"> বিদ্যুতের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি’র অপচেষ্টার রুখে দাঁড়ান : বাসদ
 

বিদ্যুতের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি’র অপচেষ্টার রুখে দাঁড়ান : বাসদ

Pronob paul 1:43 pm রাজনীতি,
Home  »  জাতীয়জাতীয়রাজনীতি   »   বিদ্যুতের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি’র অপচেষ্টার রুখে দাঁড়ান : বাসদ

অধিকার ডেস্ক :: বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির অপচেষ্টা রুখে দাঁড়াতে এবং ঢাকাসহ সারাদেশে বাসদ-সিপিবি’র সমাবেশ ও সিপিবি’র বর্ষীয়ান নেতা মঞ্জুরুল আহসান খানসহ বাম নেতা-কর্মীদের উপর হামলাকারী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ।

রোববার (১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই বিক্ষোভ-সমাবেশ করে বাসদ ঢাকা মহানগর শাখা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসদ ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর শাখার সদস্য সচিব জুলফিকার আলী, সদস্য খালেকুজ্জামান লিপন ও আহসান হাবিব বুলবুল।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য নিয়ে বিইআরসি’র গণশুনানি গণতামাশায় পরিণত হয়েছে। গণশুনানীতে পিডিবি লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে বিদ্যুতের দাম ২৩.২৭% বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। ঐ গণশুনানীতে অংশগ্রহণকারী নাগরিকবৃন্দ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বর্তমান সরকারের এই অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট, দুঃশাসন ও মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে বাসদসহ বাম পন্থীরা সারাদেশে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সংগঠিত করছে। জনগণের প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে দমন করতে জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, বরগুনা, কুমিল্লা, ঢাকার সূত্রাপুর, শান্তিনগরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পেটুয়া পুলিশ বাহিনী হামলা পরিচালনা করেছে। হামলাকারীরা ইতিমধ্যে জামালপুরে সিপিবি’র বর্ষীয়ান নেতা মঞ্জুরুল আহসান খানসহ অসংখ্য নেতা-কর্মীকে আহত করেছে। পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন অঞ্চলে বাসদ-সিপিবিসহ বামপন্থীদের সভা-সমাবেশে বাধা প্রদান ও হামলা করেছে।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মঞ্জুরুল আহসান খানসহ কিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মীদের উপর হামলাকারী আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশের শাস্তি দাবি করেন এবং বর্তমান সরকারের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন-লুটপাটের বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সাথে বিদ্যুতের অযৌক্তিক মুল্যবৃদ্ধির অপচেষ্টা বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান ও মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী যে কোন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে দায়মুক্তি আইন বাতিলেরও দাবি জানান।

উল্লেখ্য, বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিলে ১৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। কিন্তু মুষ্টিমেয় বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের মুনাফার স্বার্থে উৎপাদন না করেও বসিয়ে বসিয়ে রেন্টাল, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে তাদের ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে টাকা দিচ্ছে। এ মুনাফা-লুটপাটের অর্থ যোগান দিতেই বারে বারে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে।

সরকারের এ ধরনের অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোন আইনের আশ্রয়ও যাতে নেয়া না যায় সেজন্য দায়মুক্তি আইন করা হয়েছে। গত ১০ বছরে ৮ বার লোকসানের অজুহাতে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে কিন্তু লোকসান কমেনি। বিদ্যুৎ বা জ্বালানি খাতে লোকসানের মূল কারণ পিডিবির সিস্টেম লস ও সরকারের দুর্নীতি ও ভুলনীতি। কিন্তু সরকার তা দূর করতে কোন উদ্যোগ না নিয়ে ক্রমাগত দাম বৃদ্ধি করে জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়ে চলছে। ইতিমধ্যে পেঁয়াজ, চাল, সয়াবিন তেল, আদা, রসুনসহ নিত্য পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণ যখন দিশেহারা ঠিক তখন সরকারের বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির অপচেষ্টা জনগণকে আরো দুর্ভোগে ফেলবে।