মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯

৪০তম স্প্যান বসছে কাল, দৃশ্যমান হবে পদ্মাসেতুর ৬ কিলোমিটার

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 2
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে সেতুর ১১ ও ১২ নম্বর পিলারের ওপর ৪০তম স্প্যান বসছে আগামীকাল।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) অনুকূল আবহাওয়া আর কারিগরি জটিলতা দেখা না দিলে একদিনের মধ্যে স্প্যানটি স্থাপন করা সম্ভব হবে। এরজন্য চলছে শেষ ধাপের প্রস্তুতি। স্প্যানটিকে দুই পিলারের ওপর স্থায়ীভাবে বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে সেতুর ৬ কিলোমিটার। এরপর বাকি থাকবে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি স্প্যান বসানো।

৪০তম স্প্যানটি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে। ৩৯তম স্প্যান বসানোর ৮ দিনের মাথায় শুরু হয়েছে এ স্প্যানটি বসানোর কার্যক্রম। আর বিজয়ের মাসে সেতুতে স্প্যান বসানোর কাজটি সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে প্রমত্তা পদ্মা জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। শুরু থেকে নানা বাধা পেরিয়ে এগিয়ে গেছে সেতুর কাজ। আর এখন পদ্মাপাডের মানুষদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার।

প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ৩ হাজার ৬০০ টন ধারণ ক্ষমতার ভাসমান ক্রেনটি ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটিকে বহন করে নিয়ে যাবে। এরপর ৩০-৪০ মিনিট সময় নিয়ে পৌঁছাবে নির্ধারিত পিলারের কাছে। এরপর নোঙর করে পজিশনিং শেষে বসানো হবে সেতুর ১১ ও ১২ ও নম্বর পিলারের ওপর। স্প্যানটিকে বহন করে নিয়ে যাওয়া, নোঙর করা, পজিশনিং সম্পন্ন করা, পিলারের উচ্চতায় তোলা, দুই পিলারের ওপর স্থাপন করার ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে সেতুর ৬ কিলোমিটার। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দুপুর ২টার আগেই এ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী প্রকৌশলীরা। অন্যদিকে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ৪১তম স্প্যান (২-এফ) বসবে সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ওপর। এমন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা।

পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিলো ২০১৪ সালে। আর ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বসানো হয়েছিলও প্রথম স্প্যানটি। এরপর ধাপে ধাপে স্প্যান বসিয়ে এ পর্যন্ত ৩৯টি স্প্যান বসানো হয়েছে। সেতুর মোট পিলার ৪২টি এবং এতে স্প্যান বসবে ৪১টি।

সূত্র জানিয়েছে, মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে বসানো স্প্যানগুলোতে রেলওয়ে স্ল্যাব ও রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজও চলমান আছে। সেতুতে প্রয়োজন হবে ২ হাজার ২৯১৭টি রোডস্লাব। এর মধ্যে নভেম্বর পর্যন্ত বসানো হয়েছে ১২৩৯টির বেশি স্ল্যাব। রেলওয়ের জন্য প্রয়োজন হবে ২৯৫৯টি রেলস্লাব। এ পর্যন্ত বসানো হয়েছে ১ হাজার ৮৬০টির বেশি স্ল্যাব। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মাসেতুর কাঠামো। সেতুর ওপরের অংশে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 2
    Shares