শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭
শীর্ষ সংবাদ

ডেঙ্গু : হাইকোর্ট জানতে চান নতুন ওষুধ আনতে কত সময় লাগবে?

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশা নিধনে অধিকতর কার্যকরী নতুন ওষুধ বিদেশ থেকে আনতে কত সময় লাগবে, তা বৃহস্পতিবারের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট।

সারাদেশে ডেঙ্গুর দ্রুত বিস্তারে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত প্রশ্ন করেছেন, ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে- এগুলো কে দেখবে? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী কাজ করছে? সরকার জোরালো কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন?

দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষের আইনজীবীরা অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার পর বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদীর হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেন।

এদিন আদালতে ঢাকা উত্তর সিটির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু ও দক্ষিণ সিটির পক্ষে আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।

এডিস মশা নির্মূলে দুই সিটি করপোরেশনের ভূমিকায় ফের অসন্তোষ প্রকাশ করে শুনানিতে আদালত বলেন, কেউ যদি জেগে ঘুমায়, তাহলে তাকে জাগানো যায় না। দুই সিটি করপোরেশনের অবস্থা হচ্ছে তেমন। মশা নিধনের বিষয়টি আপনারা সিরিয়াসলি নিচ্ছেন না। আপনারা ওষুধ ছিটাচ্ছেন কিন্তু কাজ হচ্ছে না। হাসপাতালে যে হারে প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছে, তাতেও বোঝা যায়, ওষুধ কতটা কার্যকর হচ্ছে।

দুই সিটি করপোরেশনের আইনজীবীদের উদ্দেশে আদালত বলেন, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মশা নিধন কার্যত্রক্রম জোরদার করা উচিত ছিল; কিন্তু আপনারা তা করেননি। আদালতের রুল জারির পর আপনাদের ঘুম ভেঙেছে। এরপর উল্টা-পাল্টা বলতে লাগলেন, পরে সরকারের ধমক খেয়ে চুপ হলেন।

ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে এডিস মশা নির্মূল ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশনকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওষুধ ব্যবহারে মশা নিধন হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনও দিতে বলেছিলেন আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুই সিটি করপোরেশনের আইনজীবীরা অগ্রগতি প্রতিবেদন দেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় প্রতিদিন একটি ওয়ার্ডে ২০ জন করে অভিযান পরিচালনা করছে। জনবল বাড়ানো হয়েছে। ডেঙ্গু মৌসুম থাকা পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। ফলাফল পেতে সময় লাগবে। মশা নিধনে এরই মধ্যে ১৫০টি হ্যান্ড মেশিন আনা হয়েছে। আরও ২৩৮টি ফগার মেশিন আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

এ সময় আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দুই সিটি করপোরেশন তো কাজ করছে, কিন্তু ঢাকার বাইরে যেভাবে ডেঙ্গু ছড়িয়ে গেছে এগুলো কে দেখবে? আপনাদের কাজের জবাবদিহিতা কে করবে?

আইনজীবীরা আদালতকে জানান, ডেঙ্গু নিধনে বিদেশ থেকে অধিকতর কার্যকরী নতুন ওষুধ আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এটা আনা একটা প্রত্রিক্রয়ার বিষয়। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এর মনিটরিং করা হচ্ছে। আদালত বলেন, নতুন ওষুধ কেনার ব্যাপারে কোনো দপ্তর বা বিভাগের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি দেখতে চাই না। এসব আনতে কত সময় লাগবে, তা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জেনে বৃহস্পতিবার আদালতকে জানানো হবে বলে সমকালকে জানান উত্তর সিটির আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম টিপু।


এখানে শেয়ার বোতাম