"> মেলান্দহে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌচাষিরা
 

মেলান্দহে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌচাষিরা

Pronob paul 3:46 pm সারা দেশ,
Home  »  সারা দেশ   »   মেলান্দহে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌচাষিরা

রকিব হাসান নয়ন , জামালপুর :: মৌমাছি মৌমাছি কোথা যাও নাচি নাচি,দাঁড়াও না একবার ভাই/ওই ফুল ফোটে বনে যাই মধু আহরণে,দাঁড়াবার সময় তো নাই-ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি দেখে ছোটবেলার ওই ছড়াটি মনে পড়ে গেল।বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে হলুদের সমারোহ। ফুটেছে সরিষার ফুল। তাই মৌমাছিদের যেন কোন ফুরসত নেই। মহা ব্যস্ত এখন তারা মধু আহরণে। ভোঁ ভোঁ শব্দ তুলে দলে দলে তারা ছুটে যাচ্ছে দুর বহু দুর। উড়ে উড়ে ফুল থেকে মধু চুষে নিয়ে আবার আসছে ফিরে।সংগৃহীত ওই মধু তারা সঞ্চয় করছে মৌচাকে।

তবে কোন প্রাকৃতিক মৌচাকে নয়।তারা শুধু মধু ঢালছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বাক্সবন্দী মৌচাকে।৭-১০ দিন পর পর সেখানে আহরণ করা হচ্ছে ৫০-১০০ কেজি মানসম্মত মধু।সেই সাথে ফুলে ফুলে মৌমাছির বিচরণের মধ্যদিয়ে পরাগায়ন হয়ে ১৫-২৫ ভাগ বৃদ্ধি পাচ্ছে সরিষার ফুলন।অপরদিকে এ দৃশ্য স্থানীয় চাষিদের মৌ চাষের প্রতি করছে উদ্বুদ্ধ।জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নে ৬শ ৭০ হেক্টর জমি জুড়ে এখন বিস্তীর্ণ সরিষার ফুল।এর মাঝেই টাঙ্গাইল থেকে ছুটে এসেছে এক ঝাঁক মৌচাষিরা।উদ্দেশ্য মানসম্মত মধু সংগ্রহ, পরাগায়নের মাধ্যমে সরিষার ফলন বৃদ্ধি করা ও স্থানীয়দের মৌচাষের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে তোলা।

টাঙ্গাইলের ‘মাটির পুতুল মৌ খামার’ মালিক আলী আহমেদ গতকাল এসেছেন ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের ছবিলাপুর গ্রামে। সেখানে বসে কথা হয় আলী আহমেদের সাথে।তিনি
জানান,বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাক্সের ভেতর রাণী মৌমাছি রেখে মৌ চাষ করা হয়।সরিষা খেতের পাশে বসানো ৭০টি বাক্স।প্রতিটি বাক্সের ভেতর একটি করে রাণী মৌমাছি আর ৫ থেকে ১০টি ফ্রেম।এ ফ্রেমগুলোই হচ্ছে মৌচাক।ঘরে বসে থাকা রাণী মৌমাছির খাবার(মধু) যোগাতে ঝাঁকে ঝাঁকে কর্মী মৌমাছি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে এনে জমা করে মৌচাকে।

পশ্চিম ঘোষেরপাড়ায় কথা হয় শেরপুরের ‘আধুনিক মৌ খামার’ মালিক আবদুল মান্নানের সাথে।তিনি জানান,এখানে ‘এফিস মেলিফেরা’জাতের মৌমাছি এনেছি।এরা সাধারণত ২-৩ কিলোমিটার দূর থেকেও মধু সংগ্রহ করতে পারে।১০-১২দিন পর পর বিশেষ পদ্ধতিতে এসব চাক থেকে মধু বের করা হয়।মাঠে বসেই এ মধু বিক্রি হচ্ছে ২-৩ শ টাকা কেজি দরে।আর বাদবাকিটুকু শেরপুর নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হবে।

বগুড়া থেকে আসা ‘মধু খামার’ কর্মকর্তা সাহেদ আলী জানান,এ থেকে শুধু মধু না,প্রচুর পরিমাণ মোম ও আঠাও আহরণ করা যায়।এগুলো রফতানি করে লাখ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।আপনাদের গ্রামে এসেছি।কেউ যদি মধু,মোম ও আঠা সংগ্রহের পদ্ধতি জানতে বা শিখতে চায়,আমরা শেখাবো।