মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৮:০২ অপরাহ্ন


কমরেড অজয় ভট্টাচার্য এর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কমরেড অজয় ভট্টাচার্য এর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

  • 4
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে ঐতিহাসিক নানকার বিদ্রোহের সংগঠক, সাম্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ আমলা দালালপুঁজি বিরোধী কমিউনিস্ট বিপ্লবীনেতা কমরেড অজয় ভট্টাচার্য এর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর’২০ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় কমরেড অজয় ভট্টাচার্য এর শেষকৃত্যস্থল সিলেটের চালিবন্দর শ্মশানে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে শপথ গ্রহণ ও সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সহ-সভাপতি মো. সুরুজ আলী।

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত শাহীন আলমের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, সিলেট শহর র্পর্বাঞ্চল কমিটির সভাপতি মো. খোকন মিয়া, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: ছাদেক মিয়া, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা শাখার যুগ্ম-আহবায়ক নাজমুল হোসেন, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আনছার আলী, সিলেট জেলা প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি একে আজাদ সরকার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সিলেট অঞ্চলের ঐতিহাসিক ‘নানকার বিদ্রোহ’ কৃষক আন্দোলনের নেতা কমরেড অজয় ভট্টাচার্য ছাত্রাবস্থায় কুলাউড়া কৃষক বিদ্রোহ এবং ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৩৫-৩৬ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন। ১৯৩৬ সালে সিলেটে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির শাখা গঠিত হলে তিনি পার্টির রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিচালিত সর্বভারতীয় ছাত্র ফেডারেশনের সুরমা উপাত্যকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কৃষক সভা কাছাড় জেলার সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।। ১৯৪০ সাল থেকে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মি হিসেবে বিপ্লবী কর্মকা- পরিচালনা করেন। সে সময় সিলেট অঞ্চলের ঐতিহাসিক ‘নানকার বিদ্রোহ’ কৃষক আন্দোলনে কমরেড অজয় ভট্টাচার্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট নানকার আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা কমিটির সম্পাদক ছিলেন কমরেড অজয় ভট্টাচার্য। ব্রিটিশ আমল ও পাকিস্তান আমলে তিনি মোট ৭বার কারাবন্দী হন। গত শতকের ৫০ এর দশকে কারাগার থেকেই তিনি কমরেড আব্দুল হকের সাথে সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্রুশ্চেভের সংশোধনবাদী তত্ত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনে ক্রুশ্চেভ কেন্দ্রিক মহাবিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি বিভক্ত হয়। ১৯৬৭ সালে পার্টির চতুর্থ কংগ্রেসে গড়ে উঠে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)। কমরেড অজয় ভট্টাচার্য এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। একজন অভিজ্ঞ প্রবীণ বিপ্লবী নেতা হিসেবে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, পরামর্শ, মতামত ও সহযোগিতা দিয়ে আমৃত্যু পার্টিতে ভূমিকা পালন করেন। নানকার বিদ্রোহের ঘটনাবলি ও কৃষক আন্দোলনের খুঁটিনাটি চিত্র এবং তৎকালীন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও সামগ্রিক মূল্যায়ন তুলে ধরে কমরেড ভট্টাচার্য রচনা করেন ‘নানকার বিদ্রোহ’ নামক অমূল্য গ্রন্থ, যা দেশের বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে রেফারেন্স বই হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে। এছাড়াও তাঁর রচিত গল্প, প্রবন্ধ, রাজনৈতিক নিবন্ধ ও স্মৃতিচারণ মিলিয়ে পত্র-পত্রিকায় ১২৫টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে- নীড়, ইতিহাসের ছেঁড়াপাতা,এঘর ওঘর, অরণ্যানী, কুলিমেম, বাতাসীর মা, রাজনগর, সুবল মাঝির ঘাট প্রভৃতি।

বক্তারা বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের দু:শাসনে দেশে আজ চরম অরাজকতা বিরাজ করছে। একদিকে কালোবাজারী-মজুদদাররা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটিয়ে জনজীবনকে দুর্বিসহ অবস্থার মধ্যে ফেলেছে; সরকারদলীয় লুটপাটকারীরা জনগণের সঞ্চিত লক্ষ কোটি টাকা ঋণের নামে ব্যাংক থেকে তুলে বিদেশে পাচার করছে। অন্যদিকে সাধারণ জনগণের ওপর বিভিন্ন বাহিনীর চলছে নিরব চাঁদাবাজি। চাহিদা মতো চাঁদা দিতে না পারলেই চলে নির্মম নির্যাতন। সম্প্রতি সিলেটের বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে চাঁদার দাবিতে নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনা একটি উদাহরণ মাত্র। সরকারের মদদপুষ্ট ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদেও দ্বারা দেশের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বয়সী নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। কখনো কখনো অবিশ্বাস্য রকমের পাশবিক কায়দায় একের পর এক ঘটে চলেছে ধর্ষণ; যেন ধর্ষকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের কতিপয় কর্মীর সংঘবদ্ধ ধর্ষণযজ্ঞের পর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালানো এবং সেই ন্যক্কারজনক পৈশাচিকতার ভিডিও চিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা এসবের কয়েকটি উদাহরণ মাত্র। নারীর প্রতি সহিংসতা তথা নারী ও শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন, হত্যা বন্ধ করতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ছাড়া সম্ভব নয় যা মূলত সমাজ পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত। বক্তারা আরো বলেন, পুঁজিবাদী সা¤্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থায় অর্থনৈতিক সংকট তীব্রতর হয়ে মহামন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণে সা¤্রাজ্যবাদী দেশগুলো পুঁজি ও শক্তি অনুপাতে বাজার ও প্রভাব বলয় বন্টন-পুনর্বন্টন ও সর্বোচ্চ মুনাফার লক্ষ্যে দেশে দেশে একচেটিয়া লগ্নিপুঁজির বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এ প্রেক্ষিতে চলছে বাণিজ্যযুদ্ধ, মুদ্রাযুদ্ধ, স্থানীয়যুদ্ধ এবং বিশ্বযুদ্ধের প্রস্ততি। দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান আঞ্চলিক শক্তি নয়া উপনিবেশিক ভারতকে কেন্দ্র করে এতদাঞ্চলে আন্ত:সা¤্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্ব সুতীব্র। আন্ত:সা¤্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে এতদাঞ্চলকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক করিডোর, টিকফা, সোফা, টিপিপি, টিটিআইপি, জাপানের বে-অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট(বিগ-বি) ইত্যাদি চুক্তি করে অগ্রসর হচ্ছে। অন্যদিকে চীন-রাশিয়া সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (ঝঈঙ), ইজওঈঝ, জওঈ ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলায় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি নয়া উপনিবেশিক দেশ হওয়ায় শুরু থেকে অদ্যাবধি প্রতিটি সরকারই অনেক জাতীয় স্বার্থ বিরোধী প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে যা সা¤্রাজ্যবাদীদের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে। ক্ষমতায় আসা বা টিকে থাকার জন্য আমাদের দেশের সরকারগুলো সা¤্রাজ্যবাদের র্স্বাথকে প্রাধান্য দিয়ে চলে। রামপুর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন চুক্তি সা¤্রাজ্যবাদী স্বার্থেই করা হচ্ছে। তাই আজ সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী দেশপ্রেমিক শক্তিকে জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী সকল পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশকে নিয়ে সা¤্রাজ্যবাদীদের সকল অপতৎপরতা রুখে দাঁড়াতে হবে। অগ্রসর করতে হবে সকল সা¤্রাজ্যবাদ ও দালালদের সৃষ্ট রাষ্ট্রীয় ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক্যবদ্ধ আন্দোলন। প্রতিষ্ঠা করতে হবে সা¤্রাজ্যবাদ সামন্তবাদ আমলা দালাল পুঁজি বিরোধী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা এবং এর মধ্য দিয়েই কমরেড অজয় ভট্টাচার্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে।





© All rights reserved © 2018 Odhikarbd.Com
ILoveYouZannath