মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৩০ অপরাহ্ন


কুমিল্লার টাউন হল মাঠে লংমার্চকারীদের সমাবেশ

কুমিল্লার টাউন হল মাঠে লংমার্চকারীদের সমাবেশ

  • 445
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেক :: পাহাড়ে সমতলে অব্যাহত ভাবে ধর্ষণ ও ‘বিচারহীনতা’র প্রতিবাদে ৯ দফা দাবিতে ঢাকা-নোয়াখালী লংমার্চ বিভিন্ন জায়গায় সবাবেশ-পথসভা করে কুমিল্লার টাউন হল মাঠে আজ সন্ধ্যায় সমাবেশ করে।

এর আগে আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে শাহবাগে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দিকে যাত্রা শুরু করেন।

প্রথমদিনের লংমার্চ শাহবাগ থেকে পায়ে হেঁটে প্রথমে রাজধানীর গুলিস্থানে যান, পরে বাসে করে যাবেন নারায়ণগঞ্জ গিয়ে লংমার্চ পরবর্তী সমাবেশ করেন। এরপর দুপুরের খাবার শেষ করে বিকালে কুমিল্লায় লংমার্চ করে সন্ধ্যায় টাউন হল মাঠে সমাবেশ করবেন।

আরও পড়ুন : ধর্ষণ ও ‘বিচারহীনতা’র প্রতিবাদে ঢাকা-নোয়াখালী লংমার্চ

লংমার্চকারীরি রাতের খাবার শেষ করে রাতে ফেনীতে গিয়ে রাতযাপন করবেন। তারপর ১৭ অক্টোবর নোয়াখালী শহরের মাইজদীতে গিয়ে লংমার্চ পরবর্তী সমাবেশ করে শনিবার ঢাকা ফিরবেন লংমার্চ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা।

লংমার্চ কর্মসূচি ৯ দফা দাবি হলো:

১. সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার সঙ্গে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ নির্যাতন বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।

২. পাহাড়-সমতলের নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সব ধরনের যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।

৩. হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। বাংলাদেশকে সিডো সনদে স্বাক্ষর পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।

৪. ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা ও বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিটিসিএলের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে।

৫. তদন্তকালীন ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সব মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে।

৭. ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন-১৮৭২ এর ১৫৫(৪) ধারা বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হব।

৮. পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যেকোনো প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছেদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ পরিহার করতে হবে।

এবং ৯. গ্রামীণ সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

আরও পড়ুন : শাহবাগে ধর্ষণবিরোধী সমাবেশ থেকে নয় দাবি, লংমার্চসহ নানা কর্মসূচি ঘোষণা

লংমার্চ কর্মসূচিউল্লেখ্য, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে গণজমায়েত কর্মসূচি শুরু করেন বামপন্থী কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরপর শাহবাগে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এবার লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে ঢাকা থেকে নোয়াখালী লংমার্চ’ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

 





© All rights reserved © 2018 Odhikarbd.Com
ILoveYouZannath