শনিবার, ডিসেম্বর ৫

স্বাধীনের ৪৮ বছর পর কেন রাজাকারের তালিকা: মির্জা ফখরুল

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: দেশ স্বাধীনের ৪৮ বছর পর এসে রাজাকারের তালিকা করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত র‌্যালি-পূর্ব এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, দেশ স্বাধীনের ৪৮ বছর পর রাজাকারের তালিকার প্রয়োজন কী? এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বলা হচ্ছে তালিকা নাকি পাকিস্তানের। পাকিস্তানের তালিকা তো এদেশের তালিকা হবে না। এ তালিকায় আসল রাজাকারদের নাম বাদ পড়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে একটি প্রোডাক্ট হিসেবে ব্যবহার করে। প্রকৃত রাজাকারদের বাদ দিয়ে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পাকিস্তানিদের তৈরি রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছে।

বিকেল সোয়া ৩টায় র‌্যালি শুরু হলেও নেতাকর্মীরা দুপুর ১২টা থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নিতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ফকিরাপুল মোড় থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

নেতাকর্মীদের সবার হাতে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই লেখা ব্যানার-ফেস্টুন শোভা পায়। ট্রাকের ওপর দলীয় সংগীতের পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে বিভিন্ন সংগীত বাজতে থাকে। ঘোড়ার গাড়ি, ছোট ছোট ট্রাক, ঢোল, সাউন্ড বপ, বেলুন, লাল ও সবুজ টুপি পরে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা র‌্যালিতে যোগ দেন।

শোভাযাত্রাটি যখন নাইটিঙ্গেল মোড়, কাকরাইল, শান্তিনগর হয়ে মালিবাগ মোড়ে পৌঁছে, তখনও মিছিলের শেষ মাথা নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিল। শোভাযাত্রা দেখতে রাস্তার দু’ধারে দাঁড়ানো পথচারীদের করতালি দিতে দেখা যায়।

বিএনপির র‌্যালিকে ঘিরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। র‌্যালি শুরু হওয়ার পর নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, মালিবাগ, বেইলি রোড, কাকরাইল, বিজয়নগর সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাজাকারের তালিকা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিটা রাজনৈতিক। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করা হয় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে, প্রকৃত রাজাকারদের বাদ দিয়ে করা হচ্ছে রাজাকারদের তালিকা।

তিনি বলেন, এই সরকার অন্যায়ভাবে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে, জোর করে জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় বসে আছে। আজ দেখতে পাই- আমাদের যে ভাই গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, সেই ভাই গুম হয়ে যাচ্ছে। চার-পাঁচ বছর পার হয়ে যায়, কিন্তু সেই ভাইদের সন্তানেরা তাদের বাবার খোঁজ পায় না, মা তার সন্তানের কোনো খোঁজ পায় না। বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তারা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ বলে- তারা মুক্তিযুদ্ধের ধারক-বাহক। এরাই দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। এরা ১৯৭৫ সালে দেশের গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছিল। ‘৭৫ সালে যে আওয়ামী লীগের সময়ে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল এবং মানুষ না খেয়ে মারা গিয়েছিল, সেই আওয়ামী লীগ এখন আবার জোর করে ক্ষমতায় চেপে বসেছে। আমাদের লাখ লাখ দেশপ্রেমিক মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে এই দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। তারা আমাদের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে জোর করে ক্ষমতায় আছে। তারা সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। এই রাষ্ট্রকে তারা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে, তারা বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করেছে। মিডিয়াকে পর্যন্ত তারা আজকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে দেশে কোথাও গণতন্ত্রের কোনো সুযোগ নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিজয়ের আনন্দের সেই চেতনা আজ ভূলুণ্ঠিত। স্বাধীনতা আর বিজয়ের মূল লক্ষ্য আর অর্জনকে ক্ষমতাসীন সরকার বাপবন্দি করে রেখেছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আজ বিজয়ের আনন্দ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন সরকার। খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত করতে পারিনি। তবে আইনিভাবে না পারলেও আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা হবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিজয় দিবসে তাদের কোনো আনন্দ বা উল্লাসের বিষয় নয়, ভাববার বিষয়। তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে- খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেশে গণতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। তাদের ‘ডু অর ডাই’ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের জন্য সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

র‌্যালিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবীব-উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ, বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান রতন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, শিরিন সুলতানা, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান, নিপুণ রায় চৌধুরী, অঙ্গসংগঠনের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, কাজী আবুল বাশার, বজলুল বাসিত আনজু, সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদুর, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, আনোয়ার হোসেইন, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, আবদুর রহিম, হাসান জাফির তুহিন, আবুল কালাম আজাদ, ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা ছিলেন।


এখানে শেয়ার বোতাম