"> রপ্তানীমুখী পিএসসি ২০১৯ বাতিলের দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ
 

রপ্তানীমুখী পিএসসি ২০১৯ বাতিলের দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ

Pronob paul 12:44 pm সিলেট,
Home  »  নগরসংগঠন সংবাদসারা দেশসিলেট   »   রপ্তানীমুখী পিএসসি ২০১৯ বাতিলের দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: রপ্তানীমুখীও গণবিরোধী পিএসসি ২০১৯ বাতিল, সুন্দরবন বিনষ্টকারী রামপাল প্রকল্প বাতিল ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ড বাতিলের দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আজ ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫ টায় সিলেট সিটি পয়েন্ট থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি সিলেট জেলার আহবায়ক ব্যারিষ্টার আরশ আলীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সভাপতি মো: আরিফ মিয়া, বাসদ জেলা সমন্বয়ক আবু জাফর, গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক জুনেদুর রহমান, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা সদস্য হুমায়ুন রশীদ সোয়েব, ওয়ার্কাস পার্টি জেলার সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ইন্দ্রানী সেন সম্পা, সিপিবি জেলা সদস্য নিরঞ্জন দাস খোকন, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা সদস্য সুশান্ত সিনহা সুমন, বাসদ জেলা সদস্য প্রণব জ্যোতি পাল প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তরা সমুদ্রের’ পিএসসি ২০১৯’-কে গণবিরোধী ও রপ্তানীমুখী গ্যাস চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, এই মডেলে পিএসসি-তে আগেরগুলোর তুলনায় বিদেশি কোম্পানির জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে, তাদেরকে গ্যাস রপ্তানির সুযোগ দেয়া হয়েছে, বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে বাংলাদেশকে যে গ্যাস কিনতে হবে তার দাম বাড়িয়ে হাজার ঘনফুট প্রতি ৭.২৫ মার্কিন ডলার করা হয়েছে, ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে, যাতে কার্যত এই গ্যাসের দাম পড়বে হাজার ঘনফুট প্রতি ১০ মার্কিন ডলার।

বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বরাবরই দাবি করেন তিনি দেশে ৫০ বছরের গ্যাস মজুত নিশ্চিত না করে গ্যাস রপ্তানির বিরোধী, তাহলে বারবার গ্যাস রপ্তানির এ ধরনের উদ্যোগ কেন? আমরা ‘খনিজসম্পদ রপ্তানি নিষিদ্ধ আইন’ করবার দাবি জানিয়েছিলাম, সরকারের কাজের সুবিধার জন্য এই আইনের খসড়া তৈরি করে সরকারকে জমা দিয়েছিলাম। তাহলে আমাদের প্রস্তাবিত ‘খনিজসম্পদ রপ্তানি নিষিদ্ধ আইন’ সংসদে পাশ করতে অসুবিধা কী? ৫০ বছরের মজুতের বদলে গ্যাস সংকট বহাল থাকা অবস্থায় কীভাবে গ্যাস রপ্তানি চুক্তি হয়? কীভাবে সরকারের রপ্তানি নীতিতে খনিজসম্পদ রপ্তানিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়?

নেতৃবৃন্দ বলেন, স্থলভাগ ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমরা অনেকদিন থেকেই দাবি জানিয়ে আসছি। সরকার এই পথে কখনও যায়নি, বরং সক্ষমতা বাড়ানোর বদলে যতটুকু সক্ষমতা আছে তা আরও সংকুচিত করা হয়েছে। জাতীয় সংস্থাকে সুযোগ না দিয়ে কয়েকগুণ বেশি খরচে বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেয়া হয়েছে। সমুদ্রের সম্পদ অনুসন্ধানে উদ্যোগ না নিয়ে গ্যাস সংকট জিইয়ে রাখা হয়েছে তারপর তার অজুহাতে কয়েকগুণ বেশি দামে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গ্যাস সংকটের অজুহাতে ব্যাপকভাবে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হচ্ছে, এমনকি দেশের প্রাকৃতিক রক্ষাবাঁধ সুন্দরবন ধ্বংস করতেও সরকারের দ্বিধা নেই, করছে দেশবিনাশী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র; অন্যদিকে এই একই সরকার দেশের নিজস্ব গ্যাস তেল সম্পদ রপ্তানির বিধান রেখে বিদেশি কোম্পানি ডাকছে।
অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলোÑ জাতীয় স্বার্থকে অবহেলা করছে এবং দুর্নীতি করছে। জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করে দেশের গ্যাস সম্পদ জনগণের স্বার্থে কাজে লাগাতে চাইলে সরকারকে অবশ্যই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা-সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। দুর্নীতি কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। এটি না করে সরকার বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে জনগণকে নানা ভোগান্তিতে ফেলছে। এর মধ্য দিয়ে সরকার লুটেরা ও আধিপত্যবাদী শক্তির স্বার্থরক্ষা করছে। এর বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থরক্ষায় সকলকে সোচ্চার হতে হবে।