মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৬

হাতিয়ায় মনিকা দাসের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যা?

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: হাতিয়ায় কলেজছাত্রীর মনিকা দাস মৃত্যু নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে রহস্য দানা বেঁধেছে স্বজনদের মনে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন এটিকে আত্মহত্যা দাবি করলেও স্বজনদের সন্দেহ তাকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে ঘটনার তদন্ত চলছে।

গত ২৬ জুলাই হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের দক্ষিণ বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক শ্রীকৃষ্ণ দাসের মেয়ে ও নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্নাতকোত্তর (ব্যবসায় শিক্ষা) প্রথম পর্বের ছাত্রী মনিকা দাস গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানান।

পরদিন দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনিকার লাশ উদ্ধার করে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের পর লাশ দাহ করা হয়।

তবে মনিকার পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, মনিকার লাশে আত্মহত্যার কোনো লক্ষণ (জিহ্বা বের হওয়া, পায়ের পাতা বাঁকা, চোখের চাহনি বিকৃত, পায়খানা করা ইত্যাদি) ছিল না। তাই প্রশ্ন উঠেছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে।

মনিকার মা ইন্দু প্রভা দাস জানান, সেদিন (২৬ জুলাই) রাত ১০টায় মনিকা স্বামীসহ একসাথে ঘুমাতে যান। গভীর রাত থেকে মনিকাকে কোথায়ও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন (২৭ জুলাই) ভোরে মনিকার স্বামী প্রথম তাদের ঘরের বাইরে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে করই গাছের সাথে মনিকাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পায়। ভোর ছয়টায় তার স্বামী, বাবা ও অন্যরা মনিকার লাশ ফাঁসমুক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, মনিকার স্বামী, দেবর, শাশুড়ি ও ননদ তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। গত ২৬ মার্চ মনিকা স্বামীসহ নোয়াখালীর চন্দ্রগঞ্জের ভাড়া বাসা থেকে শ্বশুর বাড়িতে আসার পর থেকে তার উপর নির্যাতন শুরু হয়।

তিনি জানান, মেয়ের এমন অভিযোগ পেয়ে তারা মেয়েকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন থেকে মনিকা তাদের বাড়িতেই থাকতেন। মনিকার স্বামী ইতোমধ্যে কয়েকবার তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। মৃত্যুর এক মাস আগেও গোবিন্দ তাদের বাড়িতেই মনিকাকে মারধর করেন। মনিকার আত্মহত্যার দুদিন আগে তিনি তাদের বাড়িতে আসেন।

মনিকার ভাই তার ভ্যানিটি ব্যাগে তার হাতের লেখা কয়েকটি কাগজ পান। কাগজগুলোতে দাম্পত্য কলহ, তার স্বামী ও স্বামীর পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে তাকে হত্যার হুমকি এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

মনিকার বাবা সোমবার বলেন, ‘আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। মনিকার মৃত্যুর জন্য তার স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজনই দায়ী’।

মনিকার পরিবারের উপরোক্ত অভিযোগগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে তার স্বামী গোবিন্দ দাস বলেন, মনিকা ছিলো মানসিক রোগী। তিনি তার ও তার পবিারের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।

২০১৯ সালে একই ইউনিয়নের উত্তর বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত বিহারী দাসের ছেলে ও মাধ্যমিক শিক্ষক গোবিন্দ দাসের সাথে মনিকার বিয়ে হয়। তাদের সাড়ে সাত মাসের এক মেয়ে রয়েছে।

মনিকার বড় ভাই গোপীনাথ রবিবার (২ আগস্ট) মনিকার আত্মহত্যার জন্য তার স্বামী, তার মা গৌরী দাসী ও ভাই গিরিধারী দাসকে দায়ী করে হাতিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের রবিবার (২ আগস্ট) বলেন, মনিকার আত্মহত্যার ব্যাপারে হাতিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এ ব্যাপারে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এখানে শেয়ার বোতাম