বৃহস্পতিবার, মে ১৩
শীর্ষ সংবাদ

হকারদের পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের প্রতিবাদে কাফনের কাপড় জড়িয়ে বিক্ষোভ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক ::  পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের প্রতিবাদে এবং উচ্ছেদকৃত হকারদের পুনর্বহালের দাবিতে কাফনের কাপড় জড়িয়ে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে হকাররা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে বসতে না দিলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে মহামিছেলের কর্মসূচিরও ঘোষণা দেন হকাররা।

রোববার (৬ অক্টোবর) বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের উদ্দ্যোগে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে প্রায় ১ হাজার হকার।

বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সম্পাদক ও তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির অন্যতম সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ, মানবাধিকার কর্মী মুনাজ সুলতানা মুন্নী, হকার্স ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেত্রী শাহিনা আক্তার, সূত্রাপুর থানা হকার্সলীগের সভাপতি মো. ফিরোজ, হকার্স ইউনিয়ন কোতোয়ালি থানা কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান পাটোয়ারি, হকারনেতা মো. আরিফ, মো. রবিন প্রমুখ।

সমাবেশে রুহিন হোসেন প্রিন্স সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, হকারদের উচ্ছেদ না করে, লুটেরা, দুর্নীতিবাজ, মাফিয়াদের উচ্ছেদ করুন। সরকার সংবিধান অনুযায়ী সকলের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই অসহায় মানুষ নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করে হকারের অমানবিক জীবন বেছে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এদের উচ্ছেদ করা যাবে না। বরং হকারদের আইনী স্বীকৃতি দিয়ে নিয়ম মত বসার ব্যবস্থা করুন। এসব জায়গায় চাঁদাবাজদের উচ্ছেদ করুন।

তিনি আরও বলেন, সরকার আর প্রশাসনের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে, সবাই নিয়ম মেনে হকারদের বসার পক্ষে বললেও কেউ দায়িত্ব নিচ্ছেন না। যারা দায়িত্ব নিতে পারেন না তাদের পদে থাকার অধিকার নেই। তিনি প্রয়োজনে লাইন টেনে নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের বসার ব্যবস্থার দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছিল পুনর্বাসন ছাড় হকারদের উচ্ছেদ করা হবে না। অথচ লাথি মেরে হকারদের উচ্ছেদ করা হলো। বসতে দেওয়ার কথা বললেও বসতে দেওয়া হচ্ছে না। হকাররা জনগণের চলাচল বিঘ্নিত না করে ফুটপাতের কিছু জায়গায় বসতে চায়। এজন্য সরকারকে ট্যাক্সও দিতে চায়। একথা শোনার কেউ নেই। তাই আজ অনেকে না খেয়ে, পড়াশুনা করা সন্তানদের গ্রামে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। এ দুরবস্থার অবসান ঘটিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেয়র, পুলিশ, এমপি সাহেব হকারদের বসার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হলে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে মহামিছিলের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, হকার পুনর্বাসনের জন্য ৫ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করুন, হকারদের সঠিক তালিকা তৈরি করে তালিকাভুক্ত হকারদের নিকট থেকে সপ্তাহ বা মাসিক ভিত্তিতে সরকার বা সিটি কর্পোরেশন নির্দিষ্ট অংকের টাকা নিয়ে তার সাথে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি যুক্ত করে পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত হকারদেরকে ধীরে ধীরে পুনর্বসান করুন।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বেআইনী ও বিচারের রায়ের বিরোধী। তাই হকারদের উচ্ছেদ না করে পুনর্বাসন করুন।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি প্রেসক্লাব থেকে পল্টন-গোলাপশাহ মাজার-বংশাল রোড হয়ে সদরঘাট ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে গিয়ে শেষ হয়।


এখানে শেয়ার বোতাম