রবিবার, জানুয়ারি ২৪

২৫ জুলাইয়ের আগেই মজুরি ও ঈদ বোনাস পরিশোধ কর : স্কপ

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 20
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল শ্রমিকের বকেয়াসহ প্রাপ্য বেতন-বোনাস ২৫ জুলাই এর মধ্যে পরিশোধের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। জাতীয় প্রেসক্লাবের সমানে এক মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২০) শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর উদ্যোগ্য সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সমানের সড়কে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সংক্ষিপ্ত পরিসরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারি ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু এর সভাপতিত্বে এবং স্কপের যুগ্মসমন্বয়কারি ও জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নঈমুল আহসান জুয়েল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শহিদুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট এর সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল আহসান, জাতীয় শ্রমিক জোটের কার্যকারী সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের দপ্তর সম্পাদক সাহিদা পারভিন শীখা প্রমূখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা সংক্রমণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কে স্থবির করে ফেলেছে। বিশেষত শ্রমজীবী মানুষদের জীবনকে চরম হুমকির মধ্যে ফেলেছে। শ্রমিকদের অপ্রতুল আয় সাধারন অবস্থায় দৈনিক জীবনযাপনের প্রয়োজন মেটাতে পারেনা। করোনা সংক্রমনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলার ব্যায় তাদের কাছে মরার উপর খাড়ার ঘাঁ সমতুল্য। এই সময় উৎপাদনের প্রধান চালিকা শক্তি শ্রমজীবী মানুষকে রক্ষায় শিল্প মালিকদের দায়িত্ব ছিল শ্রমিকদের উপার্জনের সুযোগ বৃদ্ধি করা, তাদের নিয়মিত আয়ের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা। কিন্তু অধিকাংশ শিল্প, প্রতিষ্ঠান, পরিবহনের মালিক সম্পুর্ণ বিপরিত আচরণ করেছেন। তারা শ্রম আইনের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামত শ্রমিক ছাঁটাই করেছেন, বিনাবেতনে ছুটির মাধ্যমে উপার্জন বঞ্চিত করেছেন, বেতন- বোনাস কর্তন করেছেন , পুরাতন শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট/ গ্রাচ্যুয়টি থেকে বঞ্চিত করতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। মালিকদেও এই ধরণের বর্বও আচরনের নিন্দা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন ঈদুল ফিতরের সময়ের মত শ্রমিকদের সাথে হয়রানিমূলক আচারন করলে কঠিন জবাব দেওয়া হবে।

নেতৃবৃন্দ পর্যটন শ্রমিক, রি-রোলিং ও স্টিল মিল শ্রমিক, পরিবহণ শ্রমিক, নৌযানশ্রমিক, চা-শ্রমিক, গৃহকর্মী, সেলুন কর্মী, হোটেল-রেঁস্তোরার কর্মী, হস্তশিল্পী, ছাপা-মুদ্রণ ও বাঁধাই শ্রমিক, স্বর্ণকার, দর্জিশ্রমিক, হকার, দোকানকর্মচারীসহ প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল শ্রমিকের প্রাপ্য বেতন-বোনাস ২৫ জুলাই এর মধ্যে পরিশোধের আহবান জানান। গার্মেন্টস মালিকরা বোনাস পরিশোধের জন্য ২৭ জুলাই এবং চলতি মাসের বেতন পরিশোধের জন্য ৩০ জুলাই পর্য়ন্ত সময় নিয়েছেন কিন্তু শেষ সময়ের সুযোগ নিয়ে ফাঁকি দেওয়ার যেকোন চেষ্টা হলে পরিণতি ভালো হবেনা বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারন করেন।

নেতৃবৃন্দ শ্রম আইনের অপপ্রয়োগ কওে যে সব মালিক শ্রমিক ছাঁটাই করেছে ও কারখানা লে-অফ করেছে সে সব মালিকদের শাস্তি এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও ইতিমধ্যে যাদের ছাঁটাই করা হয়েছে তাদের কাজে পুনর্বহাল করার দাবি জানানোর পাশাপাশি করোনা দুর্যোগে কর্মহীন ও বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকদের জন্য শ্রম আধিদপ্তরের মাধ্যমে এককালিন সহায়তা ও রেশনের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 20
    Shares