শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭
শীর্ষ সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে দেশের স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত হয়েছে : চট্টগ্রামে বাম জোটের নেতৃবৃন্দ

এখানে শেয়ার বোতাম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :: প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে একতরফাভাবে ভারতের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে বাম গণতান্ত্রিক জোট নেতারা বলেন, সম্পাদিত দেশ বিরোধী বিভিন্ন চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও যৌথ ঘোষণায় বাংলাদেশের স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) বিকালে নগরের বটতলী স্টেশনে বাম জোটের চট্টগ্রাম জেলার জনসভায় এইসব কথা বলেন জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা।

জোটের চট্টগ্রামের সমন্বয়ক হাসান মারুফ রুমীর সভাপতিত্বে ও শফিউদ্দিন কবির আবিদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানস নন্দী, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়ক আবুল হাসান রুবেল, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য আনসার আলী রুবেল, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, বাসদ (মার্ক্সবাদী) নেতা অপু দাশ গুপ্ত, বাসদ চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক কাদেরী জয়।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীসমূহের পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে ফেনী নদীর পানি ভারতকে প্রদান করার চুক্তি স্বাক্ষর করায় দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছে। যা দেশ ও জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল। চুক্তিতে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় নিরাপত্তা ও নজরদারীর জন্য ভারতকে যে ২০টি রাডার স্টেশন করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তার মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। যা ভারত, আমেরিকার ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশলের অংশ এবং এতে চীনের সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বিদেশ থেকে এলপিজি গ্যাস আমদানি করে ভারতে রপ্তানির বিষয়টিকে অনভিপ্রেত আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি আত্মঘাতি পদক্ষেপ এবং কতিপয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থে করা হয়েছে। বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে আমাদের দেশের নিরীহ মানুষ হত্যা বন্ধের বিষয়টি যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি।

সমাবেশে নেতারা বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনের বিষয়টি আলোচনায় উত্থাপন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তারা আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়নি। জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আমাদের দেশের প্রস্তাবের পক্ষে ভারত ভোটদানে বিরত থেকেছে। যৌথ ঘোষণায়ও রোহিঙ্গা শব্দটির উল্লেখ পর্যন্ত নাই। তারা বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানান। নেতৃবৃন্দ ভারতের নাগরিকপুঞ্জির বিষয়টি যৌথ বিবৃতিতে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারের কূটনৈতিক অদক্ষতার সমালোচনা করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরে সম্পাদিত চুক্তি, সমঝোতা স্বাক্ষর ও যৌথ ঘোষণা বাংলাদেশ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ। জনগণের আস্থাহীন এ সরকার ভারতের সরকারের কৃপা লাভের জন্য তাদের ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

নেতৃবৃন্দ চুক্তির সমালোচনা করায় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান। তারা আবরার হত্যাকারী ও তাদের মদদদাতাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ ক্যাসিনো বাণিজ্য হোতা ও তাদের গডফাদারদের গ্রেফতার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন।

নেতৃবন্দ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নৈশকালীন ভোটের নির্বাচন বাতিল করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করারও দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ চট্টগমের কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণে, চট্গ্রামে জলাবদ্ধতা সংকট নিরসনে, সড়ক সংস্কার সহ ওয়াসার পানির দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া প্রতিবাদে জনগনকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউমার্কেট মোড়ে এসে শেষ হয়।


এখানে শেয়ার বোতাম