স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবসের ছাত্র ফ্রন্টের সমাবেশ ও মিছিল -
 

স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবসের ছাত্র ফ্রন্টের সমাবেশ ও মিছিল

Pronob paul 9:46 pm সারা দেশ,
Home  »  সংগঠন সংবাদসারা দেশ   »   স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবসের ছাত্র ফ্রন্টের সমাবেশ ও মিছিল

অধিকার ডেস্ক:: স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবসের আহ্বান-শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ-সাম্প্রদায়িকীকরণ রুখে দাঁড়াও সন্ত্রাস-দখলদারিত্বমুক্ত গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস নিশ্চিত কর।

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবস। এ দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সকাল ৮ টায় হাইকোর্টের সামনে শিক্ষা অধিকার চত্ত্বর শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিকাল ৪ টায় শাহাবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ছাত্র সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিকাল ৪ টার সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল কাদেরী জয়। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, দপ্তর সম্পাদক সজল বাড়ৈ, অর্থ সম্পাদক মুক্তা বাড়ৈ, সদস্য সুস্মিতা মরিয়ম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিব কান্তি রায় ও সদস্য সোহাইল শুভ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ থেকে প্রায় ৪৯ বছর আগে তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখলের পরেই দেশ ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকা- শুরু করে। ১৯৮২ সালে তিনি মজিত খানকে প্রধান করে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে। মজিদ খান শিক্ষা কমিশনকে দিয়ে একটি শিক্ষানীতি প্রস্তাব কারনো হয়।

প্রস্তাবে ছিল ‘উচ্চ শিক্ষা তারাই পাবে যারা শিক্ষার শতকরা ৫০ ভাগ ব্যয় বহণ করতে পারবে’। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সকল ক্ষেত্রে শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ ও ইসলামী করণ করা হয়। যা ছিলো মুক্তিযুদ্ধ তথা স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী। এই হীন চক্রান্তের বিরুদ্ধে সেদিন ছাত্র জনতা রুখে দাঁড়িয়েছিলো। ১৪ তারিখ সকাল ১০ টায় ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ সচীবালয় আভিমুখে বিক্ষেভ মিছিল ও গণঅবস্থান কর্মসূচী ঘোষণা করে। দাবী ছিলো ‘গণবিরোধী মিক্ষানীতি প্রত্যাহার, ছাত্রবন্দীদের মুক্তি, গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।

’ পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচীতে সকাল ১০ টায় বটতলায় ছাত্র জমায়েত হতে থাকে। হাজার হাজার ছাত্র জনতা এই মিছিলে অংশগ্রহণ করে। মিছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে কার্জন হলের সামনে আসলেই পুলিশী বাধার মুখে পড়ে। সেখানে রাস্তা অবরোধ করে নেতাকর্মীরা বসে পড়ে। নেতারা বেরিকেটের উপর উঠে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে গেলে জলকামান ও টিয়ারসেল মেরে ছত্রভঙ্গ করতে চায়। এতে ছাত্রদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। পরে বেধড়ক লাঠিপেটা ও গুলিবর্ষণ হয়।

এতে জয়নাল, দীপালীসহ আরও অনেকে মারাযায়। পরের দিন সারাদেশে এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে হরতাল পালন কালে চট্টগ্রামে পুলিশের গুলিতে জাফরসহ সারাদেশে আরও অনেকে মৃত্যুবরণ করে। তুমূল ছাত্র আন্দোলনের মুখে সরকার শিক্ষানীতি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

তার পর থেকে এই দিনটিকে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসেছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশ এরশাদের স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত হয়েছে কিন্তু আজ আর এক স্বৈরশাসনের কবলে পড়েছে। শিক্ষা বাণিজ্যতো বন্ধ হয়নি বরং বেড়েছে বহুগুণ। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে রমরমা ভর্তি, ডোনেশন, বোচিং বাণিজ্য।

যেই মাত্রায় বেসরকারি স্কুল কলেজ গড়ে উঠছে সেই মাত্রায় সরকারি আয়োজন নেই। বেসকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনগুণ। গবেষণা খাতে বরাদ্দ কমছে বছরের পর বছর। যতটুকু বরাদ্দ হচ্ছে তাও ব্যয় করা হচ্ছেনা। এই নীতির বিরুদ্ধে
ছাত্রদের প্রতি দুর্বার আন্দোলনের আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।