শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭
শীর্ষ সংবাদ

লুট ছাড়া সরকারের আর কোনও কর্মকাণ্ড দেখতে পাই না: মির্জা ফখরুল

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: লুট করা ছাড়া সরকারের আর কোনও কর্মকাণ্ড দেখতে পান না বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। জনগণের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্বও নেই। দুদিন আগে একটা বাজেট দিয়েছে। সে বাজেটে দেখেন তো পরিবেশ প্রকৃতির ওপর কত টাকা বরাদ্দ করা আছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মজার ব্যাপার হচ্ছে, ক্লাইমেট চেঞ্জের ওপর বিশ্ব ব্যাংকের একটা ফান্ড আছে। সে ফান্ড থেকে গত কয়েক বছর ধরে তারা ৭শ’ কোটি টাকা ফান্ডও পেয়েছে। তার অর্ধেক খেয়ে ফেলেছে, আর অর্ধেক ফেরত দিয়েছে। সরকারের কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল লুট করা। লুট করা ছাড়া তাদের আর কোনও কর্মকাণ্ড আমি দেখতে পাই না।’

শনিবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বিএনপি আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ‘বৈশ্বিক দুর্যোগ: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবেশ রক্ষায় আমাদের নেতাদের বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের এবং সরকার দলীয়দের কমিটমেন্ট বড় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘সরকার বড় বড় প্রজেক্ট করছে। এই মেগা প্রজেক্টগুলো কেন? বারবার করে বলছি, করোনা থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য নগদ টাকা সরবরাহ করতে। সেদিকে সরকারের কোনও নজর নেই। তারা এই পারপাসে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। মেগা প্রজেক্টের জন্য এবারও দিয়েছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। যেটা এই মুহূর্তে কোনও প্রয়োজন নেই। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন মানুষকে বাঁচানোর। বাস্তবতা হচ্ছে পৃথিবী ধ্বংস হচ্ছে। পৃথিবী অতি দ্রুত তার ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। কারণ উন্নত দেশগুলো তাদের স্বার্থে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্ট করেছে। কার্বনের কারণে ওজন মণ্ডল ফুটো হয়ে গেছে। যার ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উষ্ণতার ফলে পৃথিবীর সব ইকোসিস্টেম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখানে বিশ্ব নেতাদের একটা কমিটমেন্ট প্রয়োজন। সে কমিটমেন্ট পৃথিবীকে বাঁচাবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বেগম জিয়া পরিবেশের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা ইকো-ব্যালেন্স রক্ষা করার জন্য। এই যে উপকূলের সবুজ বেষ্টনি, সে সময় লাখ লাখ গাছ লাগানো হয়েছিল। রাস্তার ধারে গাছ লাগিয়ে সামাজিক বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জিয়াউর রহমান সাহেব যে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন, তার তিনটা দিক ছিল। এগুলো হচ্ছে প্রকৃতিক পানি সংরক্ষণ করা ও সেখান থেকে ইরিগেশন করা, মাছের চাষ করা এবং খালের দুই ধারে বাগান তৈরি করা। মানুষ বেঁচে থাকা, জীবিকা ও সভ্যতার প্রয়োজনে বন নষ্ট করেছে, নদী নষ্ট করেছে, পানি নষ্ট করেছে, বড় বড় কংক্রিটের বস্তি গড়ে তুলেছে। আমাদের দেশের রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে হঠাতে হঠাতে একবারে পিছু হঠিয়ে ফেলেছে। আগে যে পাখিগুলো আসতো, সেগুলো এখন আর আসতে পারে না। জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নিতে শুরু করছে। আমরা কিন্তু প্রতিনিয়ত এই প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করছি। আমরা চাঁদে যাচ্ছি, মঙ্গল গ্রহে যাচ্ছি। সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি এটা যদি আমাদের তৈরি করতে হয়, তবে নদী, পানি, মাটি এবং তার বর্জ্য কীভাবে ম্যানেজমেন্ট করবো তার ওপর জোর দিতে হবে।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বন ও পরিবেশবিষয়ক সহসম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন প্রমুখ।


এখানে শেয়ার বোতাম