শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭
শীর্ষ সংবাদ

আ’লীগ পরিবারের শ্রাবণ মোটা অংকে ছাত্রদলের সভাপতি পদে বৈধ প্রার্থী

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: মাত্র সপ্তাহ দুয়েক পরেই ছাত্র দলের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল । নেতৃত্ব গঠনে কাউন্সিলে বিতর্ক ও সমালোনা এড়াতে যাছাই বাছাই কমিটি ও আপিল কমিটি গঠন এবং ভোটের ব্যবস্থা করা হলেও সমালোচনা যেন বাড়ছেই। অর্থলেনদেন বিতর্কিত ব্যক্তিক যাচাই বাছাই ও আপিল কমিটিতে বহাল, যাচাই বাছাই কমিটি বহাল রাখলেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে আপিল কমিটি প্রার্থীতা প্রত্যাহারসহ নানা সমালোচনা উঠে এসেছে।
সভাপতি পদে আওয়ামী পরিবারের এক নেতা ও যাছাই বাছাই কমিটিতে বহাল থাকলেও আপিল কমিটিতে বাদ পড়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে দুই নেতা বিতর্ক উস্কে দিচ্ছে এই দুই বিষয়।

ছাত্রদলের সভাপতি পদে ঘোষিত বৈধ ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে একজন হচ্ছে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ যার পিতা কাজী রফিক যশোরের কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান। তার বড় ভাই কাজী মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্তো কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সেজ ভাই আজহারুল ইসলাম মানিক কেশবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক, মেঝ ভাই কাজী মোজাহিদুল ইসলাম পান্না কেশবপুর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক।

অন্যদিকে সভাপতি পদে মামুন খান ও সাধারণ সম্পাদক পদে জুয়েল হাওলাদার বাছাই কমিটিতে বৈধ বলে ঘোষিত হলেও আপিল কমিটি তাদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেছে।

সবচেয়ে বিতর্কিত ও সমালোচিত কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। যশোরের কেশবপুরের বিএনপি সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার শ্রাবণের বাবা ও ভাই কর্তৃক। এমনকি ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিএনপি ছাড়তে বাধ্য করেছেন তারা। আওয়ামীলীগের যে পরিবার কর্তৃক বিএনপির নেতাকর্মীরা এমন নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার সেই পরিবারের সন্তান কিভাবে ছাত্রদলের সভাপতি পদে যাচাই বাছাই ও আপিল কমিটিতে বৈধ বলে ঘোষিত হয় প্রশ্ন ছাত্র দলের নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতা ও কর্মীদের।

তবে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ এর সভাপতি পদে দুুই কমিটিতেই বৈধ ঘোষণা করার পিছে সবচেয়ে বেশি হাত রয়েছে ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বর্তমান জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম ওবায়দুল হক নাসির ও যুবদলের সাধারন সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিনের।ব্যবসায়ী ও সুযোগ সন্ধানী রাজনীতিবিদ ওবায়দুল হক নাসির শ্রাবণের জন্য বড় অংকের অর্থ লেনদেন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে । যে করেই হোক সবচেয়ে বিতর্কিত সমালোচিত এই শ্রাবণকে সভাপতি পদে আসীন করতে অর্থলেনদেন ও দৌড়ঝাপে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। এনপি’র আন্দোলন-সংগ্রামে দক্ষ সংগঠক হিসেবে সুনাম রয়েছে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। তাঁর গোটা পরিবারই বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় দফায় দফায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাঁর শিষ্য হিসেবে পরিচিত নাসির নিজের হীন স্বার্থ বাস্তবায়নের লক্ষেই এ ম্যানেজ মিশন বাস্তবায়ন করছেন বলে জানান একাধিক নেতা।

এদিকে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে যাচাই বাছাই ও আপিল বিভাগে বৈধ ঘোষণা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কেশবপুরের নির্যাতিত বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের দাবী, যে পরিবারের জন্য আজ আমরা রাজপথেই নামতে পারি না সেই পরিবারের সন্তান ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসবে এটা আমাদের জন্য না শুধু পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক। কেন্দ্রিয় হাই কমান্ড কে এ বিষয়ে নজর দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান তারা।

এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমানের ডজন খানেক নেতারা। সব দিকের বিতর্ক তারা নিতে পারলেও আওয়ামী পরিবারের সন্তানকে ছাত্রদলের হাল ধরতে সুযোগ করে দেওয়াকে নিতে পারছেন না তারা। অনেকেই মনে করছেন ছাত্রদলকে নেতৃত্ব শুন্য করে মাঠ ছাড়া করতে এটা আওয়ামীলীগের চাল। তা নাহলে এমন আওয়ামী পরিবারের একজনকে কিভাবে যাচাই বাছাই ও আপীল কমিটিতে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে। তবে অনেকেই এটাকে মোটা অংকের টাকা লেনদনের ফলশ্রুতিতে হয়েছে বলেই মনে করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের এক সভাপতি প্রার্থী বলেন, নেতৃত্ব বাছায়ে দৌড়ঝাঁপ থাকবেই, থাকবে কিছুটা বিতর্কও তবে কিভাবে এক আওয়ামী পরিবারের সন্তানকে সংগঠনের যাছাই বাছাই কমিটি ও আপিল কমিট বৈধ ঘোষণা করে তা আমার জানা নাই। তবে এক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থ লেনদেন যে হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যায়।

দলটির তৃণমূল ও মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা বলছেন, ছাত্রদলের এবারের কাউন্সিলের মাধ্যমে যোগ্য, ত্যাগী ও মেধাবী ছাত্রনেতারা উঠে আসবেন বলে আশায় বুক বেঁধেছেন দলটির সাধারণ নেতা-কর্মীরা।কিন্তু এক্ষেত্রে কোন ডেডিকেটেড আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান নেতৃত্বের ফ্রন্ট লাইনে উঠে আসলে দলের আদর্শের প্রতি বুড়ো আঙুল দেখানো হবে। এবং ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ‘আতাতের দীর্ঘ পুরনো রাজনীতির চর্চাই করা হবে। যেটি দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ তৈরি করবে।

অন্যদিকে আপিল কমিটি সভাপতি পদে মামুন খান ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হাওলাদারকে কেন অবৈধ ঘোষণা করেছেন জানতে চাইলে যাছাই বাছাই কমিটির নির্বাহি সদস্য এবিএম মোশাররফ বলেন, তাদের প্রার্থীতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তা আমি জানি না।তবে তারা রিভিউ করার সুযোগ পাবেন বলে জানান। সূত্র : আমাদের বাণী


এখানে শেয়ার বোতাম