শনিবার, এপ্রিল ১৭
শীর্ষ সংবাদ

১০ দিন সাগরে ভেসে ট্রলার মিয়ানমারে

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক::বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ইঞ্জিল বিকল হয়ে নিখোঁজ দুটি ট্রলার মাঝিমাল্লাসহ সন্ধান মিলেছে মিয়ানমারে। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে খবর পেয়ে রোববার দুপুরের পর টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ট্রলারসহ ৩২ মাঝিমাল্লাকে ফিরিয়ে এনেছে কোস্টগার্ড। এমনটি জানিয়েছেন নিখোঁজ এফবি বাকলিয়া-১ নামের ফিশিং বোটের মালিক আবদুল হামিদ।

বোটমালিক আবদুল হামিদ জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারার উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা থেকে ১৯ মাঝিমাল্লা নিয়ে গত ১৬ জানুয়ারি সাগরে রওনা দেয় এফবি বাকলিয়া-১ ফিশিং বোটটি। গত ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঝিমাল্লাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। সেদিন তারা জানান, বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে সাগরে ভাসছে। তখন তাদের অবস্থান কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের পশ্চিমে ছিল বলে জানানো হয়েছিল। এরপর আরও দুইদিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোবাইলে সংযোগ পাওয়া গেলেও পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

তিনি আরও জানান, শনিবার বিকেলে মিয়ানমারের মালামাল বহনকারী একটি ট্রলারের মাঝিমাল্লারা রাখাইন রাজ্যের চিতাপাহাড় এলাকার অদূরে চরে আটকাপড়া অবস্থায় ট্রলারটিকে দেখতে পায়। তারা আটকাপড়া মাঝিদের কাছ থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে তাকে (আবদুল হামিদকে) খবর দেন। বোটের মাঝিমাল্লার সবাই সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত হন। এরপরই নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের সহযোগিতায় রোববার সকালে মিয়ানমারের উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুরের পর তারা টেকনাফ দিয়ে ফিরে আসেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসের ২১ ও ২৫ জানুয়ারি পৃথকভাবে গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারের সময় বাকলিয়া-১ ট্রলারের ১৯ জন এবং এফবি সাজ্জাদ-১ ট্রলারের ১৩ জনসহ ৩২ জন বাংলাদেশি জেলে ট্রলার বিকল হয়ে মিয়ানমার জলসীমার চিতাপহাড়া নামক এলাকায় ঢুকে পড়লে মিয়ানমার নৌবাহিনী তাদের উদ্ধার করে। আকিয়াবে কর্মরত বাংলাদেশের কনস্যুলেটর মো. বারিকুল ইসলাম মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দুই ফিশিং ট্রলারসহ জেলেদের দেশে ফেরত আনা হয়। ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ১৮ জন নোয়াখালীর এবং ১৪ জন চট্টগ্রামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাইফুল ইসলাম বলেন, ইঞ্জিন বিকল হওয়া নিখোঁজ ট্রলারগুলোর সন্ধানে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী সাগরে তল্লাশি চালায়। কিন্তু ট্রলারগুলো ভাসতে ভাসতে মিয়ানমার জলসীমায় চলে গিয়ে চিতাপাহাড়ের অদূরে চরে আটকা পড়ে। মিয়ানমার-বাংলাদেশ বাণিজ্যে নিয়োজিত একটি জাহাজ চরে আটকাপড়া অবস্থায় ট্রলারটি দেখে আমাদের খবর দিলে বিষয়টি বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসকে অবহিত করি। কনস্যুলেট অফিস মিয়ানমার নৌবাহিনীকে বিষয়টি জানালে নৌবাহিনী মাঝিমাল্লাসহ ট্রলারগুলো উদ্ধার করে বৈঠকের পর মাঝিমাল্লাসহ ট্রলারগুলো ফেরত দিয়েছে।


এখানে শেয়ার বোতাম