"> বিজেপির রাজনৈতিক সাফল্যের রহস্য কি?
 

বিজেপির রাজনৈতিক সাফল্যের রহস্য কি?

Pronob paul 4:26 pm মতামত,
Home  »  আন্তর্জাতিকমতামত   »   বিজেপির রাজনৈতিক সাফল্যের রহস্য কি?

মুজাহিদ অনিক ::

অযোধ্যার রামমন্দির ইস্যুতে লালকৃষ্ণ আদভানি,উমা ভারতী,মুরলি মনোহর যোশীরা যেদিন রথযাত্রা করেছিল ভারতজুরে সেদিনের বিজেপি কোনদিন ভাবতেও পারে নি যে ভারতের বৃহৎ ফেডারেল রাষ্ট্রে তারা এতটা আধিপত্য বিস্তার করবে। কংগ্রেসের একাধিপত্বে যেখানে সারা ভারতে দশকের পর দশক চলে গেলেও আঞ্চলিক দল বলা যাক কিংবা সিপিএমের মতো জাতীয় দল বলা যাক কেউই সেরকম সুবিধা করে উঠতে পারে নি সেখানে বিজেপিই কংগ্রেসের ‘প্যান ইন্ডিয়ান’ আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করেছে। শুধু চ্যালেঞ্জ করেই ক্ষ্যান্ত হন নি নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের নেতৃত্বে বিজেপি এখন আকাশ্চুম্বী সাফল্যের শীর্ষচূড়ায়। বিজেপির দাপটে ভারতের অন্য শক্তিগুলো এখন কাছাকাছি আসতে বাধ্য হচ্ছে। সদ্য শেষ হওয়া লোকসভা নির্বাচনের আগে আগে ভারতের সকল বিরোধী নেতারা একজোট হয়ে না লড়লেও কেউই বিজেপি বিরোধীতার প্রশ্নে একচুল ছাড় দেয় নেই। চন্দ্রবাবু নাইডু, মমতা ব্যানার্জি, লালু প্রসাদের পুত্র তেজস্বী যাদব, সিতারাম ইয়েচুরি, শারদ পাওয়ার, এইচডি কুমারস্বামী, জিঘমেশ মেবানি অর্থ্যাৎ হেন কোন রাজনৈতিক বিরোধী নেই যারা বিজেপির বিরোধীতাই সরব হয় নি। বিজেপি শাসনামলে গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থাকে তশনছ করা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নিয়ন্ত্রন করা, সিবিআইকে ব্যাবহার করা আর রাফায়েল যুদ্ধবিমান ক্রয়ে স্পর্শকাতর দুর্নীতির অভিযোগে বিরোধীরা ছিল সোচ্চার। রাহুল গান্ধী থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু দুর্নীতি বিরুদ্ধে মাঠ গরম করেছেন তা নয় কৃষকের ফসলের দাম, আত্নহত্যা, এনআরসি- সকল ইস্যুতেই বিধেছেন নরেন্দ্র মোদ-অমিত শাহদের। কিন্তু কাজের কাজ কিচ্ছু হয় নি। সকল বিরোধীনেতাদের আক্রমণকে থোরাই কেয়ার করে বিজেপির বিজয়রথ যেন আরো গতিশীল হয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটি হচ্ছে কিভাবে ভারতজুড়ে বিজেপি এমন সাফল্য পাচ্ছে? দেখা যাক, কেমন করে চলছে বিজয়রথ।

এক্ষেত্রে বলা আবশ্যক ভারতজুড়ে বিজেপির জয়রথ যে সহসাই থামছে না সে কথাও স্পষ্ট । সর্বেশেষ লোকসভা নির্বাচনে তিন শতাধিক আসনে লোকসভায় দখল নিয়ে পূর্বের থেকেও প্রবল শক্তিমত্তা নিয়ে হাজির হয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ শরিকদের উপর নির্ভরশীলতা ছাড়াই বিজেপি তার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ক্ষমতা দখলে রেখেছে যা এনডিএ-১ যামানায় যৎসামান্য হলেও নির্ভরশীলতা ছিল শরিকদের উপরে চলতি লোকসভায় বিজেপি আর কাউকেই তোয়াক্কাই করে না বা করবে না। সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যেটি লক্ষ্য করা গেছে, বাংলাদেশের পাশের প্রতিবেশী সমভাবাপন্ন ও সমভাষী পশ্চিমবাংলায় ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। সংখ্যাটিও তাক লাগানো- ১৮ টি লোকসভা আসনে বিজেপি জয়লাভ করেছে। এক সময়ের বামশাসিত পশ্চিমবাংলাকে বলা হতো ধর্মনিরপেক্ষতার আঁতুড়ঘর সেই বাংলায় বিজেপির এহেনও সাফল্য। বর্তমান শাসক তৃণমূলের লোকসভা আসন প্রায় অর্ধেক নামিয়ে এনে, সিপিএমকে আসনশূন্য করে, কংগ্রেসের ঝুলিতে দুটি আসন দিয়ে এতোগুলো আসন বিজেপি করায়ত্ত করেছে। উল্লেখ্য যে, বহরমপুর থেকেই জিতে আসা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে কংগ্রেস তাদের লোকসভার বিরোধীনেতা নির্বাচন করেছে।

অন্যদিকে লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে পড়শিরাজ্য ত্রিপুরাতে বামফ্রন্ট শাসিত মানিক সরকারের দুই দশকের অধিক সময় ধরে চলা শাসন হটিয়ে বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসে। আরেক পড়শি অসমে বিজেপি সর্বানন্দ সেনোয়ালের নেতৃত্বে সরকার গড়েছে প্রথমবারের মতো। এ মুহুর্তে মোট ১৩ টি রাজ্যে বিজেপি তার একক শক্তি নিয়ে ক্ষমতায়। বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভাবধারার রাজনীতির মাধ্যমে সারাদেশে তাদের এই বিজয়রথ হাকিয়ে চলেছে এ কথা যেমন সত্য আবার এ কথাও সত্য যেসব রাজ্যে বিজেপি অপেক্ষাকৃত পায়ের তলায় মাটি শক্ত দেখতে পাচ্ছে না সেসব অঞ্চলে বিজেপি অন্য কৌশলে মন দিচ্ছে। বিজেপির সাফল্যের পেছনে বিদ্যমান আরএসএস,বিশ্ব হিন্দু পরিষদসহ উগ্র হিন্দু গোষ্ঠীসমূহের প্রচার এখানে মূখ্য ভূমিকা নিচ্ছে না। সেভেন সিস্টার্সের রাজ্যগুলোতে রয়েছে অন্য ফর্মুলা। ভারতের রাজনীতিতে ‘হর্স ট্রেডিং’ বা ‘ঘোড়া কেনাবেচা’র কথা শোনা যায়। অভিধাটি দ্বারা বিধায়ক কেনাবেচা করাকে বুঝায়। একদল ভাঙ্গিয়ে অন্যদলের সরকার গড়তে ভাগিয়ে আনা হয়। বিজেপির সৌজন্যে এ যেন অন্য মাত্রা পেয়েছে। পোস্টপোল বা নির্বাচন পরবর্তী বিধায়ক কেনাবেচা যেমন আছে তেমনি পশ্চিমবঙ্গ, আসাম,ত্রিপুরা, উড়িষ্যা,বিহার প্রভৃতি রাজ্যগুলোতে দল বদল করিয়ে এনে শক্তি বৃদ্ধি করে সেসব রাজ্যে বিজেপি একদম নির্ণায়ক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। যেমন- পশ্চিমবঙ্গে সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের জন্য যে বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয় সেটি হচ্ছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মুকুল রায়কে দলে টেনে চমক লাগিয়ে দেয় বিজেপি। তবে অভিযোগ আছে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে চিট ফান্ড কেলেঙ্কারির দায় থেকে মুক্তি দেবার বিনিময়েই বিজেপি তাকে দলে ভিড়িয়েছে। সে যাই হোক বিজেপি দলে টেনে জোর ধাক্কা দিতে পেরেছে তৃণমূলকে- এটাই সত্যি।

লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি তৃণমূল থেকে কুচবিহারের নীশিথ প্রামাণিককে দলে এনে প্রার্থী করে জিতিয়ে এনেছে, ব্যারাকপুরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা অর্জুন সিংকে দলে এনে প্রার্থী করে জিতিয়ে এনেছে। অর্জুন সিং এর ছেড়ে দেয়া বিধানসভায়ও তারই ছেলেকে জিতিয়ে এনেছে বিজেপি। সিপিএমের খগেন মুর্মুকে দলে টেনে মালদা থেকে জিতিয়ে এনেছে বিজেপি। তৃণমুল কংগ্রেসের সাংসদ সৌমিত্র খাঁকে বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে বিজেপি জিতিয়ে এনেছে। দলত্যাগ করে না জিততে পারা একমাত্র এমএলএ অনুপম হাজরা যিনি মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে লড়ে হেরে যান। এছাড়াও যদি হিসেব করা যায় তবে অন্য দল থেকে এসে বিজেপি করছে পশ্চিমবঙ্গে এমন বিজেপি নেতার লিস্ট অনেক লম্বা। কংগ্রেস থেকে এসেছেন জয়প্রকাশ মজুমদার, অভিনেত্রী লকেট চ্যাটার্জী, রূপা গাঙ্গুলী, দেবশ্রী রায় এসেছেন তৃণমূল থেকে, সিপিএম থেকে মাহফুজা খানম- এরকম বহু জেলা, পুরসভা পর্যায়ের নেতা থেকে বিধায়ক- অনেকেই এসেছেন বিজেপির পতাকাতলে। যার কারনে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে কান পাতলে শোনা যায়- আগামী বিধানসভায়ই নাকি বাংলায় পদ্মফুল ফুটবে, বাংলাজুড়ে গেরুয়া বসন্ত নামবে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও সে স্বপ্নেই বিভোর। অসমে কি হয়েছে তা একটি উদাহরন দিলেই বুঝা যাবে। অসমের অর্থমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা যিনি কি না এ অঞ্চলে কংগ্রেসের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা। তাকে বিজেপি দল থেকে ভাগিয়ে এনে বিধানসভা নির্বাচনে তুরুপের তাস বানিয়ে সর্বানন্দ সেনোয়ালের নেতৃত্বে ক্ষমতা দখল করেছে। অসমের মাটিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই একসময়ের অন্য দল করা বাঘা বাঘা নেতা। আরএসএসের মদদপুষ্ট বা সংঘসেবক আর স্ব ও স্ব অঞ্চলের শক্তিশালী নেতাদের সম্মিলনে বিজেপি একটি চমৎকার রসায়ন দাড় করিয়েছে। ত্রিপুরাতেও এই ফর্মুলা কাজ করেছে। একদিকে মূখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সংঘসেবক হিন্দুত্ববাদী পরিচয় অন্যদিকে কংগ্রেসের সাবেক নেতা রতন লাল সেনের মতো দলত্যাগীদের দ্বারা ক্ষমতার জমিন পোক্ত করা। তবে ক্ষমতার লাটাই বিজেপি ঠিকই ঐ বিপ্লব দেবের হাতেই রেখেছে যা কি না আরএসএসের পরামর্শেই। ত্রিপুরাতেও দল ভাঙ্গার খেলা দেখিয়েই চমক তৈরি করেছে বিজেপি। বিজেপি বিহারেও চালাচ্ছে জোট সরকার। সঙ্গী বিহারের জনতা দলের প্রধান সেই নিতীশ কুমার আর তার ডেপুটি বিজেপির সুশীল মোদী। বিজেপি বিহারের এক সময়ের অধিপতি লালু প্রসাদ যাদবকে ল্যাং মেরে ফেলে দিয়েছে সময়ের পরিক্রমায়। পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে জেলেও পুরে দিয়েছে তাকে। মূলত বিজেপির লক্ষ্য হচ্ছে অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী অঞ্চলে আঞ্চলিকভাবে শক্তিশালী দলের সাথে ঐক্য করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা এবং ভবিষ্যতের ভিত শক্ত করা। মেঘালয়ে ২ টি আসন নিয়ে এনপিপির কংরাড সাংমার নেতৃত্বে সেখানে সরকার চালাচ্ছে বিজেপি। বিজেপি সাম্প্রতিক সময়ে কর্ণাটকে, গোয়ায় যে ফর্মুলাতে সরার গড়েছে সেটিও ভারতীয় রাজনীতিতে খুব অচেনা নয় তবে এতটা কদর্য কায়দায় সেটা ঘটেছে কি না সেটাই প্রশ্ন। কর্ণাটকে জেডিইউ, কংগ্রেস আর বিজেপি প্রতিদ্বন্দিতা করে বিজেপির ক্ষমতাসীন ইয়েদুরাপ্পা প্রত্যাশিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে পারেন নি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই কংগ্রেস জেডিইউকে সমর্থন করে যার ফলে কংগ্রেস-জেডিইউ প্রয়োজনীয়তা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তবুও রাজ্যপাল বিজেপিকেই সরকার গড়তে ডাকে এবং ইয়েদুরাপ্পাকে মূখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন। দিন দুয়েকের ব্যবাধানে সে সরকার পড়েও যায়। অবশেষে জেডিইউ আর কংগ্রেস মিলে ক্ষমতায় বসে।

সারাদেশের সকল বিরোধীনেতারা হাজির হয় কর্ণাটকে কিন্তু দেখা গেলো বিজেপি আবারো কিছুদিন পর জেডিইউ থেকে বিধায়ক ভাগিয়ে নিয়ে সরকার ভেঙ্গে দিয়ে সদ্য শপথ নেয়া মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামীকে পদচ্যুত করে নতুন সরকার গড়ে। এখন তিনিই মূখ্যমন্ত্রী। একই ব্যাপার গোয়াতেও ঘটেছে। সর্বশেষ এখন মহারাষ্ট্রে বিগত ২০ দিন ধরে নাটক চলছে। এ লেখাটি লেখা পর্যন্ত বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়নবিশ শারদ পাওয়ারের এনসিপির একাংশের নেতা শারদ পাওয়ারের ভাতিজা অজিত পাওয়ারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন। আবার শোনা গেলো, নাহ এ সরকার টিকবে না। কংগ্রেস-শিবসেনা-এনসিপি তাদের বিধায়কদের মাধ্যমেই যৌথ সরকার গড়বে। দেখা যাক, কি ঘটে আগামীতে। ইতিমধ্যে সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে। সেভেন সিস্টার্সের অন্য রাজ্যগুলোতেও বিজেপি তার শক্তিমত্তাও জানান দিচ্ছে। মিজো ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের সাথে জোট করে সেখানে সরকার চালাচ্ছে মাত্র একটি আসনের উপরে ভর করে। অরুনাচলে তো ক্ষমতায়ই বসেছে এবার বিজেপি। মেঘালয়ে পেমা খান্ডুর নেতৃত্বে সরকারেও বিজেপি জোটসঙ্গী। নাগাল্যান্ডে এনডিপিপির নাইফিও রিও’র নেতৃত্বে বিজেপি ১২ টি আসন নিয়ে সরকারের অংশীদার হয়ে ক্ষমতায় এসেছে বেশ হাকডাক দিয়েই। এসব রাজ্যগুলোতে বিজেপি যে কৌশল কাজে লাগাচ্ছে তা হল কেন্দ্রীয় সংস্থা দিয়ে আঞ্চলিক নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রেয়াত করা, কোন কোন ক্ষেত্রে দুর্নীতির ভয় দেখানো বা হয়রানি করা থেকে রেহাই দেয়ার মাধ্যমে বিজেপি এদেরকে কাছে টানছে। আবার কেন্দ্রীয় সুবিধার লোভ দেখ্যেও তাদের কাছে টানার চেষ্টা করছে।

বিজেপি তার ক্ষমতার জন্য বা তার আদর্শিক হিন্দুত্ববাদী ঝান্ডার জন্য আদর্শবাদী রাজনীতির প্রচার চালায়। তাদের রণনীতি বা কৌশলের পুরোভাগেই আরএসএসের সংঘসেবকরা রয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব কিংবা পর্যবেক্ষক যাই আছে বিজেপির নেতৃত্বে তারা প্রত্যেকেই হিন্দুত্ববাদ, ভারতীয় জ্যাত্যাভিমানের পাঠ নেয়া মানুষ। তারাই তাদের জন্য শেষকথা। কিন্তু সারা ভারতে আজকের দিনে যে রাজনীতি চলছে তার নিরিখে বলতে গেলে বিজেপি তার আদর্শের প্রচারকে উদ্দেশ্যে করে ক্ষমতার জন্যে হেন কোন রাজনৈতিক অপকৌশল নেই যা প্রয়োগ করছে না। ভারতের হিন্দু জনগোষ্ঠীকে পুরাণের ইতিহাসকে বাস্তববোধের বয়ান দিচ্ছে, সাধু-সন্তুদের রাজনীতির মাঠে এনে পুরো রাজনীতিকেই ধর্মাশ্রয়ী বাতাবরনে আবদ্ধ করে ফেলেছে। রাজনীতির নিয়ন্ত্রক বনে গেছে তারাই। উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথই শুধু হিন্দুত্ববাদের বিজ্ঞাপন নয় বরং হিন্ধুত্ববাদের গেরুয়াধারী-তিলকধারীরা অনেক অঞ্চলেই নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ। বিজেপি রাজ্যগুলোতে তাদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি হিসাবে বা পর্যবেক্ষক হিসাবে যাদের নিয়োগ করে তারা আরএসএসের এজেন্ডাকে বিজেপির রক্তনালীতে প্রবাহিত করার দায়িত্ব নিয়েই আসেন। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, যার সক্রিয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা নেই বরং একজন আপাপদমস্তক সংঘসেবক। ত্রিপুরায় বিশাল জয়ের নেপথ্য কারিগর সুনীল দেউধর, পশ্চিমবঙ্গে কৈলাস বিজয়বর্গী, দিল্লীতে অরবিন্দ মেনন অর্থ্যাৎ বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেপথ্যনেতারা হিন্দুত্ববাদের ফেরিওয়ালা আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে- আরএসএসের বার্তাবাহক।
সব মিলিয়ে ধর্মাশ্রয়ী জাতীয়তাবাদ, হর্স ট্রেডিং, দল ভাঙ্গিয়ে নিজেদের শক্তি বাড়ানো, কেন্দ্রীয় সরকারের সুবিধে পাইয়ে দিয়ে খুব মাইনর শক্তির রাজ্যে জোট সরকার- এসবের সমষ্টি ভারতে বিজেপির একাধিপত্যের মূল রসায়ন। বিজেপির ভোটের রাজনীতি এখন অক্সিজেনে টইটুম্বুর।

লেখক : সাংবাদিক, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন