রবিবার, মার্চ ৭
শীর্ষ সংবাদ

৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন করার দাবিতে বগুড়ায় ফুলবাড়ি দিবস পালিত

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ফুলবাড়ি দিবস উপলক্ষে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি বগুড়া জেলার উদ্যোগে আজ সোমবার (২৬ আগস্ট) বিকাল ৫ টায় শহরের সাতমাথায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি বগুড়া জেলা আহ্বায়ক জিন্নাতুল ইসলাম, পরিচালনা করেন জেলা কমিটির সদস্য সচিব সাইফুজ্জামান টুটুল। বক্তব্য প্রদান করেন, প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুল হক দুলু, বাসদ জেলা আহ্বায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, গণ সংহতি জেলা সমন্বয়কারী আব্দুর রশিদ, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) নেতা আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আজ ফুলবাড়ি গণঅভ্যুত্থান দিবস। ফুলবাড়ি কয়লাখনির কয়লা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে উত্তোলন ও ৬% রয়েলটির প্রতিবাদে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ির মেহনতি মানুষ এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন করেছিল। ১৯৯৪ সালে ফুলবাড়িকয়লাখনির কয়লা উত্তোলন নিয়ে বিএনপি সরকার অস্ট্রেলিয়ার বি এইচ পি কোম্পানির সাথে অনুসন্ধান চুক্তি করে। বি এইচ পি কোম্পানি ১৯৯৭ সালে তাদের লিজিং লাইসেন্স এশিয়া এনার্জির নিকট বিক্রয় করে দেয়। তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে এশিয়া এনার্জির চুক্তি হয়।

২০০৫ সালে এশিয়া এনার্জি তাদের অনুসন্ধান রিপোট সরকারের নিকট পেশ করে। এই রিপোর্ট কার্যকর হলে এশিয়া এনার্জি ৩০ বছরের জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ি তে কয়লা খনন করতে পারতো, রপ্তানি ও বিক্রয় করার ক্ষমতা এবং পূর্ণ মালিক হতো এশিয়া এনার্জি। বিনিময়ে ৬% রয়েলটি পেত বাংলাদেশ।তখন ৬% রয়েলটি বাংলাদেশকে দিয়ে আর বাকি সবই বহুজাতিক সাম্রাজ্যবাদী কোম্পানি এশিয়া এনার্জি ও তাদের দালালেরা আত্মসাৎ করারর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। কয়লা উত্তোলনের এজাতীয় চুক্তি সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থে রচিত মাইনিং অ্যাক্ট – যে অ্যাক্টে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনে ৬%, সুরঙ্গ পদ্ধতিতে ৫% কয়লাখনির মালিক দেশকে দেয়া, বাকি সব কোম্পানি নেয়া, কোম্পানিকে চিরস্থায়ী লীজ দেয়া – মাইনিং অ্যাক্ট এর ধারায় বলবৎ ছিল। ১৯৮৯ সালে এ-অ্যাক্ট সংশোধন করা হয়, রয়েলটি ২০% করা হয়। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার এশিয়া এনার্জির স্বার্থেই রয়েলটি কমায়ে পুনরায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ৬% করে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ি খনিতে কয়লা উত্তোলন হতে যাচ্ছে , এ অবস্থার প্রেক্ষিতে ২০০৫ সালে ফুলবাড়ি রক্ষা কমিটি গঠন হয়, পরবর্তিতে তেল – গ্যাস – খনিজসম্পদ ও জাতীয় কমিটি ফুলবাড়ি কয়লাখনিতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে।

২০০৬ সালে ২৬ আগস্ট আন্দোলনকারীরা এশিয়া এনার্জি ঘেরাও কর্মসূচি পালন করার জন্য এক সমাবেশ করে, প্রায় ৫০ হাজার মেহনতি জনতা উক্ত সমাবেশে উপস্থিত হয়। আন্দোলনরত জনতাকে সাবেক বিডিআর ( বিজিবি) বাহিনি গুলি করে ৬ জন আন্দোলনকারীকে হত্যা করে, অনেকেই আহত হন। পরবর্তীতে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার ৬ দফা চুক্তি করতে বাধ্য হয় যে চুক্তিতে লেখা ছিল ফুলবাড়ির কয়লা বিদেশিদের হাতে দেয়া যাবে না, উন্মুক্ত পদ্ধিতে তোলা যাবে না, রপ্তানি করা যাবে না এবং আহত-নিহতদের দিতে হবে ক্ষতিপূরন। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী সেইসময় এই আন্দোলন ও ছয় দফার সাথে একমত হয় এবং প্রতিশ্রতি দিয়েছিল তারা ক্ষমতায় গেলে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু ১৩ বছর অতিবাহিত হলো, সেসময় যে চুক্তি হয় তা আজও সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি,সেসময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা দেয়া হয়, তা আজও তুলে নেয়া হয়নি। বরং নতুন করে চীনা কোম্পানী কে এনে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র করার চুক্তি করেছে। যা জন স্বার্থবিরোধী, ফুলবাড়ির রক্তে লেখা ৬ দফা চুক্তির লঙ্ঘন।

নেতৃবৃন্দ নতুন করে এই ষড়যন্ত্র বন্ধ করে অবিলম্বে ফুলবাড়ির ৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন করার দাবি জানান এবং সকল মামলা তুলে নেয়ার দাবি জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম