বুধবার, জানুয়ারি ২৭

১৭শ টাকা দিয়েও মেলেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড

বয়স্ক ভাতার কার্ড
এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: কথা ছিল মহিলা মেম্বার আলেয়া খাতুনকে তিন হাজার টাকা দিলে তিনি ছায়দার হোসেনকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেবেন। মেম্বারের শর্ত মেনে তিন মাস আগে ছায়দার হোসেন ধার করে তাকে ১৭শ টাকা অগ্রিম দেন। কিন্তু ২০২০-২১ অর্থবছরে নতুন কার্ড করা সম্পন্ন হলেও ছায়দারের কপালে ভাতার কার্ড জোটেনি। এ ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খাঁন মরিচ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে।

ছায়দার হোসেন ও মহিলা মেম্বার একই গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় ছায়দার হতাশ ও ক্ষুদ্ধ হয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ২৩ জুলাই লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং খান-মরিচ ইউনিয়নের সংরক্ষিত ইউপি সদস্যা আলেয়া খাতুন ছায়দার হোসেনকে একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার শর্ত ছিল তাকে তিন হাজার টাকা দিতে হবে। অসহায় ছায়দার তিন হাজার টাকা একেবারে দিতে না পারায় অগ্রিম ১৭শ টাকা দেন। এ টাকা প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধার করে ইউপি সদস্যা আলেয়াকে তিনি দেন।

এদিকে ভুক্তভোগী ছায়দার হোসেন সোমবার (২৭ জুলাই) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেম্বার আলেয়া বলেছিলেন বয়স্ক ভাতা কার্ড পেতে হলে ৩ হাজার টাকা খরচ লাগবে। আমরা গ্রামের মুখ্য-সুখ্য মানুষ, কিছুই বুঝি না। নিরুপায় হয়ে তিন মাস আগে তাকে ১৭০০ টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্ড পাইনি।

খাঁন মরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছাদুর রহমান বলেন, বিষয়টি সমাজসেবা অফিসারের মাধ্যমে তিনি শুনেছেন। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ছায়দার হোসেনের স্ত্রী স্বামীর পক্ষে এ অভিযোগটি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

ইউপি সদস্য আলেয়া খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়ার নামে আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ আশরাফুজ্জামান জানান, ২৩ জুলাই তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। তিনি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।


এখানে শেয়ার বোতাম