শনিবার, জানুয়ারি ১৬

স্বাস্থ্যখাতের শতাধিক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা দুদকের তালিকায়

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শতাধিক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তালিকা তৈরি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের গোয়েন্দা ইউনিট।

এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে যন্ত্রপাতি কেনাকাটা, অবৈধ সম্পদসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আর চলমান মাস্ক কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে স্বাস্থ্যখাতের হর্তাকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে দুদক।

স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে বছর দেড়েক আগে দুর্নীতির ১১টি উৎস চিহ্নিত করে সেগুলো বন্ধ করতে ২৫ দফা সুপারিশসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক।

তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী এতোদিনে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুদক বলছে, তাদের প্রতিবেদন আমলে নিলে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি অনেকটাই কমতো।

দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘দুর্নীতি রোধে ২৫টি সুপারিশ করে বলেছিলাম এই কাজগুলো যদি করা হয় তাহলে দুর্নীতি হবে না। কিন্তু, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সে কাজগুলো করতে পারেনি। এছাড়া সুপারিশ করা কাজগুলো করতে পারলে এখন যে দুর্নীতির কথাগুলো সেগুলো হতো না।’

তবে, দুদক এখন আইনি পদক্ষেপের দিকে যাচ্ছে। এরইমধ্যে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যন্ত্রপাতি কেনাকাটার নামে ১৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঠিকাদার ও অধিদপ্তরের প্রায় বিশজন কর্মকর্তার নামে মামলা করেছে দুদকের উপ-পরিচালক শামসুল আলমের নেতৃত্বে একটি টিম।

এদিকে, মাস্কসহ করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষাসামগ্রী কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে আরেকটি টিম অনুসন্ধান শুরু করেছে। আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে জেএমআই’র চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকসহ পাঁচ ঠিকাদারকে।

এবার ঠিকাদারদের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে এমন শতাধিক ব্যক্তির তালিকা করেছে দুদকের গোয়েন্দা ইউনিট। যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অতিরিক্ত দামে যন্ত্রপাতি, ওষুধ কেনাসহ অবৈধ সম্পদের অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের ৮ জন কর্মকর্তা, ২০ জন চিকিৎসক এবং মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ৫ জন অধ্যক্ষ রয়েছেন।

দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন,’ দুর্নীতিবাজদের তালিকা কয়েকজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। দুর্নীতিবাজদের তালিকা আরও লম্বা হতে পারে এই সম্ভাবনার কথা বলতে পারি কেননা, কয়েকজনই তো আর অন্যায় করেনি আরও অনেকেই আছেন। কাজেই অনুসন্ধান করলে তালিকা বাড়তে পারে।’

দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্যখাতে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।


এখানে শেয়ার বোতাম