"> বান্দরকে লাই দিলে গাছের মাথায় ওঠে, রাঙ্গা সম্পর্কে সংসদে ফিরোজ রশীদ
 

বান্দরকে লাই দিলে গাছের মাথায় ওঠে, রাঙ্গা সম্পর্কে সংসদে ফিরোজ রশীদ

Pronob paul 3:18 pm রাজনীতি,
Home  »  জাতীয়জাতীয়রাজনীতি   »   বান্দরকে লাই দিলে গাছের মাথায় ওঠে, রাঙ্গা সম্পর্কে সংসদে ফিরোজ রশীদ

অধিকার ডেস্ক :: স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে ‘ইয়াবাখোর’ বলায় জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার সমালোচনা করেছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। তিনি বলেছেন, ‘একটা কথা আছে, বান্দরকে লাই দিলে গাছের মাথায় ওঠে। এই লাই আমরা দেইনি। এই সংসদ তাকে লাই দিয়েছে। কী ধরনের ব্যক্তিত্ব; যার অতীত নেই-বর্তমান নেই। কিছুই ছিল না। হঠাৎ তাকে মন্ত্রী বানানো হলো। আমরা তো তাজ্জব হয়ে গেলাম।’

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যে কাজী ফিরোজ রশীদ এ কথা বলেন।

মসিউর রহমান রাঙ্গা প্রসঙ্গে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘তিনি বিরোধী দলের চিফ হুইপ। আমি বললাম, তাজুল ইসলাম চৌধুরী (সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ) মারা গেছেন, আমি বক্তব্য রাখবো। তিনি বললেন, আপনারটা আপনি দেখবেন, আমি কেন নাম পাঠাবো? আমার সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বললেন। আমি যতদিন ধরে রাজনীতি করি, তার বয়সও ততদিন হবে না। তিনি কোথায় আন্দোলন করেছেন? কোথায় সংগ্রাম করেছেন? তিনি যুব দলের নেতা ছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে তিনি কথা বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কথা বলার দৃষ্টতা তিনি কোথায় পেলেন? প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কথা বলেছেন। গণতন্ত্রের ছবক দেন। লেখাপড়া জানেন না, আবার কাগজের মালা গলায় দিয়ে পরিবহন শ্রমিক হয়ে হঠাৎ বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়ে গেছেন। দৃষ্টতা দেখান তিনি। আর তার জবাব দিতে হয় আমাদের। আসামিদের কাঠগড়ায় আমাদের দাঁড়াতে হয়। এটা সম্পূর্ণ আমাদের ঘাড়ে এসে পড়েছে। আমরা দুঃখিত।’

মসিউর রহমান রাঙ্গার দেওয়া বক্তব্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘ওই বক্তব্য জাতীয় পার্টির বক্তব্য নয়। এটা কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য হতে পারে না। এটা রাঙ্গার নিজস্ব বক্তব্য হতে পারে। ওই বক্তব্যের জন্য জাতীয় পার্টি লজ্জিত, আমরা দুঃখিত এবং আমরা এর জন্য অপমানিতবোধ করছি। আমরা মনে করি, এটা জাতীয় পার্টির বক্তব্য নয়, জাতীয় পার্টি এই বক্তব্য সমর্থন করে না। নূর হোসেন সম্পর্কে তিনি যেটা বলেছেন তা আমরা গ্রহণ করি না। আমাদের দল এটা গ্রহণ করে না। আমরা ঘৃণাভরে এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি। এটা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, দল এর দায়িত্ব নেবো না।’

নব্বইয়ে নূর হোসেন জীবন দিয়ে গেছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যে যুবক গণতন্ত্রের জন্য তার জীবন দিতে পারেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে সংগ্রাম করতে পারেন, সেই সাহসী যুবকের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমরা কখনোই এই ধরনের দৃষ্টতা দেখাইনি। এ ধরনের কথা উচ্চারণ করিনি। কোনও রাজনৈতিক দলের নেতার বক্তব্য এটা হতে পারে না।’

রাঙ্গাকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘লজ্জা করে না এসব কথা বলতে? আমরা তো আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করেছি। আজকের প্রধানমন্ত্রী সেদিন যদি আমার পরিচয় করিয়ে না দিতেন, আমাকে যদি ভোট না দিতেন, নির্বাচিত হয়ে এই সংসদে আসতে পারতাম না। রাঙ্গা সাহেব! মানুষ এত অকৃতজ্ঞ হয় কীভাবে? পেছনে যদি আওয়ামী লীগ না থাকতো, ওই রংপুর নামতেও পারতেন না। কার কয়টা ভোট আছে তা আমাদের জানা আছে। দেশের মানুষ মনে করেন, যতদিন শেখ হাসিনা আছেন, ততদিন গণতন্ত্র টিকে থাকবে। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে। উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।’