"> বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারার প্রতিবাদে জয়পুরহাটে বাসদের মিছিল
 

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারার প্রতিবাদে জয়পুরহাটে বাসদের মিছিল

Pronob paul 4:16 pm সারা দেশ,
Home  »  সংগঠন সংবাদসারা দেশ   »   বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারার প্রতিবাদে জয়পুরহাটে বাসদের মিছিল

জয়পুরহাট প্রতিনিধি :: বিদ্যুৎ এর দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ জয়পুরহাট জেলা শাখার উদ্যোগে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আজ রবিবার (১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩.৩০টায় জয়পুরহাটের পাঁচুড়মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাসদ জেলা শাখার সদস্য সচিব কমরেড সামিউল ইসলাম বাবু’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রাশেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদুল ইসলাম মোরশেদ, দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম প্রমূখ।

আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বাসদের সদস্য উৎপল দেবনাথ,আহবায়ক কমরেড অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ।

বক্তারা বলেন বিদ্যুৎ ছাড়া মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্র সম্পূর্ণরূপে অচল। তাই বলে বছর ঘুরতে না ঘুরতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে- এটা অত্যন্ত অযৌক্তিক। নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিসহ অন্যান্য খরচ মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের, সেখানে আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। বর্তমানে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের পাইকারি দাম ৪.৯০ টাকা। নতুন করে আরও ৮৭ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। এই দাম বৃদ্ধির চাপ ভোক্তার উপরও পড়বে। যেখানে সরকারি নির্দেশে কোম্পানিগুলো ৭২ পয়সা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। সেখানে ইউনিট প্রতি উন্নয়ন তহবিলের ২৬ পয়সা, ভর্তুকির সুদের হার ২২ পয়সা সহ অন্যান্য চাপিয়ে দেওয়া খরচ বাদ দেওয়া হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম কমানো সম্ভব।

এছাড়া বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ৪ টাকা ৯০ পয়সা, উৎপাদন ব্যয় ৩.৩৮ টাকা। অথাৎ প্রতি ইউনিটে গড় মুনাফা থাকে ১.৩২ টাকা। এইভাবে সরকার বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৬৬৬০ কোটি টাকা বছরে মুনাফা করছে। সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে গ্রাহকের কাঁধে দায়ভার চাপিয়ে দিলে তা হবে অত্যন্ত পরিতাপের। দাম বাড়িয়ে এ খাতের কোনো স্থায়ী সুফল আসতে পারে না। বরং দাম না বাড়িয়ে, উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দেয়া দরকার। অপরদিকে এখাতের দুর্নীতির মূলোৎপাটনেও কঠোর হওয়া আবশ্যক। শিল্প খাতেও পড়বে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব। শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে বাড়বে দ্রব্যমূল্যও। এর মাশুলও দিতে হবে সাধারণ ভোক্তাদের। এমনিতেই মূল্যস্ফীতি অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের আকার স্ফীত থেকে স্ফীততর হচ্ছে। এর ফলে নির্দিষ্ট আয় ও পেশার মানুষের কষ্ট ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে।

এরপর আবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যয়ভার স্ফীত করার মাধ্যমে দুর্ভোগের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। গত তিন বছরে বাংলাদেশে অতি সামান্য নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। সব ধরনের পণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যের সাথে সঙ্গতি রেখে সাধারণ মানুষের আয় একটুও বাড়েনি। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তার প্রভাব পড়বে সর্বত্র। বিদ্যুতের দাম এভাবে বৃদ্ধি হতে থাকলে মানুষের জীবনমানের উন্নতি না হয়েই খরচ বৃদ্ধি পাবে। নিজের দেশের উন্নয়নকে এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে সরকার লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে।