বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২৬

৯ দিন ধরে আটকে রেখে কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক ::  নরসিংদীর মাধবদীতে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণের পর ৯ দিন আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত রবিবার রাতে অপহরণকারী দলের মূলহোতাসহ অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে ৫ অক্টোবর ওই কিশোরীকে মাধবদী থানার দরগাবাড়ি এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার দেবাই গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. সুজন (২৭), তার সহযোগী একই থানার সাতগ্রাম গ্রামের মধু মিয়ার ছেলে মো. রুবেল মিয়া (২৬), ময়মনসিংহ সদর থানার রহমতপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো: ফয়সাল মিয়া (২০), লালমনিরহাট সদরের চরকুলাঘাপ গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে আছাদুল ইসলাম(১৯) ও মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের চালা গ্রামের নিশাত মোল্লার ছেলে শাকিল মোল্লা (২২)।

পুলিশ ও নির্যাতনের শিকার কিশোরীর পরিবারের লোকজন জানান, ৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই কিশোরীকে মাধবদীর দরগাবাড়ি এলাকার সড়ক থেকে মাইক্রোবাসযোগে অপহরণ করে অজ্ঞাত অপহরণকারী চক্র। অপহরণের চার দিন পর ৯ অক্টোবর কিশোরীর বাবার মোবাইলে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। অন্যথায় কিশোরীকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। কিশোরী উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে তার বাবা বাদী হয়ে গত ১২ অক্টোবর মাধবদী থানায় এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়ের করার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শিবলী কায়েছ মীর মুক্তিপণ দাবি করা মোবাইল নম্বরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নজরদারি শুরু করেন। পরে রুবেল নামে অপহরণকারী চক্রের এক সদস্য মুক্তিপণের টাকা নিতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এসে পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে আটককৃত রুবেলের দেওয়া তথ্যমতে সাভারের গোমাইল উত্তরপাড়ার একটি বাড়ি থেকে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় অপহরণে সহায়তাকারী ফয়সাল, শাকিল ও আছাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হলেও অপহরণকারী দলের মূলহোতা সুজন পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে সর্বশেষ গত রবিবার নারায়ণগঞ্জের ভুলতা-গাউছিয়া থেকে সুজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান বলেন, কিশোরীকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অপহরণ ও গণধর্ষণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারপর আরো তথ্যের জন্য তাদের আদালতের মাধ্যমে দুই দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে আনা হয়েছে।


এখানে শেয়ার বোতাম