রবিবার, মে ১৬
শীর্ষ সংবাদ

২৮৮ দিন অনশন করে মৃত্যু, বুলেক সত্যিকারের শহীদ

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 687
    Shares

অধিকার ডেস্ক :: হেলেন বুলেক। তিনি একজন কুর্দি। তাদের একটা মিউজিক ব্যান্ড গ্রুপ রয়েছে। নাম ইয়োরাম। ইয়োরাম তুরস্কের একটি বিখ্যাত বামপন্থী ব্যান্ড গ্রুপ। এই দলটির ২৩টি আ্যলবাম রয়েছে। ও একটি সিনেমা। তিন বছর আগে এই দলের ৩০ জন সদস্যকে তুর্কি পুলিশ আটক করে। তারা এখনো তুর্কি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

১৯৮৫ সালে ইস্তানবুল শহরে তৈরি হয় গানের দল গ্রুপ ‘ইয়োরাম’ ব্যান্ড গ্রুপ। সেই ব্যান্ড ও তাঁদের অনেক গানের অ্যালবাম নিষিদ্ধ করেছে এরদোগান সরকার। হেলেন তার সহযোদ্ধাদের মুক্তির দাবিসহ দলের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে একটানা ২৮৮ দিন অনশন করে গতকাল ৩ এপ্রিল মারা গিয়েছেন। তুরস্কের এরদোগান সরকার সঙ্গীত শিল্পীদের কোনো দাবি মেনে নেয়নি।

সঙ্গীত শিল্প জগতের অন্যতম কুলীন মাধ্যম। জন মানুষের সবথেকে মননগ্রাহী মাধ্যমও বটে। গান ভালবাসেন না এমন হৃদয় খুঁজে পাওয়াই কঠিন। পৃথিবীতে তাই বহু বিপ্লবে, বহু আন্দোলনেই হাতিয়ার হয়েছে গান। বোধহয় সেই কারণেই ফ্যাসিবাদী শোষণযন্ত্র চিরকাল গানকে একটু ভয়ই করে এসেছে। মনে পড়ে হীরক রাজার দেশের সেই গায়ক চরণ দাসের কথা? হীরক রাজা কেমন মুখ বন্ধ করে দিতে চাইল, তবুও তার গান থামল না। শিল্পের সাথে লড়াইয়ের সম্পর্কটা আসলে যে এমনই, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন তুর্কিশ গায়িকা হেলেন বুলেক। নিজের প্রাণের বিনিময়ে জিতে নিলেন অগণিত ভক্তের মন, সঙ্গে লড়াই করার স্পৃহা দিয়ে গেলেন লাখ লাখ শিল্পপ্রেমীর মনে।

‘ইয়োরাম’ ব্যান্ড গ্রুপ শুধু তুর্কিতে নয়, তারা জনপ্রিয় ছিল পৃথিবীর বহু দেশ জুড়েই। জার্মানি, অস্ট্রিয়্‌ ফ্রান্স, ইতালি, বেলজিয়ামের মতো দেশে তারা অনুষ্ঠান করেছে। শুধু গান নয়, অন্যান্য শিল্প মাধ্যমের সঙ্গেও তাদের যোগ ছিল ঘনিষ্ঠ। ‘তাভির’ নামের একটি ম্যাগাজিন তারা বের করেছে বহু বছর। কুর্দিশ ও তুর্কিশ লোক সঙ্গীতের এই দলটির মূল বিষয় ছিল পুঁজিবাদের বিরোধিতা, সাথে সরকারের অন্যায়ের তীব্র সমালোচনা। আর সেই কারণেই বোধহয় দক্ষিণপন্থী শাসকের রোষানলে পড়া। এক নিষিদ্ধ মার্কসবাদী সংগঠনের সঙ্গে ইয়োরামের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগ এনে এই জনপ্রিয় দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় তাদের সবকটি গান। বিভিন্ন সময়ে দলের বহু সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৯ এর শুরুতে হেলেন বুলেককে বন্দী করে তুর্কিশ সরকার। বন্দী দশাতেই হেলেন শুরু করেন অনশন। পরে মুক্তি পেলেও অনশন চালিয়ে যান একই ভাবে। অবশেষে ২৮৮ দিন টানা অনশনের পর শুক্রবার মারা যায় হেলেন বুলেক। তার মৃত্যুতে গোটা বিশ্বের শিল্পজগতে শোকের ছায়া। ইয়োরামের পক্ষ থেকে এই মৃত্যুর জন্য শাসককেই দায়ী করেছে তারা। প্রতিবাদ মুখর নেটিজেনদের কাছে বুলেক একজন সত্যিকারের শহীদ।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 687
    Shares