মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯

৭ জঙ্গির লক্ষ্য ছিল ‘নাশকতা করে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত’

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 27
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: রাজধানীর দক্ষিণখান থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দল’ ওরফে ‘আল্লাহর সরকার’র নিয়ন্ত্রকও বিভাগীয় নায়কসহ সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে র‌্যাব-১ এর অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিবার র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. আব্দুল হান্নান (৪৯), মেহেদী মোর্শেদ পলাশ (২৮), মো. সোহেল হোসেন (৩১), হাসান মাহমুদ (৩৫), মো. নাজমুল হাসান রাজু (২৪), মো. রেজাউল ইসলাম (৩১) ও মো. রবিউল ইসলাম (৩৩)। তাদের কাছ থেকে জঙ্গি কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধকরণ বই, পাঁচটি মোবাইল ফোন, নগদ ৩৫ হাজার ৮০ টাকা, জঙ্গি কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধকরণ লিফলেট, আয়-ব্যয় ও বিভিন্ন হিসাবের ফরমসহ বিবিধ কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে বলে র্যাব জানায়।

র‌্যাবের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জঙ্গিসংগঠন আল্লাহর দল ওরফে আল্লাহর সরকার এর সদস্য বলে স্বীকার করেছে এবং তাদের মূল লক্ষ্য ছিলো নাশকতা করে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করা।

গত বছরের ১৮ আগস্ট রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে এই জঙ্গি সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আমিরসহ চারজন এবং ২৮ আগস্ট রাজধানীর দক্ষিণখান থেকে সংগঠনের নেতৃস্থানীয় চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাবের দাবি, তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পরিবেশন এবং ভ্রান্ত ইসলামী সংগীতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করে। জঙ্গি কার্যক্রমকে জোরদার করার জন্য তারা আর্থিক কাঠামো তৈরি করেছে। সংগঠনটির যাবতীয় আর্থিক মূলধনের একটি বড় অংশ নামে-বেনামে দেশের বেশ কয়েকটি ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে।

লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে জঙ্গি মতিন মেহেদী ওরফে মুমিনুল ইসলাম ওরফে মতিন মাহবুব ওরফে মেহেদী হাসান ওরফে মতিনুল হকের নেতৃত্বে ‘আল্লাহর দল’ নামক জঙ্গি সংগঠনটি গড়ে ওঠে। ২০১৪ সালে মতিন মেহেদীর গোপন নির্দেশে এর ‘আল্লাহর সরকার’ নামকরণ করা হয়। সংগঠনটি গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের সংবিধানে বিশ্বাসী নয়। তাদের মূল লক্ষ্য অনুকূল পরিবেশে দেশের মধ্যে ব্যাপক নাশকতায় লিপ্ত হয়ে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতের মাধ্যমে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা এবং তাদের নিজেদের কাঠামো অনুযায়ী শাসন ব্যবস্থাগড়ে তোলা।

তিনি আরো জানান, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সর্বোচ্চ পদকে ‘তারকা’ হিসেবে চিহ্নিত করে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পর্যায়ক্রমে রয়েছে অধিনায়ক, অতিরিক্ত অধিনায়ক, উপ-অধিনায়ক, যুগ্ম অধিনায়ক, সহঅধিনায়ক, নিয়ন্ত্রক এবং নির্বাহী প্রভৃতি।

তিনি জানান, আঞ্চলিক কাঠামোতে রয়েছে পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় নায়ক, জেলা নায়ক, থানা নায়ক, গ্রাম নায়ক এবং সদস্য। তাদের মতে, বর্তমানে যুদ্ধাবস্থা চলছে বিধায় তারা ঈদ, কোরবানী, হজ ইত্যাদি পালন করে না। জুমার নামাজ আদায় করে না এবং প্রতি ওয়াক্তের শুধু ২ রাকাত নামাজ আদায় করে। এমনকি ইসলামের কালেমার সঙ্গে শেষ নবীর নাম যুক্ত করার ক্ষেত্রেও তাদের ভিন্নমত রয়েছে।

তারা মনে করে বর্তমান সময়ের জন্য জঙ্গি মতিন মেহেদি আল্লাহর বিশেষ দূত হতে পারে।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মো. আব্দুল হান্নান (৪৯) ২০০৮ সালে মতিন মেহেদীর কাছে বায়াত গ্রহণের মাধ্যমে এই জঙ্গি সংগঠনে যোগদান করে। সেএই সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে। সে ২০১৫ সালে নিয়ন্ত্রক (শপথ প্রতিনিধি) পদে দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং অদ্যবধি একই দায়িত্বে বহাল আছে। মেহেদী মোর্শেদ পলাশ (৩২) ২০০১ সালে মতিন মেহেদীর কাছে বায়াত গ্রহণের মাধ্যমে সে এই জঙ্গি সংগঠনে যোগদান করে পরবর্তীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করে। সে ২০১৯ সালে ‘বিভাগীয় নায়ক’ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং অদ্যাবধি একই দায়িত্বে বহাল আছে। মো. সোহেল হোসেন (৩১) ২০০৮ সালে এই জঙ্গি সংগঠনে যোগদান করে। সে ২০১৭ সালে ‘জেলা নায়ক’ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং অদ্যাবধি একই দায়িত্বে বহাল আছে।

এ ছাড়া হাসান মাহমুদ (৩৫) ২০১৩ সালে এই জঙ্গি সংগঠনে যোগদান করে। ২০১৮ সালে ‘জেলা নায়ক’ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং অদ্যাবধি একই দায়িত্বে বহাল আছে। মো. নাজমুল হাসান রাজু (২৪) ২০১৫ সালে এই জঙ্গি সংগঠনে যোগদান করে। সে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দাওয়াতি কার্যক্রমে অংশ নেয়। সে বর্তমানে ‘থানা নায়ক’ পদে দায়িত্ব পালন করছিল। মো. রেজাউল ইসলাম (৩১) ২০১৫ সালে এই জঙ্গি সংগঠনে যোগদান করে। সে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দাওয়াতি কার্যক্রমে অংশ নেয়। সে বর্তমানে‘থানা নায়ক’ পদে দায়িত্ব পালন করছিল। মো. রবিউল ইসলাম (৩৩) ২০১৯ সালে এই জঙ্গি সংগঠনে যোগদান করে। সে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দাওয়াতি কার্যক্রমে অংশ নেয়। সে বর্তমানে ‘থানা নায়ক’ পদে দায়িত্ব পালন করছিল।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 27
    Shares