১ শতাংশ মানুষ ৯৯ ভাগ মানুষের সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে, চট্টগ্রামে সিপিবি জনসভায় সেলিম -
 

১ শতাংশ মানুষ ৯৯ ভাগ মানুষের সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে, চট্টগ্রামে সিপিবি জনসভায় সেলিম

Pronob paul 11:48 pm সংগঠন সংবাদ,
Home  »  জাতীয়জাতীয়রাজনীতিসংগঠন সংবাদ   »   ১ শতাংশ মানুষ ৯৯ ভাগ মানুষের সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে, চট্টগ্রামে সিপিবি জনসভায় সেলিম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:: সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, ‘দেশ আজ দুইভাগে বিভক্ত। একদিকে এক শতাংশ লুটেরা ধনী, আরেকদিকে ৯৯ শতাংশ শ্রমিক-কৃষক, মেহনতী মানুষ। আমাদের সংগ্রাম হচ্ছে- ৯৯ ভাগ মানুষকে দেশের ৯৯ শতাংশ সম্পদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার। এক শতাংশ মানুষ ৯৯ ভাগ মানুষের সম্পদ লুটেপুটে খাবে, এটা মেনে নেব না জানিয়ে তিনি বলেন, এই সরকার দ্বারা লালিত কিছু কুলাঙ্গার এইদেশের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। বিদেশে সম্পদ পাচার বন্ধ করার জন্য একাত্তর সালে যদি অস্ত্র হাতে নিয়ে মুক্তিসংগ্রাম করা যদি ন্যায়সঙ্গত হয়ে থাকে, বাংলার সম্পদ বাংলায় রাখার জন্য একইভাবে মুক্তিসংগ্রামের নতুন অধ্যায় রচনা করা সমস্ত জনগণের কাছে একটা ফরজ কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে বিভাগীয় জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গণতন্ত্রহীনতা ও লুটপাট রুখো : দেশ বাঁচাও স্লোগানে দেশের ৮টি বিভাগে ‘দেশ রক্ষা অভিযাত্রা’ কর্মসূচি শুরু করেছে সিপিবি। এর অংশ হিসেবে প্রথম জনসভা হয়েছে চট্টগ্রামে।

‘আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পার করতে চলেছি। এই ৫০ বছরে আমরা আওয়ামী লীগ-বিএনপি-সামরিক শাসন দেখেছি। আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুটোই বুর্জোয়া লুটেরা দল। এদের হাতে মুক্তিযুদ্ধে অর্জন নিরাপদ নয়। এদের হাতে গরীব-মেহনতি মানুষের মুক্তি আসবে না। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল। সেই দল এখন বিশ্বাসঘাতকদের নেতৃত্ব দেওয়ার দলে পরিণত হয়েছে।’

মানুষকে ঘর ছেড়ে রাজপথে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে সেলিম বলেন, ‘আপনারা জেগে উঠুন। অমুক আপা, তমুক ভাইয়ের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের মুক্তির সংগ্রাম নিজেরাই শুরু করুন। হাসিনা আপা-খালেদা আপা আপনাদের মুক্তি এনে দেবে না। এসব কথা আমরা অতীতেও বলেছি, বারবার বলছি। এখন আমরা আর শুধু কথা বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব না। আমরা এখন যে আন্দোলনের সূচনা করছি, সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বুর্জোয়া-লুটেরা ধারার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে বামপন্থীদের নেতৃত্বে বিকল্প সরকার আমরা প্রতিষ্ঠা করব।’

বিকল্প সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে সেলিম বলেন, ‘বিকল্প শিক্ষানীতি কি হবে, বিকল্প বাণিজ্য নীতি কি হবে, বিকল্প কৃষিনীতি কি হবে , বিকল্প অথনৈতিক নীতি কি হবে- এটা আমাদের লেখা আছে। তারপরও আমরা সেটা আরও সুনিদিষ্ট করছি। আমাদের দলের ভেতরে, বামপন্থীদের ভেতরে যথেষ্ঠ সংখ্যক দক্ষ, অভিজ্ঞ, জ্ঞানী, সাহসী ও পরীক্ষীত লোক আছে। তাদের দিয়ে বিকল্প ছায়া মন্ত্রীসভা গঠনের কাজও আমরা শুরু করেছি। একইসঙ্গে গ্রামে-গ্রামে, সারা দেশব্যাপী স্থানীয় ও জাতীয় দাবিতে আন্দোলনের ধারা জোরদার করব। সংগ্রামের ধারায় মেহনতী মানুষ ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করব।’

আরেকটি গণজাগরণের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-বাজারে জনগণের মধ্যে প্রচারণা চালাব। আরেকটি গণজাগরণের তৈরি করতে হবে। ৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল বলে এর ধারায় আমরা একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। বামপন্থী দলগুলোকে বলছি- আপনারাও আসুন, একত্রিত হোন। আমাদের জোটে ৮টা দল আছে। সেটা আস্তে আস্তে বাড়বে।’

‘এদেশের ঘরে ঘরে ভাসানী, মণি সিংহ, কর্ণেল তাহের, অমল সেন, মোজাফফর আহমেদের অনুসারী বামপন্থীরা আছেন। আমরা যদি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে একজোট হতে পারি, তাহলে কালকেই বামপন্থীরা আওয়ামী লীগ-বিএনপির বিকল্প শক্তি হতে পারব এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পারব। জনগণকে বলতে চাই, সবাই দেশ-জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। কিন্তু একজন কমিউনিস্ট কখনো সেটা পারে না। একজন কমিউনিস্ট নিজের জীবন থাকতে কখনো জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে না।’

খন্দকার মোস্তাক-জিয়া-এরশাদের ধারায় শেখ হাসিনা দেশ চালাচ্ছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশকে পাকিস্তানি ধারায় নিয়ে গিয়েছিলেন খন্দকার মোস্তাক। তার পথ অনুসরণ করেছেন জিয়াউর রহমান, পরবর্তীতে এরশাদ। ৯০ সালে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর খালেদা জিয়াও জামায়াতকে নিয়ে একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ধারায় দেশ পরিচালনা করেছেন। আমি শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞেস করতে চাই- আপনি কি বঙ্গবন্ধুর চার নীতি অনুসরণ করে দেশ চালাবেন না কি মোস্তাক-জিয়া-এরশাদ-খালেদার পথ ধরে দেশ চালাবেন ? আপনি বলেছেন মদিনা সনদে দেশ চালাবেন। হিম্মত থাকলে সংবিধানে মদিনা সনদ লিখে দেখান।’

ক্ষমতার লোভে খালেদা জিয়ার মতো শেখ হাসিনাও জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন মন্তব্য করে সেলিম বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেন এসেছিল অজনপ্রিয় খালেদা জিয়ার ক্ষমতার লোভের কারণে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে অজনপ্রিয় হয়ে পড়ে এবং ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এমন নির্বাচন করেন, যেখানে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য বিনা ভোটে নিবাচিত হন। পরেরবার তিনি ফন্দি পাল্টালেন। তিনি এবার ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ২৯ ডিসেম্বর করে ফেললেন। মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা ৬৮ হাজার গ্রামের ১৬ কোটি মানুষকে নিয়ে সংগ্রাম গড়ে তুলব।’

একই জনসভায় সিপিবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শাহআলম বলেন, ’৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর আমরা আওয়ামী লীগকে দেখেছি, বিএনপিকে দেখেছি। জামায়াতকে আমরা ১৯৭১ সালেই দেখেছি। আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে জনগণ ৩০ বছর দেখেছে। আমরা এখন আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে বিকল্প শক্তি গড়ার সংগ্রামে নেমেছি। জোট-মহাজোটের বাইরে বিকল্প শক্তি গড়ার সংগ্রামে নেমেছি। আমরা জানি এই পথে সংগ্রাম কঠিন তবে অনিবার্য। এই সংগ্রামে জয়ী হয়ে বামপন্থীরা ক্ষমতায় যাবেই।’

সিপিবির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মৃণাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহার পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী ও আবদুল্লাহ আল কাফী রতন, কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন আহমেদ, রাঙামাটির সাধারণ সম্পাদক অনুপম বড়ুয়া শঙ্কর, লক্ষ্মীপুরের সাধারণ সম্পাদক সুদেব শর্মা, কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক পরেশ কর, চাঁদপুরের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মিয়াজী, ফেনীর সাধারণ সম্পাদক মহিবুল হক রাসেল, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার সভাপতি সাজেদুল ইসলাম এবং নোয়াখালী জেলার সভাপতি শহীদ উদ্দিন বাবুল।

উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের শিল্পীদের জাতীয় ও গণসঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জনসভা। মঞ্চে সিপিবির জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, উত্তম চৌধুরী, অমৃত বড়ুয়া, নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়া, ফরিদুল ইসলামসহ কমিটির সদস্যরা ছিলেন।

জনসভা শেষে লালদিঘী থেকে মিছিল নিয়ে সিপিবির নেতাকর্মীরা কোতোয়ালী মোড়, নিউমার্কেট হয়ে স্টেশন রোড পর্যন্ত যান।