মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১

১৭ দফা দাবিতে সিলেটে সিপিবি’র পদযাত্রা

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: জনগণের ভোটাধিকার, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় দখলমুক্ত, রেল-সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ, জাতীয় ন্যুনতম মজুরী ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ, ভূমিহীন ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের উপর জুলুম-নির্যাতন বন্ধ, ভারতের সাথে জাতীয় স্বার্থবিরোধী অসমচুক্তি বাতিলসহ ১৭ দফা দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটি’র (সিপিবি) ডাকে দেশব্যাপী পদযাত্রা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ১৬ নভেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় সিপিবি সিলেট জেলাধীন শাহপরান থানা শাখার উদ্যোগে ১০ কিলোমিটার পদযাত্রা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

পদযাত্রার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিলেট জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ কমরেড বেদানন্দ ভট্টাচার্য।

নগরীর শিবগঞ্জ পয়েন্টে পথসভার মাধ্যমে এ পদযাত্রা শুরু হয়ে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে খাদিমনগরে গিয়ে পথসভার মাধ্যমে প্রথমদিনের মতো এ কর্মসূচি সমাপ্ত হয়। সিপিবির নেতা-কর্মিবৃন্দসহ বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ লাল পতাকা এবং জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্লেকার্ড হাতে নিয়ে পদযাত্রায় অংশ নেন। এছাড়াও বিভিন্ন দাবি সংবলিত লিফলেটও বিতরণ করা হয়।

এসব পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশ আজ এক ভয়াবহ সংকটে নিমজ্জিত। পুরো যুবসমাজ কর্মসংস্থানের অভাবে অন্ধকারের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। যে কারণে যুবকদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন সৃষ্টি হচ্ছে। সমাজে উঁচু-নীচু শ্রেণিগত বিভেদ তৈরি করে রাখা হয়েছে। মৌলবাদীদের প্রেসক্রিপশনে পাঠ্যপুস্তকে সা¤প্রদায়িকতার বীজ বপন করা হচ্ছে। আর্থিক বৈষম্য ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের ভূমি দখলসহ তাদের উপর জুলুম-অত্যাচার এবং শিশু ও নারী হত্যা-নির্যাতন নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রমবর্ধমান নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে দোষীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার এবং ভূমিহীন ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করাসহ শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরী ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং ধান-গমসহ সকল কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য বক্তারা জোর দাবি জানান।

এছাড়াও প্রয়োজনীয় ডাক্তার-নার্সসহ অন্যান্য স্টাফ নিয়োগদানের মাধ্যমে খাদিমনগরস্থ শাহপরান হাসপাতাল অবিলম্বে চালু, খাদিমনগরে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পনগরী গড়ে তোলা, আবাসিক গ্যাস সংযোগ প্রদান পুনরায় চালুকরণ, এমসি কলেজ এবং সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, সিলেট-আখাউড়া বিদ্যমান রেলপথ সংস্কার করে ডাবল লাইনে উন্নীতকরণের জন্য বক্তারা দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র বর্তমানে ফ্যাসিবাদী রূপ ধারণ করেছে। ক্ষমতাসীনদের সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতা-কর্মিরা ক্রাইমসিন্ডিকেট তৈরি করে ক্যাসিনো বানিজ্যসহ টেন্ডারবাজি চাঁদাবাজির মাধ্যমে দেশকে লুটপাটের রাজত্বে পরিণত করেছে। ভারতের সাথে অসম চুক্তি বাতিলের আহবান জানিয়ে তারা বলেন, তিস্তার পানি বণ্টনের ন্যায্য চুক্তির জন্য বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে এলেও সরকার ভারতের কাছ থেকে তা আদায় করতে সক্ষম হয়নি। বরং অসম চুক্তির মাধ্যমে উল্টো ফেনী নদীর পানি ভারতকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে লুটপাট দুর্নীতি গণতন্ত্রহীনতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং শোষণমুক্ত সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাস্তে মার্কায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোরালো আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য ছাত্র-জনতার প্রতি বক্তারা আহবান জানান।

পথসভাগুলোতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সিপিবি সিলেট জেলা কমিটির সংগ্রামী সভাপতি কমরেড হাবিবুল ইসলাম খোকা, সাধারণ সম্পাদক কমরেড আনোয়ার হোসেন সুমন, সহ-সাধারণ সম্পাদক কমরেড খায়রুল হাছান, জেলা নেতা ডা. বীরেন্দ্র চন্দ্র দেব, সাথী রহমান, এনায়েত হাসান মানিক, তুহিন কান্তি ধর, নিরঞ্জন দাস খোকন, তপন চৌধুরী, এডভোকেট ফজলুর রহমান শিপু, রুহিনা পারভীন, বিধান দেব চয়ন, বি এইচ আবীর, যুবনেতা রশীদ আহমদ রাশেদ, সন্দ্বীপ দেব, ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদের সভাপতি সরোজ কান্তি, সাধারণ সম্পাদক নাবিল এইচ, মহানগর সংসদের সভাপতি হাছান বক্ত চৌধুরী কাওছার, সাধারণ সম্পাদক বিশাল দেব, সহ-সাধারণ সম্পাদক মনীষা ওয়াহিদ, এমসি কলেজ সংসদের সভাপতি পঙ্কজ চক্রবর্তী জয়, মদনমোহন কলেজ সংসদের সভাপতি অণির্বাণ রায়, মোহাইমিনুল ইসলাম মাহিন প্রমুখ।


এখানে শেয়ার বোতাম