বুধবার, জানুয়ারি ২০

‘স্বাস্থ্যখাতের দুর্দশাই প্রমাণ সরকার বছরের পর বছর ধাপ্পাবাজি করেছে’

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: আওয়ামী সরকারের বারবার একই রকম প্রতিশ্রুতিকে ‘কাজীর গরু কেতাবেই থাকছে, গোয়ালে নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, করোনাভাইরাস আতঙ্কে কাটছে মানুষের দিন। মানুষ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। করোনা ভীতিতে আচ্ছন্ন দেশের জনগণ। মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে প্রতিদিন। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল অবস্থায় জনমনে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেটর, আইসিইউ ও করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা সারাবিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে। ল্যাবে নমুনার স্তূপ জমা হয়ে আছে।

বিএনপি মুখপাত্র বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান দুর্দশায় প্রমাণিত হয়েছে, এই সরকার জনগণের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে ধাপ্পাবাজি করেছে।

তিনি বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৭টি জেলাতেই ইনটেন্সিভ কেয়ার ইউনিট নেই। করোনাভাইরাসের এই মহামারীর সময়ে মানুষের জীবনের বিনিময়ে স্বাস্থ্যখাতের বিপন্ন ও ভঙ্গুর ছবি প্রকাশ হয়ে পড়েছে।

রিজভী বলেন , তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরহুম মোহাম্মদ নাসিম জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, চলতি মাসেই অর্থাৎ ২০১৪ সালের নভেম্বর মাস থেকেই জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্র (সিসিইউ) এর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

‘মোহাম্মদ নাসিমের প্রতিশ্রুতির ঠিক ছয় বছর পর ২০২০ সালে এসেও আওয়ামী সরকারের মুখে সেই একই কথা। একই প্রতিশ্রুতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৮ এপ্রিল শনিবার জাতীয় সংসদে বলেছেন- প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ইনটেন্সিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) স্থাপন করা হবে’ যোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, আওয়ামী সরকারের বারবার একইরকম প্রতিশ্রুতি ‘কাজীর গরু কেতাবেই থাকছে, গোয়ালে নেই’-এর মতো।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখনই আওয়ামী লীগের দুর্নীতি-দুরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি, আমাদের পেছনে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে র‍্যাব-পুলিশ। …আর অপবাদ দেওয়ার জন্য গণমাধ্যমকে বাধ্য করা হচ্ছে রক্তচক্ষু প্রদর্শন করে।’

বিএনপি মুখপাত্র বলেন, বিরোধী দল ও গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওপর তাদের প্রণীত সকল কালাকানুন নির্বিচারে প্রয়োগ করছে। কেউ আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা আর দুর্নীতির কথা মনে করিয়ে দিলে তাকে তাড়াহুড়ো করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গুম করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করার কারণে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিএনপি এবং ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘আর যদি বলা হয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মন্তব্য করার জন্য নয়, বরং একজন মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মন্তব্য করার কারণেই আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হওয়ার পরও উল্লিখিত দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাহলেও দেশের জনগণ সাক্ষী- মৃত মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা, অপবাদ দেওয়া, এমনকি কবরে হামলা করার মতো অশোভন, অধার্মিক এবং নোংরা কাজটি ক্ষমতাসীন দলের লোকজনরাই করে আসছে।’


এখানে শেয়ার বোতাম