শনিবার, মে ৮
শীর্ষ সংবাদ

৭ মাসে বজ্রপাতে প্রাণহানি ২৪৬ জনের: এসএসটিএফ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সাত মাসে বজ্রপাতে বাংলাদেশে ২৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ৯৭। এসব তথ্য দেশের জাতীয় এবং আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা, কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশনের স্ক্রল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এতথ্য জানিয়েছে সেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি এন্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএফ)।

রোববার (০৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের রিচার্জফুল পল্টন সিটি টাওয়ারে সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসএসটিএফ বজ্রপাতের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসএসটিএফ’র সাধারণ সম্পাদক মো. রাশিম মোল্লা বলেন, ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত সারাদেশে বজ্রপাতে ২৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই ৭ মাসে বজ্রাঘাতে আহত হয়েছেন ৯৭ জন। নিহতদের মধ্যে ৩০ জন নারী, ৬ জন শিশু, ৮ জন কিশোর-কিশোরী এবং ২০২ জনই পুরুষ।

প্রত্যেক মাসের পরিসংখ্যান উল্লেখ করেন রাশিম। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে বজ্রপাতে ১০ জন পুরুষ এবং ১ জন নারীসহ নিহত হয়েছেন ১১ জন এবং আহত হয়েছেন ৪ জন পুরুষ, ২জন নারী ও ২জন কিশোরসহ ৮ জন।

মার্চ মাসে ৩ জন পুরুষ ও ২ জন শিশুসহ মারা গেছেন ৫ জন। ২ জন শিশুসহ আহত হয়েছেন ৩ জন।

এপ্রিল মাসে ১৭ জন পুরুষ, ২জন নারী ও ১ জন কিশোরসহ নিহত হয়েছেন ২০ জন। সেই সঙ্গে ৭ জন পুরুষ ও ১ জন নারীসহ আহত হয়েছেন ৮ জন।

মে মাসে ৪৮ জন পুরুষ, ৮ জন নারী ও ১ জন শিশু এবং ৩ জন কিশোরসহ নিহত হয়েছেন ৬০ জন। সেইসঙ্গে ১৫ জন পুরুষ, ৭ জন নারী ও ২ জন শিশুসহ আহত হয়েছেন ২৪ জন।

জুন মাসে ৫০ জন পুরুষ, ১১ জন নারী, ৩জন শিশু ও ২ জন কিশোরসহ নিহত হয়েছেন ৬৬ জন। আহত হয়েছেন ১২ জন পুরুষ, ২ জন নারী, ৩ জন শিশু এবং ১ জন কিশোরসহ ১৮ জন।

জুলাই মাসে ৪৩ জন পুরুষ ও ৪ জন নারীসহ নিহত হয়েছেন ৪৭ জন। আহত হয়েছেন ২৫ জন। এর মধ্যে ২ জন নারী এবং ২৩ জনই পুরুষ।

এছাড়া আগস্ট মাসে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ৩১ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ২ জন শিশুসহ ৩৭ জন। আহত ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী, ১ জন শিশু ও ১ জন কিশোরসহ ১১ জন।

রাশিম আরও জানান, বজ্রপাতে এ বছর সবচেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরা জেলায়। এ জেলায় চলতি বছরে ২২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, কিশোরগঞ্জ, পাবনা, সুনামগঞ্জ, কক্সবাজার, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল জেলায় বজ্রপাতে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এরপর বেশি নিহত হয়েছে বৃষ্টিতে ভেজা ও বজ্রপাতের সময় মাছ ধরতে গিয়ে।

এছাড়া মাঠে গরু আনতে গিয়ে এবং টিন ও খড়ের ঘরে অবস্থান ও ঘুমানোর সময় বজ্রাঘাতেও অনেকের মৃত্যু হয়েছে।

একইসঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় অজ্ঞতাবশত লম্বা গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়ার সময় গাছে বজ্রপাত হওয়ায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের গবেষণা সেলের নির্বাহী প্রধান আব্দুল আলীম বলেন, বজ্রপাত বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই, কারণ এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে এটিকে প্রতিরোধ করা সম্ভব যদি সচেতন হওয়া যায়।

যেসময় বজ্রপাত হবে সেসময় যদি নিরাপদ স্থানে বিশেষ করে ছাদওয়ালা বাড়ি, কিংবা গাছের একটু দূরে অথবা খোলা মাঠে থাকলে মাটির সঙ্গে নুয়ে থাকা যায় তাহলে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি।

আব্দুল আলীম আরও বলেন, সচেতনতার পাশাপাশি প্রতিরোধের জন্য বজ্রপাত নিরোধক দন্ড বসানো উচিত। এটি খুবই কার্যকর। রাজধানীর পুরান ঢাকাতে এসব বজ্র-নিরোধক দন্ড বানানো হয়। এসব বিষয়ে সরকারকে গুরুত্বসহকারে নজর দেয়ার অনুরোধ করেন তিনি।


এখানে শেয়ার বোতাম