শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭
শীর্ষ সংবাদ

কমরেড বিষ্ণু চ্যাটার্জী লাল সালাম

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: কমরেড বিষ্ণু চ্যাটার্জী খুলনা জেলার রূপসা এলাকায় খানকা গ্রামে ১৯১০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল রাধাচরণ চট্যোপাধ্যায়। স্কুল জীবনে বিপ্লবী গুপ্ত সমিতির সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। এ অঞ্চলে অবিভক্ত ভারতের বড় বড় কয়েকজন কমিউনিস্ট নেতার বিচরণ ছিল। ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ সরকার বিষ্ণু চ্যাটার্জীকে গ্রেফতার করে। জেলখানায় থাকা অবস্থায় মার্কসবাদের বিভিন্ন বই পড়েন এবং কমিউনিস্ট আদর্শ গ্রহণ করেন। জেলে থাকা অবস্থায় কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। আট বছর পরে ১৯৩৮ সালে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান।

জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এলাকায় এসে কৃষক আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হলেন। কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং তাদের সাথে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার কাজে লেগে পড়লেন। ১৯৩৯ সালে সারা ভারত কৃষক সভার দ্বিতীয় জেলা সন্মেলনে তিনি প্রধান সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। সমগ্র খুলনা জেলায় কৃষকদের জমি উদ্ধার, বাঁধ নির্মাণ আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে থাকেন। দলে দলে কৃষকরা কৃষক সমিতিতে যোগদান করতে থাকে। কৃষক সমিতির মধ্যে গড়ে তোলা হয় কমিউনিস্ট পার্টি।

১৯৪৩ সালে গ্রামে নিজ উদ্যোগে স্কুল গড়ে তোলেন। দূর্ভীক্ষের সময়ে মানুষ বাঁচতে রঙ্গরখানা গড়ে তোলেন। জমিদারদের বিরুদ্ধে, জমিদারী প্রথার বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন। বিষ্ণু চ্যাঠার্জী আবার গ্রেফতার করা হয়। তাঁর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে। এর মধ্যে ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান দুটি আলাদা দেশ হয়। দেশ ভাগের পর ১৯৪৮ সালে তার মুক্তির দাবিতে আবারো গর্জে ওঠে মানুষ। ২৪ এপ্রিল মুক্তির দাবিতে কৃষকদের বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় তিনজন কৃষক।

১৯৪৯ সালে খুলনা জেলা কারাগারে বিষ্ণু চ্যাটার্জীর নেতৃত্বে কয়েদিদের অনশন ধর্মঘট হয়। আন্দোলনের মুখে বেশকিছু দাবি কারাকর্তৃপক্ষ মানতে বাধ্য হয়। গোটা পাকিস্তান আমলে বিষ্ণু চ্যাঠার্জী কারাগারে ও আত্মগোপনে থেকেছেন। ৬২ বছর বয়সের মধ্যে ২৪ বছর জেল খেটেছেন। ১৯৫৫ সালে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। আবার কৃষক আন্দোলনের কাজে লেগে পড়লেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১ এপ্রিল রাজাকার ও মুসলিম লীগের পান্ডারা তাঁকে হত্যা করে।

কৈশোর থেকে তিনি বিপ্লবী গুপ্ত সমিতিতে যোগদান করেন। জেলখানায় বন্দী অবস্থায় মার্কবাদের বই পড়ে কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হন। কৃষকদের আন্দোলনের মধ্যে সার্বক্ষনিক লেগেপড়ে থেকেছেন। ৬২ বছরের জীবনে ২৪ বছর জেল খেটেছেন। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার আলবদর দের হাতে শহীদ হয়েছেন।

তিনি সারাজীবন নিজেকে উৎসর্গ করেছেন মানুষের মুক্তির সংগ্রামে। এ সকল বিপ্লবীদের ঐতিহাসিক ভূমিকার ওপর দাঁড়িয়ে আছে কমিউনিস্ট পার্টি। ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল তিনি শহীদ হয়েছিলেন। তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।


এখানে শেয়ার বোতাম