বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন


কমলা বিবি নিহতের ঘটনায় মামলা নিতে ওসিকে হবিগঞ্জের এসপি’র নির্দেশ

কমলা বিবি নিহতের ঘটনায় মামলা নিতে ওসিকে হবিগঞ্জের এসপি’র নির্দেশ

তৌহিদুর রহমান পলাশ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :: হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের দেশমুখ্যপাড়ায় প্রতিবেশীদের হামলায় কমলা বিবি (৫৫) নিহতের ঘটনায় থানা পুলিশ মামলা না নেয়ায় এলাকাবাসীর মিছিল ও স্মারকলিপির পর ঘটনাস্থলে সরেজমিন গিয়ে তদন্ত করেছেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যাহ।

আজ রবিবার (২ আগস্ট ২০২০) দুপুর ১২টায় দেশমুখ্য পাড়ায় নিহত কমলা বিবির বাড়ির সামনে এলাকার শতাধিক মানুষ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতে সরেজমিন তদন্তের পর ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বানিয়াচং থানার ওসিকে মামলা নেয়ার নির্দেশ দেন এসপি।

তদন্তকালে পাড়াগাও মহল্লার মুরুব্বী আরাফাত উল্লা পুলিশ সুপারকে জানান, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি দেখেছেন কমলা বিবিকে চুলের মুঠি ধরে রাস্তায় ফেলে কদ্দুস, লুকু, উজ্জল, ইমন, লাভলীসহ ১৫/১৬ জন বেধড়ক পিটুনি দেয়ার পর তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।অপরদিকে হামলাকারী কদ্দুস ও লুকু’র বোন জামাতা তাহের মিয়া পুলিশ সুপারের নিকট নালিশ করেন বলেন, হামলাকারীরা অত্যন্ত উশৃঙ্খল। এসময় তাহের মিয়া ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

তদন্তকালে এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা সুদের ব্যবসা, মাদক বিক্রি, জুয়া আসর বসানোসহ বিভিন্ন অসামাজিক কাজে জড়িত। ঘটনার দিন কমলা বিবিকে হামলা করেই হত্যা করা হয়েছে মর্মে পুলিশ সুপারকে জানান এলাকার মুরুব্বীরা।

এছাড়া নিহত কমলা বিবির পুত্র এনায়েত হোসেন বানিয়াচং থানার এসআই আব্দুছ ছাত্তারকে মামলার আইও নিয়োগ না করতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহর নিকট দাবী জানালে এসপি আশ্বাস দেন এবং এ মামলা তিনি নিজে সবসময় তদারকি করার ঘোষণা দেন। এসময় তিনি এ মামলা নিয়ে কোন ধরনের বানিজ্য করা যাবেনা মর্মে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

জানা যায়, গত ২২ জুলাই ২০২০ সকাল ১১ টায় নিহত কমলা বিবির পুত্রবধু জমিলা খাতুনের সাথে ঘাটে নৌকা বাধাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী কদ্দুস, লুুকু, উজ্জ্বল, ইমন, আঃ রহিম, লাভলীসহ ১৫/১৬ জনের ঝগড়া ও মারামারি হয়। এক পর্যায়ে লুকু, আব্দুল কদ্দুস, উজ্জল ও আব্দুর রহিমসহ তাদের লোকজন জমিলা খাতুনকে বেধড়ক পিটুনি শুরু করলে পুত্রবধুকে বাঁচাতে কমলা বিবি এগিয়ে যান। এসময় কমলা বিবিকেও কিল-ঘুষি মারতে থাকে হামলাকারীরা। একপর্যায়ে কমলা বিবি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এলাকাবাসী উদ্ধার করে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার ওসি মোহাম্মদ এমরান হোসেন, ওসি তদন্ত প্রজিত কুমার দাস, এসআই আব্দুছ ছাত্তারসহ থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মহিলা পুলিশের সহায়তায় নিহতের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করার পর ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।

কমলা বিবি নিহতের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর পুরো জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এদিকে ২৪ জুলাই নিহতের পুত্র এনায়েত হোসেন বাদী হয়ে ১৪ জনের নামসহ ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামী করে বানিয়াচং থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করতে গেলে ময়না তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মামলা না নেয়ার কথা জানিয়ে তাকে বিদায় করে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ২৬ জুলাই মিছিল সহকারে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানার কাছে গিয়ে স্মারকলিপি দাখিল করেন। এনিয়েও বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। অবশেষে পুলিশ সুপার সরেজমিন ঘটনাস্থলে তদন্তে এসে থানা পুলিশকে মামলা নেয়ার নির্দেশ দেন।





© All rights reserved © 2018 Odhikarbd.Com
ILoveYouZannath