রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৩৯ অপরাহ্ন


পিংকির প্রমাণ করেছেন সুযোগ পেলে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ আর সাফল্য এনে দিবে

পিংকির প্রমাণ করেছেন সুযোগ পেলে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ আর সাফল্য এনে দিবে

মো: শাহিন রেজা :: সর্বক্ষেত্রে সুযোগ দিতে হবে তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়কে বেশ কয়েক বছর আগে কমন জেন্ডার নামে একটি চলচিত্র দেখেছিলাম। এটি মূলত হিজড়া সম্প্রদায়ের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত। বিভিন্ন লেখক চলচিত্রকার হিজড়াদের জীবনী নিয়ে তৈরি করেছে চলচিত্র, রচনা করেছেন বিখ্যাত বই, উপন্যাস।

হিজড়া! অবহেলিত এক সম্প্রদায়ের নাম। গ্রামে কোন সন্তান জন্ম নিলে হিজড়াদের দেখা মেলে। সন্তান নাচিয়ে তারা টাকা বকশিস নেই। রাস্তা, বাস, ট্রেন, দোকান, বাজার থেকে টাকা উঠিয়ে তাদের জীবন পরিচালনা করে। উপর্জনের পথ হিসাবে অনেক সময় তারা পতিতা বৃত্তি পেশার সাথে যুক্ত হয়। ফলে তারা বিভিন্ন সময় আলোচনা সমালোচনার শিকার হচ্ছে। কিন্তু তাদের ও যে স্বাদ, আহ্লাদ, ভালোলাগা, মনের ভিতর সুপ্ত ভালোবাসা আছে তার যেন কোন মূল্য নেই এ সমাজে! শিক্ষা, রাজনীতি, সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ সহ সমস্ত কিছু থেকে বঞ্চিতই বলাচলে তাদের, কিন্তু সুযোগ পেলে তারাও যে ভালো কিছু করে দেখাতে পারে যার উদাহরণ সাদিয়া আক্তার পিংকী।

গত ১৪ অক্টোবর ঝিনাইদহের কোঁটচাদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া সম্প্রদায়) এই প্রার্থী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হন। তিনি সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত । সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য মতে, হিজড়াদের জন্য ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সরকার মোট পাঁচ কোটি ছাপান্না লক্ষ টাকা বারাদ্দ করেছে। ২০১২-২০১৩ অর্থ বছর হতে হিজড়াদের সামগ্রীক উন্নয়নে সরকার একটি পাইলট কর্মসূচি গ্রহণ করে যা চলমান রয়েছে।

তাদের উন্নয়নে আরো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রায়োজন:

১. সমাজের কুসংস্কার ও অসচেতনতার জন্য হিজড়ারা বৈষম্যে শিকার হচ্ছে, থাকতে হচ্ছে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায়। তাই জনসচেতনা তৈরি করে পরিবারের সাথে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।

২. শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে যার মাধ্যমে তারা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারবে এবং ভিক্ষাবৃত্তি পেশা পরিহার করবে।

৩. অনিরাপদ যৌন মিলনের ফলে তারা এইডস এ আক্রান্ত হচ্ছে ও ছড়াচ্ছে। তাই সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের পতিতাবৃত্তি পেশা থেকে স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসতে হবে।

৪. রাজনীতি অর্থনীতি সহ সামগ্রীক কর্মকান্ডে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

৫. ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে তাদের স্বকর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁতশিল্প, কৃষিকাজ, গার্মেন্টস ইত্যাদির উপর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে।

৬. সামাজিক দৃষ্টি ভঙ্গি বদলিয়ে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজ, রাষ্ট্র ও কর্মক্ষেত্রে তাদের মূল্যায়ন করার সংস্কৃতি তৈরি করা।

৭. ধর্ম ও সংস্কৃতি চর্চার সুযাগ প্রদান ও পরিবেশ তৈরি করা।

২০১৩ সালে সরকার হিজড়াদের লিঙ্গ পরিচয়কে রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বিকৃতি দেয়। আমাদের ও তাদের প্রতি সহনুভূতিশীল হয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে-ই তাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দিতে হবে মেধা ও যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ। পিংকির সাফল্যই প্রমাণ করে সুযোগ পেলে তারাও ভালো কিছু দিতে পারবে দেশকে।

লেখক : প্রাক্তন শিক্ষার্থী, জাহাক্সগীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা





© All rights reserved © 2018 Odhikarbd.Com
ILoveYouZannath