শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭
শীর্ষ সংবাদ

২০ মে ‘মুল্লুক চলো’ দিবস কেন আজও প্রাসঙ্গিক!

এখানে শেয়ার বোতাম

সজিব তুষার::

চলছে স্বাধীনতার অর্ধশতবার্ষিকী। আজকের বিশ্ব অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য একটি স্থান দখল করে রেখেছে বাংলাদেশও। যে কয়টি অর্থনৈতিক উৎপাদনের কারনে বিশ্ববাজারে আজ বাংলাদেশ তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক বিষয়- চা। তবে যেই চা- দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ফসল; কি ছিলো তাদের ইতিহাস- কেমনই বা আছেন সেই অর্থনীতির ধারক ও বাহক চা শ্রমিকরা?

উনিশ শতকের শুরুর দিকেবৃটিশ সরকার কর্তৃক দক্ষিণ ভারত, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, উড়িষ্যাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের নিম্নবর্ণের মানুষদের ‘চা’ চাষ করে জীবনমান উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল তা শুধুই ছিলো প্রলোভন।

এ বুঝতে পেরেই তৎকালীন সময় সেই জনগোষ্টী সিদ্ধান্ত নেয় নিজ নিজ বাড়ি ফিরে যাওয়ার। তৎকালীন চা শ্রমিক নেতা পণ্ডিত গঙ্গাচরণ দীক্ষিত ও পণ্ডিত দেওসরন ‘মুল্লুকে চলো’ (নিজ দেশে চল) আন্দোলনের ডাক দেন। আর এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯২১ সালের ২০ মে তারা রওনা দেয় মুল্লুকের উদ্দেশ্যে। সেদিন বাস-ট্রেন সব বন্ধ করে দেয় বৃটিশ সরকার। আর সেই ২০ মে চাঁদপুরে মেঘনার তীরে জাহাজঘাটে সংঘঠিত হয় শ্রমিক ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ।

এই দিনে নিজ জন্মভূমিতে ফিরতে চাওয়ার অপরাধে শত শত নিরীহ চা শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করে ব্রিটিশ সৈন্যরা। চা শ্রমিকদের দাবি, ২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসেবে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার। অথচ সেই নির্মম ঘটনার শতবছর পূর্ণ হলেও দিবসটিকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি আজও। এই ২০ মে সেই ঐতিহাসিক ‘মুল্লুক চলো’ দিবস। রাতের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া নদীর স্রোতের মতই হারিয়ে যাচ্ছে এই দিনটি।
এমনকি দেশে এই চা শ্রমিকরা দেড়’শ বছরের উপরে অবস্থান করলেও দৈনিক মজুরী ছুঁতে পারেনি দেড়’শতে। পুষ্টিকর খ্যাদ্যাভ্যাস এবং ন্যায়পালদের অবহেলায় হাড় লিকলিকে এই শ্রমিকদের শারীরিক গঠন এবং জীবনমান রয়ে গেছে সেই পূর্বপুরুষদের মতই। শিক্ষা-চিকিৎসা কিম্বা মৌলিক অধিকারের কোন বালাই নেই আজব্ধি।

বৃটিশ ঔপনিবেশিক আমলে চা শিল্পের গোড়াপত্তনের সময় উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকেই চায়ের বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য বিপুল শ্রমিকের চাহিদা দেখা দেয়। কিন্তু স্থানীয় শ্রমিকদের দ্বারা শ্রমঘন এই শিল্প চালু করা সম্ভবপর হয়ে উঠেনি। তাই আরকাট্টিদের (দালাল) মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শ্রমিক নিয়ে আসা শুরু করে।

সমগ্র দক্ষিণ ভারত, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, উড়িষ্যাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের নিম্নবর্ণের মানুষদের মিথ্যা আশ্বাস আর উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা দিয়ে শ্রমিক হিসেবে নিয়ে আসা হয়। বলা হয় মাটি খুড়লেই পাওয়া যাবে টাকা। ভালো খাবার। ভালো পোষাক। আর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ পাবে অনাগত সন্তানেরা।

বিপুল শ্রমিক সংগ্রহের ব্যবস্থাকে সুসংসত করতে তৎকালীন সরকার ১৮৬৩ সালে প্রণয়ন করে ‘লেবার ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’। আর বিভিন্ন সময়ে সেটাকে পরিমার্জনও করে তারা। শ্রমিকদের ধোকা দিয়ে চা শিল্প শুরুর পর থেকেই সময়ে সময়ে দেখা দেয় শ্রমিক অসন্তোষ। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বিষাক্ত সাপ। হিংস্র জন্তু জানোয়ার। মশার কামড়সহ প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা আর মালিকশ্রেণির নির্যাতন চা শ্রমিকদের হয়ে দাঁড়ায় নিত্যসঙ্গী। ক্রীতদাসের মতো নামমাত্র মজুরিতে সারাদিনের খাটুনিতে জুটত না একবেলা খাবার। অখাদ্য-কুখাদ্য, অসুখ-বিসুখ আর বন্দিদশায় অপর্যাপ্ত মজুরির পাশাপাশি বাসস্থান, খাবার, স্বাস্থ্যনিরাপত্তাসহ নানামুখী সংকটে জর্জরিত শ্রমিকরা ক্রমশই বাগানমালিক দ্বারা নিপীড়ন নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে ওঠে চা শ্রমিকরা।

আসাম লেবার এনকোয়েরি কমিটির ১৯২৯-২১ সালের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, লক্ষাধিক চা শ্রমিক মৃত্যুবরণ করে ১৯১৭-২০ সময়কালে। যাদের বেশিরভাগই মারা যায় অপুষ্টিজনিত ও সংক্রামক ব্যাধিতে। এভাবে চা বাগানে শ্রমিকদের বিদ্রোহ প্রকট আকার ধারণ করে।
তখন বৃটিশ বিরোধী বিপ্লবীদের তৎপরতা, খেলাফত আন্দোলন আর অসহযোগ আন্দোলনের উত্তাল ঢেউ চলছে ভারতবর্ষজুড়ে। মহাত্মা গান্ধী ও তাঁর অনুসারীরা তখন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে জীবনবাজি রেখে। ১৯২০ সালের নানান সময়ে করিমগঞ্জ, ধলই, কাছাড় ভ্যালি, ব্রহ্মপুত্র ভ্যালি ও সিলেট ভ্যালির বিভিন্ন চা বাগানে ব্যাপক আকার ধারণ করে শ্রমিক অসন্তোষ। যার ফলশ্রুতিতে ১৯২১ সালের মে মাসে চা শ্রমিকরা মুল্লুকে চলো বা নিজ জন্মস্থানে যাত্রার ব্যাপারে মনস্থির করে। কিন্তু নির্দয় বাগানমালিকের সাথে যোগসাজশে ব্রিটিশ সরকার রেলযোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আর কোনো উপায় না দেখে মে মাসের ৩ তারিখ প্রায় ৩০ হাজারের বেশি চা শ্রমিক রেললাইন ধরেই চাঁদপুরের মেঘনা ঘাটের উদ্দেশে হাঁটা শুরু করে।

তৎকালীন চা শ্রমিক নেতা পণ্ডিত গঙ্গাচরণ দীক্ষিত ও পণ্ডিত দেওসরন নেতৃত্ব দেন এই ‘মুল্লুকে চল’ আন্দোলনের। চা শ্রমিকদের কেবল ধারণা ছিল স্টিমারযোগে কলকাতা যাওয়া যায়। এদিকে ২০ মে চা শ্রমিকরা মেঘনা ঘাটে পৌঁছালে আসাম রাইফেলসের গোর্খা সৈন্য মোতায়েন করে। শুরু হয় পরিশ্রান্ত ও সংক্ষুব্ধ চা শ্রমিকদের নিবৃত্ত করে ফেরানোর চেষ্টা। তৎকালীন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডেপুটি কমিশনার মিস্টার কে সি দের নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে গোর্খা সৈন্যরাশুরু করে গুলিবর্ষণ। রঞ্জিত হয় মেঘনা নদীর জল অসহায় চা শ্রমিকের রক্তে। চা বাগানের ব্রিটিশ মালিক এবং তাদের দোসরদের গুলিতে এ দিন প্রাণ হারান কয়েকশ চা শ্রমিক। কারও কারও মতে এই সংখ্যা কয়েক হাজার। অজস্র মৃতদেহ ভেসে যায় মেঘনার বুকে। যার মাধ্যমে সংঘটিত হয় ইতিহাসের নির্মমতম শ্রমিক হত্যাযজ্ঞ।

এই বর্বরোচিত হত্যার পর স্টিমার শ্রমিক, রেলশ্রমিক এবং পুরো আসাম ও পূর্বে বাংলার চা শ্রমিকরা একযোগে ধর্মঘট শুরু করে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন। মহাত্মা গান্ধী, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, চিত্তরঞ্জন দাস, নেতাজী সুবাস চন্দ্র বসুর মতো নেতারা ছুটে আসেন চাঁদপুর। চাঁদপুরে চা শ্রমিকদের এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ত্বরান্বিত হয়। আর ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ভিত রচিত হয়। চা বাগানের প্রেক্ষাপটে মূলকরাজ আনন্দের ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর উপন্যাস ‘টু বাডস অ্যান্ড এ লিফ’ এ বাগান মালিকদের অমানবিক অত্যাচারের চিত্র পরিস্ফূটিত হয়েছে।

এরই এক ধারাবাহিকতায় তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টি ১৯৩৮ সালে সর্বপ্রথম চা শ্রমিকদের ইউনিয়ন গড়ে তুলে যার নাম ছিল ‘চা মজদুর ফেডারেশন’। এ সংগঠনটি গড়ে উঠার ফলে সংগঠিত হতে থাকেন চা শ্রমিকরা। কিন্তু তা গড়ে উঠতে পারে নি চা শ্রমিকদের একটি ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের প্রতিষ্ঠান হিসেবে। তার উল্লেখযোগ্য একটি কারন মালিক শ্রেণীর নির্যাতন নিপিড়ন। তবে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন অন্য আরেকটি কারন। চা শ্রমিক নেতাদের ভুল দৃষ্টভঙ্গি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বৃটেন ও রাশিয়া ছিল একপক্ষে। কমিউনিষ্ট পার্টি বেছে নেয় ইংরেজদের সহযোগিতা করার নীতি। বেশিরভাগ চা বাগান মালিক ছিল বৃট্রিশ। ফলে তারা চা শ্রমিক আন্দোলনের সামনে স্পষ্ট দিশা দেখাতে পারেন নি।

এর সুযোগে জহর লাল নেহেরু ১৯৪৫ সালে কংগ্রেসের উদ্যোগে সিলেটে স্থাপন করেন, ‘শ্রীহট্ট চা শ্রমিক ইউনিয়ন’। যা ৪৭ পরবর্তী সময়ে ‘চা শ্রমিক ইউনিয়ন’ নাম ধারণ করে। কংগ্রেসের আপোষকামী রাজনীতির পুরো মাত্রায় প্রভাব ফেলে এ সংগঠনটিতে। নানা কারনে এই ধারাটি হয়ে উঠে চা জনগোষ্ঠির প্রধাণ ধারা। যার সুদূর প্রসারী ফলাফলে চা শ্রমিকদের মধ্যে জাত,ধর্ম,গোত্রসহ পশ্চাৎপদ মানসিকতার প্রভাব ব্যাপক মাত্রায় থেকে গিয়েছে। তবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে চা শিল্প হলো উপনিবেশবাদের ফলাফল। একে বরাবরই টি এস্টেট বলা হয়েছে। কাজেই বাগানমালিকরা ঔপনিবেশিক শাসকের ন্যায় শোষণ-নিপীড়ন অব্যাহত রেখে চলেছে এবং ঐতিহাসিকভাবেই মালিকপক্ষ রাষ্ট্রের সাথে অনেক নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।

১৯৭১ সালে শেখ মুজিবর রহমানের ডাকে চা শ্রমিকরা তীর-ধনুক নিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। দেশের জন্য অনেক জীবনও দিয়েছে চা শ্রমিকরা। কিন্তু এখনও এ দেশে পরবাসীর মতোই রয়ে গেছে তারা। ন্যূন্যতম অধিকারটুকুও নেই ভূমির উপর।

তাদের দাবি, ২০ মে কে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেয়া হোক।

স্বাধীনতার পূর্ব ও পরবর্তী উভয় সময়েই মালিকপক্ষ রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদতে চা শ্রমিকদের মজুরি সবচেয়ে কম রাখার প্রচেষ্টা করেই চলেছে।

ভোটের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। অথচ ন্যায্য হিস্যার কথা উঠলেই যেন সরকারের চোখ ফুলে আলুর দম হওয়ার জোগাড়। এই কুলি-মুটে করবে কি খাবার দিয়ে- পড়ে কোন মহাভারতই বা করবে উদ্ধার!

ফলত চা মালিকরা শুরু থেকেই চা বাগানে এমন পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে যা হলো রাষ্ট্রের ভিতরে আরেক রাষ্ট্র। সভ্যতার বাইরে এক আলাদা জগৎ।

অট্টালিকা গড়ে তুলবার এক অন্ধকারচ্ছন্ন দ্বীপ। তাদের শ্রমে বিত্ত বৈভব গড়ে উঠলেও, এদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে বরাবরই। এদের শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হলে, হয়তো আপত্তির কিছু থাকতো না।

সাম্প্রতিক সময়েও কালিটি চা বাগানের বকেয়া মজুরির আন্দোলন কিম্বা রেমা চা বাগানের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাগানমালিকদের আচরণে আরও স্পষ্টতাই দেখতে পেয়েছে জনগণ।

যে অধিকার রক্ষার জন্য চা শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের দুঃখগাঁথা রচিত হয়েছে তার বাস্তবায়ন এই ১০০ বছরেও হয়নি। বছরের পর বছর বাগানমালিক ও সরকারের শোষণ-নিপীড়নের স্বীকার হচ্ছে চা শ্রমিকরা।

নামমাত্র মজুরির পাশাপাশি ন্যূনতম মৌলিক অধিকার বরাবরই অধরাই থেকেছে। চা শ্রমিকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়, এমন মজুরি নিশ্চিত করতে চায় চা শ্রমিকরা। সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করেন, মুনাফা ও সম্পদের ৯০% মালিকানা শ্রমিকদের হওয়া উচিত।

তাই বলা যায় অধিকার আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি চা শ্রমিকদের। ভোগবাদী সমাজব্যবস্থার পুঁজিবাদী মনোভাব চা গাছের ন্যায় বনসাই করে রেখেছে চা শ্রমিকদের জীবন।

চা শ্রমিকদের অমানবিক পরিশ্রমে ক্রমান্বয়ে চা শিল্পের বিকাশ ঘটেছে যার দরুন চা উৎপাদনের নতুন রেকর্ড গড়ে জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদানের পাশাপাশি রফতানিমুখী শিল্প হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

অথচ দুষ্টচক্রে বাধা চা শ্রমিকদের ‘জীবন মানের উন্নয়ন’ শব্দটি উবে গেছে রাষ্ট্রের নীতিমালা থেকে।

শ্রম আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে চা জনগোষ্ঠীকে বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ও শিক্ষার অধিকার থেকে দূরে রেখেই বাগান পরিচালনা করছে মালিক পক্ষ।

এ ব্যাপারে কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই রাষ্ট্রের। এতেই বোঝা যায় মুনাফালোভী বাগানমালিক আর রাষ্ট্রব্যবস্থা একে অপরের সাথে পরমবন্ধুত্বপূর্ণ পার্টিতে আনন্দ ছাড়া গণভোগান্তির কোনও স্থানই নেই।

তাইতো আজ শত বছর পরেও চা শ্রমিকদের ‘মুল্লুকে চলো’ আন্দোলনের আবেদন বারবার তাৎপর্যমণ্ডিত এবং খুবই প্রাসঙ্গিক হয়েই থেকে গেছে। চুক্তির মাধ্যমে চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরিব্যবস্থা চালু করা যায়নি।

অদ্যাবধি আইনগতভাবে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড দ্বারা শ্রমমূল্যের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। ফলে চা শ্রমিকদের শ্রমের বিনিময়ে ন্যায্য মজুরির নিশ্চয়তা এই রাষ্ট্র নির্ধারণ করে দিতে পারেনি।

এদিকে চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার না থাকায় বাগানমালিকরা একুশ শতকেও রয়ে গেছে জমিদারী মেজাজে। লক্ষ লক্ষ চা শ্রমিকের বলিদানের পরও রাষ্ট্র তাদের জীবনের মর্যাদা দেয়নি। গণহত্যার এই দিনটিকে স্বীকৃতি দেয়নি মহান চা শ্রমিক দিবস হিসেবে।

তবে এই দিনকে দেশের বামপন্থী চা শ্রমিক সংগঠনরা পালন করে আসছেন ‘ মহান চা-শ্রমিক দিবস’ হিসেবে। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় করেন আত্মাহুতি দেওয়া শহীদদের স্মরণ।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, চা শ্রমিক ফেডারেশনসহ চা শ্রমিক- চা সন্তান- চা ছাত্রদের নানান সংগঠন পালন করেন এই দিবসটি। দিবসটিকে কেন্দ্র করে উত্থাপন করেন চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ন্যায্য মজুরী, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি দাওয়া। সংগ্রামের চেতনায় বারবার অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে চা শ্রমিকরা পুনর্জীবিত হয় এই দিবসের মাহাত্মে। এক হয়ে স্লোগান তোলেন চা শ্রমিক এবং সহযোগী সংগঠকরা-

‘মুল্লুক চলো আন্দোলন, সফল হোক সার্থক হোক’।

লেখক : কবি ও সাংবাদিক


এখানে শেয়ার বোতাম