয় ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, “সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং প্রত্যেক মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। বুয়েট শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে, সেই আন্দোলনও চলছে সভা সমাবেশ করেই। তাই প্রকারান্তরে এই ধরণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা মানে প্রতিবাদের সমস্ত অধিকারকেই গলা টিপে হত্যা করা। পরিচর্যা ছাড়া ও নিয়মিত কর্মকাণ্ড ছাড়া অবহেলায় ফেলে রাখলে একটি উর্বর ভূমিতেও যেমন আগাছা জন্মে, তেমনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিহীন পরিবেশে জন্মে সন্ত্রাসী অপরাজনীতির। বহুদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড না থাকার ফলেই বুয়েটে আজ সন্ত্রাসী অপরাজনীতি দেশের অন্য সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতই রাজত্ব করছে। এই ত্রাসের রাজত্বের কারণই যখন রাজনীতি বিমুখতা, তখন সেই রাজনীতি বিমুখতা দিয়েই সেটার সমাধান চিন্তা করা কতটুকু যৌক্তিক তা আমরা বুয়েটের শিক্ষার্থীদের প্রতি ভেবে দেখবার আহ্বান জানাতে চাই। এ ছাড়াও এই বিজ্ঞপ্তিতে রাজনীতির কোন সুস্পষ্ট সংজ্ঞায়ন নেই, ফলে এই অস্পষ্ট সংজ্ঞা দিয়ে যেকোন ধরণের বিরোধী মতকেই রাজনীতি ট্যাগ দিয়ে দমিয়ে দেওয়া এবং প্রশাসনিক স্বৈরাচারীতা আরো প্রশস্ত করা হবে।

আবরার একটি দেশের পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে প্রতিবাদ করেছিল। সেটিও রাজনীতি বহির্ভূত কোন কাজ নয়। সেই প্রতিবাদ সহ্য করার মত ন্যূনতম ক্ষমতাও যাদের নেই, তারা তাকে এর জন্য হত্যা করলো। তাহলে কি আমরা ধরে নেব যে কথা বলার কারণেই অবরারকে খুন করা হয়েছিল এবং কথা বলা বন্ধ করে দিলেই আর কেউ খুন হবে না? নাকি আমরা আরো বেশি করে কথা বলবো? অপরাজনীতির বিপরীতে চুপ করে না থেকে আরো বেশি করে শুভ রাজনীতির ধারাকে শক্তিশালী করবো? আজ সময় এসেছে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার।”

বিবৃতিতে অবিলম্বে বুয়েটে এই অগণতান্ত্রিক প্রজ্ঞাপন বাতিল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নির্মাণের জন্য শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানানো হয়।