রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮
শীর্ষ সংবাদ

৩ আদিবাসী সাঁওতাল হত্যার বিচার দাবিতে গোবিন্দগঞ্জে বিক্ষোভ-সমাবেশ

এখানে শেয়ার বোতাম

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্মে ৩ আদিবাসী সাঁওতাল হত্যাকাণ্ড দিবস উপলক্ষে হত্যাকাণ্ডের বিচার ও পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৪ নভেম্বর) উপজেলার শহীদ মিনার চত্বরে এই বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন, জনউদ্যোগ ও আদিবাসী বাঙ্গালী সংহতি সমাবেশ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

সমাবেশ উপলক্ষে সহস্রাধিক আদিবাসী সাঁওতাল-বাঙালি নারী পুরুষ লাল পতাকা নিয়ে মাদারপুর জয়পুর হয়ে কাটামোড় দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ হেটে সমাবেশ স্থলে উপস্থিত ছিলেন।

সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খান, এ্যাপিলেড বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নেজামুল হক নাসিম, এল আরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগি শিক্ষক অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ, গাইবান্ধার আহবায়ক এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি শাহাদত হোসেন লাকু, জন উদ্যোগ এর জেলা সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম, সিপিবির জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মুরাদ জামান রব্বানী, এ্যাডভোকেট মিনহাজ, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ নেতা গোলাম রব্বানী মুসা, আদিবাসী নেতা রিনা মার্ডি, রাফাইল হাযা প্রমূখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন সাঁওতাল নেত্রী প্রিসিলা মুর্মু ।

সমাবেশে সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা, প্রবীণ শ্রমিক নেতা মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, এদেশ সকলের, এদেশের সব ধর্ম, বর্ণের নারী পুরষ সবাই মিলে দেশটাকে স্বাধীন করেছি। স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সাঁওতালদের ভূমি অবিলন্বে ফিরিয়ে দিতে হবে।

তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ভূমি দস্যুরা দেশের অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করে, জনগণকে সাথে নিয়ে এদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না নিতে পারলে সরকারও ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।

অবিলন্বে সাঁওতালদের পৈত্রিক সম্মত্তি ফেরত দিয়ে ৩ আদিবাসী সাঁওতাল হত্যার বিচার দাবি জানান তিনি।

সমাবেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নেজামুল হক নাসিম বলেন, সাঁওতালদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে সাঁওতালদের পৈত্তিক সম্পত্তিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার যে স্বপ্ন দেখছেন তা কখনই সম্ভব নয়। সাঁওতালরা এদেশেই থাকবে, তাদের পৈত্তিক সম্পত্তিতেই থাকবে।

সমাবেশে সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ বলেন, তিন বছর আগে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আদিবাসী পল্লীতে পুলিশের গুলিতে নিহত ৩ সাঁওতাল শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডি ও রমেশ টুডু নিহত হন। আহত হন অসংখ্য সাঁওতাল, সেদিন অগ্নিসংযোগ,নির্যাতনর ঘটনা ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধেই সেদিন মামলা করেন থমাস হেমব্রম। বিশ্বব্যাপী মিডিয়া সেইসব ছবি প্রচার করেছে।
তারপরও সেই পুলিশকে চার্জশীট থেকে বাদ দেয়া হলো কেন, সেই প্রশ্ন আজ সবার মুখে মুখে। তিনি অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করেন।

সাঁওতাল নেতা ফিলিমন বাসকে বলেন, তিন সাঁওতাল হত্যাকান্ডের তিন বছর হয়ে গেল। আজও সম্পত্তি ফেরৎ কিংবা বিচারের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হলো না। অবিলন্বে পৈত্তিক সম্পত্তি ফেরত ও সাঁওতাল হত্যাকান্ডের আসামীদের গ্রেফতার করা না হলে আগামিতে আমরা সাঁওতাল-বাঙ্গালিরা মিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে সরকারকে বাধ্য করবো।

এদিকে ইতোপূর্বে তিন সাঁওতাল হত্যাকান্ড সম্পর্কে আদালতে দেয়া পিবিআইয়ের চার্জশীটের বিরুদ্ধে বাদি থমাস হেমব্রম না রাজি জানিয়ে যে আবেদন করেছিলেন, গতকাল গোবিন্দগঞ্জ জুডিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্রের কোর্টে সেই আবেদনের শুনানী হয়। বাদী পক্ষের আইনজীবি সিরাজুল ইসলাম বাবু জানান, না রাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত আগামী ২৩ ডিসেম্বর আদেশের দিন তারিখ ধার্য করেন।


এখানে শেয়ার বোতাম