রবিবার, নভেম্বর ২৯

হাসিনার জন্যে মোদির ‘বিশেষ বার্তা’ ও আমার কিছু কথা

এখানে শেয়ার বোতাম

মাসুদ রানা ::

গত মঙ্গলবার ১৮ই অগাস্ট ভারতের বিদেশ-সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা দু’দিনের জন্যে এক ঝটিকা সফরে এসেছিলেন বাংলাদেশে। ভারতীয় বেশ ক’টি পত্রিকা জানিয়েছে, করোনা বিশ্বমারী সৃষ্ট অচলাবস্থার পর, শ্রিংলার এই প্রথম বিদেশ-সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ‘বিশেষ বার্তা’ বহন করে নিয়ে গিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যে। প্রশ্ন হচ্ছেঃ কী সেই বার্তা?

ভাসা-ভাসা অতি সাধারণ কিছু বিষয় স্পর্শ করে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, শেখ হাসিনার জন্যে নরেন্দ্র মোদির কী বার্তা বহন করে বাংলাদেশ সফর করলেন শ্রিংলা, তা কোনো ব্যক্তি কিংবা পত্রিকাই প্রকাশ করেনি। না করাটাই স্বাভাবিক। আর, এখানেই রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাজ – অজ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে হাইপোথেসিস তৈরি করা। এখানে আমি তা-ই করবো।

২০০৪ সালের ২১শে অগাস্ট শেখ হাসিনার একটি জনসভায় তাঁর প্রাণনাশের লক্ষ্যে পরিচালিত, কিন্তু ব্যর্থ অথচ ২৪ ব্যক্তির প্রাণঘাতী গ্রেনেড হামলার আজ বিচারের রায়ের আসন্নতার প্রেক্ষাপটে আয়োজিত শ্রিংলার এ-সফর ও সাক্ষাত শেখ হাসিনার জন্যে অবশ্যই বিশেষ তাৎপর্য্যপূর্ণ। আমার ধারণা, নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনার জন্যে ‘স্টিক’ কিংবা ‘ক্যারট’ কিংবা এই দুয়ের সংমিশ্রণের একটি বার্তা পাঠিয়ে থাকবেন শ্রিংলার মাধ্যমে।

আমার বিশ্বাস, শেখ হাসিনার চীন-মৈত্রী ও সাম্প্রতিক পাক-প্রসন্নতা নিয়ে নরেন্দ্র মোদির অনুভূতি অপছন্দের পর্যায় অতিক্রম করে উদ্বেগের পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। কারণ, চীন ও পাকিস্তান ভারতের সীমান্ত-শত্রু, আবার চীনের আশির্বাদে প্রতিবেশী নেপালও ভারত-বিরোধী হয়ে উঠেছে। এখন বাংলাদেশও যদি খোলামেলাভাবে চীন-পাকিস্তান বলয়ে যোগ দেয়, ভারতের জন্যে তা হয়ে উঠবে রীতিমতো ভয়ের বিষয়।

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সংবেদনশীল ‘সেভেন সিস্টার্স’ বা ‘সাতবোন’ অঞ্চল সংলগ্ন বাংলাদেশের উত্তরপূর্বাচঞ্চলীয় নগরী সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্ধিত করার প্রকল্প একটি চীনা সংস্থাকে দেওয়ার বিষয়টি যে ভারত তার নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে দেখে, তা ইতোমধ্যে ভারতের স্বার্থরক্ষাকারী বাংলাদেশী সাংবাদিকদের লেখাতেই লক্ষ করা গিয়েছে।

উপরন্তু, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়ে নরেন্দ্র মোদির মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে হতাশ শেখ হাসিনা নদীটির বাংলাদেশ অংশের সর্বত্র প্রস্থে ১ কিলোমিটারে সঙ্কুচিত কিন্তু তলদেশের গভীরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এর সজলতা নিশ্চিত করার প্রকল্পের জন্যে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সাহায্য নিশ্চিত করেছেন চীনের কাছ থেকে। প্রকল্পটির যাত্রা এ-বছরের ডিসেম্বরেই শুরু হচ্ছে বলে যে তথ্যটি পানি উন্নয়ন বৌর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ আন্তর্জাতিক সংবাদ-মাধ্যমকে দিয়েছেন, তাও ভারতের জন্যে সুখের সংবাদ নয়।

তিস্তানদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প-সহ আরও কতিপয় প্রকল্পের জন্যে চীন বাংলাদেশকে দিচ্ছে ৬ বিলিয়ন ডলার, যা পূর্ব-ঘোষিত বিশাল অংকের অতিরিক্ত। তো, বাংলাদেশের প্রতি চীনের এই বিশাল সহায়তা, যা ভারতের সাধ ও সাধ্যের বাইরে, স্বভাবতঃ ভারত-মানসে হিংসা ও বাংলাদেশ হারাবার আশঙ্কা তৈরি করে থাকবে।

এছাড়াও ভারতের উত্তর সীমান্তে চীনের শক্তিশালী সামরিক স্থাপনা ও উপস্থিতি ভারতের জন্যে সঙ্গত কারণেই ভীতিকর। সাম্প্রতিক মুখোমুখি ও হাতাহাতি সংঘর্ষের পরিণতিতে চীনের কাছে ভারতের জমি হারানোর ঘটনা হজম করে আপাতঃ শান্তি মেনে নিলেও যে-কোনো সময়ে পূর্ণ অবয়বে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তার ওপর, সম্প্রতি শেখ হাসিনার সাথে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ফৌনালাপের ঘটনা এবং সে-আলাপে কাশ্মীর ইস্যুর উল্লেখের পাকিস্তানী সংবাদটিও নরেন্দ্র মোদি-সহ ভারতীয় নেতৃত্বের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

শেখ হাসিনার কাছে বন্ধুত্বের পরীক্ষায় নরেন্দ্র মোদি ফেইল করেছেন বার্মা থেকে রোহিঙ্গা নামের বাঙালী জনজাতির লক্ষ-লক্ষ লোক পুশকরা-কালে বাংলাদশের পক্ষে না দাঁড়িয়ে কার্যতঃ বার্মার পক্ষে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে।

অধিকন্তু ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধীন আইন (CAA) প্রণয়নে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সম-পর্যায়ের সংখ্যালঘু (প্রধানতঃ হিন্দু) নির্যাতনকারী দেশ হিসেবে ইঙ্গিত করে অমুসলমিদের জন্যে নাগরিকত্ব-দানের বিধান ঘোষণা দিয়ে ভারতীয় নেতৃত্ব বাংলাদেশের জনগণ ও নেতৃত্বকে অপমানিত করেছেন।

এছাড়াও, নরেন্দ্র মোদির দলের নেতাদের বাংলাদেশ-বিরোধী রেটোরিক, ভারতের বাংলাভাষীদেরকে ‘অভারতীয়’ হিসেবে দেখিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার হুমকির মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা তথা বাংলাদেশকে শত্রুর মতো দূরে ঠেলে দিয়েছে। চীনের হাতে নিদারুণভাবে মার খেয়ে ভূমি হারানোর আগপর্যন্ত ক্ষুদ্র প্রতিবেশী হলেও বাংলাদেশের প্রকৃত গুরুত্ব বুঝতে পারেনি ভারতীয় নেতৃবৃন্দ। ভারত যে প্রকার ব্যবহারই করুক না কেনো, বাংলাদেশ তার অনুগত থাকবে, এমন ভারতীয় ভাবনা যে ঠিক নয়, বর্তমানে তা মূর্ত হয়ে উঠেছে।

ভারত এখন বন্ধুহীন। উত্তরে বিশ্ব-শক্তিধর চীন ভারতের জন্যে দানব-সম ভীতিপ্রদ, পশ্চিমে আছে চিরশত্রু পাকিস্তান আর পূর্বে রয়েছে শত্রুভাবাপন্ন নেপাল, এবং এমনকি দক্ষিণে লঙ্কা দ্বীপও বন্ধুভাবাপন্ন নয়। এখন ক্ষুদ্র আয়তনের হলেও বিশাল জনসংখ্যার বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে না যেয়েও যদি শুধু অসহযোগিতা করে, তাও বন্ধুহীন দেশটির জন্যে সমস্ত বিবেচনায় ক্ষতিকর হবে।

এই পরিস্থতিতে নরেন্দ্র মোদির হাতে মৌলিকভাবে দু’টি কৌশল খোলা – শেখ হাসিনার কাছে দূত পাঠিয়ে তাঁকে সরাসরি ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিকভাবে হুমকি দিয়ে ভারতীয় আনুগত্য নিশ্চিত করা, কিংবা চীনের চেয়েও অধিক সুবিধাদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গভীরতর বন্ধুত্ব গড়ে তোলা। আবার, এই দুই কৌশলের সমন্বয়ে ‘স্টিক-ক্যারট’ তথা লাঠি-গাজর কৌশলও অবলম্বন করে থাকতে পারেন মোদি।

শেখ হাসিনার যেমন ব্যক্তিত্ব, তাতে আমার মনে হয় না তাঁকে হুমকি দিয়ে বশ করা যাবে। আর, শেখ হাসিনা যদি ভারতের ব্যাপারে তাঁর মন স্থির করে ফেলে থাকেন, সেখান থেকে তাঁকে টলানোও খুব কঠিন হবে।

বিশ্লেষকদের বুঝতে হবে যে, শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক কারণেই ভারত-বান্ধব ছিলেন, এবং থাকাটাই স্বাভবিক। কারণ, জাতিগতভাবেই শুধু নন, ব্যক্তিগতভাবেও দুর্দিনে ভারতের সহায়তা পেয়েছেন। সম্ভবতঃ একটি কৃতজ্ঞতাবোধের কারণে তিনি বিনিময় স্বরূপ ভারতকে সুবিধাও দিয়েছেন ভারতের যোগ্যতা ও প্রাপ্যতার চেয়ে অনেক বেশি, যা এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থেরও বিরোধী।

কিন্তু, ভারত সম্ভবতঃ শেখ হাসিনার কৃতজ্ঞতাকে ‘গ্র্যাণ্টেড’ হিসেবে ধরে নিয়ে থাকবে এবং ভেবে থাকবে যে, ভারত তাৎপর্যপূর্ণ কোনো কিছু না দিয়েই শেখ হাসিনার বাংলাদেশ থেকে “চাহিবা মাত্র” সবকিছু পেয়ে যাবে। প্রশ্ন হতে পারেঃ ভারত বাংলাদেশের কাছে কী চায়?
২০১৩ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারী ‘শাহবাগ আন্দোলনঃ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক একটি লেখায় আমি ভারতের ৫টি চাওয়ার একটি তালিকা প্রকাশ করেছিলাম, যা এখনও প্রযোজ্যঃ

“আন্তার্জাতিক-সম্পর্ক ও যুদ্ধতত্ত্ব অনুসারে, উপরে উল্লেখিত বিশ্ব-পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কাছে ভারতের কাম্য হতে পারে ৫টি বিষয়ঃ (১) বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের চীন-সীমান্ত পর্যন্ত সামরিক ও রসদ পরিভ্রমণের উপযোগী অবকাঠামো, (২) ভারতীয় শান্তি ও যুদ্ধকালীন অর্থনীতির পরিপূরক স্থানীয় অর্থনীতি, (৩) ভারতের কাছে স্বচ্ছ ও সহযোগী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (৪) ভারত-বান্ধব সরকার এবং (৫) ভারত-মৈত্রীর সাংস্কৃতিক পরিবেশ।”

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো কিছুকে ‘গ্র্যাণ্টেড’ হিসেবে ধরে নেওয়া ভূল। বাংলা প্রবাদে বলা হয়ঃ “তোর গুণে মোর গুণ, মাঘ এলে ফাল্গুন।” অর্থাৎ, বন্ধুর কাছ থেকে কিছু পেতে হলে বন্ধুকে কিছু দিতে হয়।

এটি খুবই দুঃখের বিষয় যে, ভারত বাংলাদেশকে অতি অল্প দিয়ে অতি বেশি পেতে চায়। কিন্তু অতি অল্প দিয়ে অতি বেশি পাওয়া এক-সময়ে সম্ভব হলেও, তাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় যারাই থাকুক না কেনো, বাঙালী জাতি কোনো ক্রমেই ভারতের কাঙ্ক্ষিত অধীনতামূলক মিত্রতা গ্রহণ করবে না।

আমার ধারণা, ভারত অধীনতামূলক মিত্রতা শেখ হাসিনার কাছে আবেদন হারিয়েছে ২০১৬ সালের শেষ-প্রান্তে, যা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিলো সে-বছর ৮ই ডিসেম্বর তাঁর পূর্ব-পরিকল্পিত ভারত-সফরটি বাতিল হয়ে যাওয়ার সংবাদ থেকে।

শেখ হাসিনার এই ভারত-সফর বাতিলের বিষয়টির সম্পর্কিত ছিলো ৩০শে নভেম্বরে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর ব্যর্থ বাংলাদেশ সফর, যখন তিনি শেখ হাসিনাকে চীন-বিমুখ করে ভারতের সাথে একটি নিবিড় সামরিক নির্ভরতা চুক্তিতে সম্মত করাতে না পেরে রিক্তহস্তে দিল্লি ফিরে যান তাঁর সাথে আসা ভারতীয় সশস্ত্রবাহিনী সমূহের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে।

মোটকথা, ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত-বান্ধব, ভারত-নির্ভর ও ভারতপন্থী মনে হলেও অন্ততঃ গত অর্ধ দশক ধরে শেখ হাসিনা সেই আগের শেখ হাসিনা নেই। কারণ, ইতোমধ্যে তিনি বিশ্ব-পরিমণ্ডলে সুপরিচিত, সুপ্রতিষ্ঠিত এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মবিশ্বাসী।

শেখ হাসিনা সম্ভবতঃ তাঁর পিতার মতোই প্রথমে ভারত-বান্ধব কিংবা এমনকি ভারত-অনুগত বলে বোধিত হলেও, বাস্তবে ভারত-নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছেন। এ-বিষয়ে আমি ২০১৬ সালের ৮ই ডিসেম্বরে প্রকাশিত আমার একটি লেখায় আমি যা লিখেছিলাম, তা প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় নীচে পুনরুৎপাদন করার মধ্য দিয়ে শেষ করছিঃ

“আগামী ১৭ তারিখে শেখ হাসিনার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে যাওয়ার কর্মসূচি যে আজ স্থগিত করা হয়েছে পরবর্তী তারিখ এখনও পর্যন্ত স্থির না করে, তাকে আমি ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। কেনো দেখছি, তা নিচে বলছি।
গত ৩০শে নভেম্বর বাংলাদেশের সফরে এসেছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পারিকার। তিনি এসেছিলেন বাংলাদেশের সাথে দৃশ্যতঃ একটি নিবিড় সামরিক চুক্তির জন্যে শেখ হাসিনাকে তৈরি করার উদ্দেশে।

ভারতীয় কৌষ্ট গার্ডের প্রধান এবং সামরিক, বিমান ও নৌবাহিনীর তিন উপপ্রধান নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারিকার বাংলাদেশে এসে কথা বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা অবসরিত মেইজর জেনারেল তারিক আহমেদ ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সাথে।

সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফর, বাংলাদেশকে চীনের ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ, চীন থেকে বাংলাদেশের দু’টি সাবমেরিন ক্রয় ইত্যাদির প্রেক্ষাপটে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল ঢাকা সফর ছিলো ভারতের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত আশা করেছিলো, বাংলাদেশকে চীনের সঙ্গ ছাড়িয়ে সামরিকভাবে ভারতের দিকে আরও নিবিড়ভাবে আবদ্ধ করবে। কিন্তু আজ শেখ হাসিনার ভারত সফর অনির্দিষ্ট কালের জন্যে স্থগিত করার অর্থ হচ্ছে একটিইঃ শেখ হাসিনা ভারতের প্রস্তাবে রাজি হননি। আমার এই ধারণা প্রায় শতোভাগ সত্য হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আমার ধারণা যদি সত্য হয়, বুঝতে হবে যে, শেখ হাসিনা তাঁর পিতার মতোই ক্রমশঃ আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে, ভারতের অধীনতামূলক মিত্রতার জাল থেকে বেরিয়ে আপেক্ষিকভাবে স্বাধীন হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিংবা এমনও হতে পারে যে, তিনি ভারতের সাথে সামরিক চুক্তি চাইলেও, বাংলাদেশের গহীন রাষ্ট্রের অনুমোদন পাচ্ছে না। চীন থেকে সাবমেরিন কেনা হচ্ছে এক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

এদিকে, শেখ হাসিনা আজ নিজেই বলেছেন, তাঁর বিমানের নাট-ঢিলা কাণ্ডটি যান্ত্রিক ত্রুটির ফল নয়, মানুষের সৃষ্ট ঘটনা। তিনি আরও বলেছেন, এর আগেও তাঁর এক বিমান অবতরণ কালে রানওয়্যেতে বিপজ্জনক ধাতব পদার্থ ছড়িয়ে রাখা হয়েছিলো, যার সংস্পর্শে বিমান অবতরণ করলে ক্র্যাশ করতো।

আমার ধারণা, শেখ হাসিনা বুঝতে পারছেন, তাঁর জীবন স্পষ্ট ঝুঁকির মধ্যে আছে। যদি তাই হয়, তাঁর কৌর্স অফ এ্যাকশন প্রভাবিত হতে বাধ্য।
তবে শেখ হাসিনার বুঝা প্রয়োজন যে, রাজনীতিকদের রক্ষাকর্তা কোনো দিন কোনো বৈদেশিক শক্তি হতে পারে না। তাদের এক এবং একমাত্র ভরসার জায়গা হচ্ছে জনগণ।

শেখ হাসিনা যদি কোনো বিপদ আঁচ করে থাকেন, তাঁর উচিত হবে জনগণের মধ্যে আশ্রয় নেওয়া – অর্থাৎ জনগণের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত দেশ ও প্রতিষ্ঠিত রিপাবলিকটিকে তাঁর পারিবারিক দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।”

লেখক : সাবেক ছাত্র নেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক । লণ্ডন, ইংল্যাণ্ড
২১/০৮/২০২০

( ফেইসবুক থেকে নেওয়া)


এখানে শেয়ার বোতাম