বৃহস্পতিবার, মে ১৩
শীর্ষ সংবাদ

৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত ৩০৯টি শ্রেণিকক্ষ পাঠাগারের উদ্বোধন

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত ৩০৯টি শ্রেণিকক্ষ পাঠাগারের শুভ উদ্বোধন।

রুম টু রিড বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়িত সাক্ষরতা কর্মসূচির অর্ন্তভূক্ত ঢাকা জেলার নতুন বিদ্যালয়সমূহে স্থাপিত ৩০৯ টি শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব সোহেল আহমেদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক জনাব রহমত আলী, থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মো. ইফতেখার হোসেন ভূঁইয়া, বিভাগীয় উপ-পরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা, ঢাকা বিভাগ। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জনাব বদরুজ্জামান খান, প্রোগ্রাম অপারেশন ডিরেক্টর, রুম টু রিড বাংলাদেশ।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর মাননীয় অতিরিক্ত মহাপরিচালক, জনাব সোহেল আহমেদ (অতিরিক্ত সচিব) তার বক্তব্যে বলেন, “রুম টু রিড তার কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের শিক্ষার উন্নয়নে কার্যকরী ভুমিকা রাখছে। শিশুদের লেখাপড়ার উন্নয়নে, স্কুলের উন্নয়নে সর্বপরি শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধি করেছে। ২০২০ সালের মধ্যে ৭০% শিক্ষার্থী যেনো রিডিং পড়তে পারে সেই লক্ষ্যেকে সামনে রেখে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, রুম টু রিড এর কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার উন্নয়নেসহায়ক ভুমিকা পালন করছে। সবার জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার
বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রুম টু রিড শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি ভুমিকা রাখছে। রুম টু রিড-এর কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার তার সার্বিক সহযোগিতা অব্যহত রাখবে”।

অনুষ্ঠানের সভাপতি, রুম টু রিড বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম অপারেশন ডিরেক্টর জনাব বদরুজ্জামান খান স্বাগত বক্তব্যে মানসম্মত শিক্ষার উন্নয়ন এবং শিক্ষালাভের জন্য শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ ও শিশুবান্ধব পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন। তিনি বলেন, সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে চলমান কর্মসূচি ত্বরান্বিত করে শিশুদের দক্ষ ও স্বাধীন পাঠক হয়ে গড়ে তুলতে রুম টু রিড বাংলাদেশ প্রাথমিক স্তরের বাংলা বিষয়ের শিখন-শেখানো কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জনাব রহমত আলী পড়ার অভ্যাস গঠনে শ্রেণিকক্ষ পাঠাগারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি আরো বলেন, শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার স্থাপন করে রুম টু রিড শিশুদের পড়ার অভ্যাস এবং দক্ষতার উন্নয়নকে আরেক ধাপ এগিয়ে দিল যা সত্যি প্রসংশার দাবিদার। সেই সাথে তিনি শিক্ষকদের প্রমিত ভাষায় কথা বলার জন্য পরামর্শ দেন।

প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ইফতেখার হোসেন ভূঁইয়া বলেন- রুম টু রিড প্রকাশিত বইসমুহ শিশুদের নিকট খুবই পছন্দনীয় এবং আকর্ষণীয়। শ্রেণি কক্ষে যে ভাবে পাঠাগার স্থাপন করে শিশুদের নাগালের মধ্যে বই পৌঁছে দেয়া হয়েছে তা সত্যিই অসাধারন উদ্যোগ। গল্পের বইগুলি পড়ে শিক্ষার্থীরা যাতে বুঝতে পারে তার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকারর পক্ষ থেকে এ কার্যকম বাস্তবায়নে যে সহযোগিতা করা হচ্ছে তা ভবিষ্যৎতে ও অব্যাহত থাকবে।

রুম টু রিড বাংলাদেশের সাক্ষরতা কর্মসূচি-এর পরিচালক জনাব জিল্লুর রহমান সিদ্দিকি পড়ার দক্ষতা উন্নয়ন এবং অভ্যাস গঠনে রুম টু রিড বাংলাদেশের ভূমিকা সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শাখাওয়াত এরশাদ, সহকারি জেলা শিক্ষা অফিসার, ঢাকা। সবশেষে, বাংলাদেশের শিশুদের পঠন দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আলোচনার সভার সমপনী করেন রুম টু রিড বাংলাদেশের ঢাকা ফিল্ড অফিসের ম্যানেজার জনাব এম এম সাইখুলুজ্জামান। সভা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, রুম টু রিড একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা যা বর্তমানে ঢাকা জেলায় ২৩৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার স্থাপন, শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ প্রকাশনা ও সরবরাহের মাধ্যমে ২০১৫ সাল থেকে শিশুদের পঠন দক্ষতা ও পড়ার অভ্যাস তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। সাক্ষরতা কর্মসূচীর আওতায় বাংলাদেশে ইতিমধ্যে ১ হাজারের বেশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩ লক্ষ শিশুর সাথে সরাসরি কাজ করেছে।


এখানে শেয়ার বোতাম