বুধবার, নভেম্বর ২৫

সোমবার থেকে শ্রম ভবনে লাগাতার অবস্থান করবে ড্রাগন গ্রুপের শ্রমিকরা

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক:: অবিলম্বে ড্রাগন গ্রুপের শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, সার্ভিস বেনিফিট, অর্জিত ছুটির টাকাসহ সকল আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করার দাবিতে আন্দোলনরত ড্রাগন গ্রুপের দুটি কারখানার শ্রমিকরা সোমবার (আগামী ৩১) থেকে ‘শ্রম ভবন অক্যুপাই’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান শামীম, জাতীয় শ্রমিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতা আমির হামজা খান, গার্মেন্ট টিইউসি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, শ্রমিকনেতা রিফাত হাবিব প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ড্রাগন গ্রুপ শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক আব্দুল কুদ্দুস।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ড্রাগন গ্রুপের দুটি কারখানা ড্রাগন সোয়েটার লি. এবং ইম্পেরিয়াল সোয়েটার লি. ঢাকার মালিবাগে নিজস্ব ১৭তলা ভবনে অবস্থিত। মালিকপক্ষ করোনা মহামারির সুযোগ নিয়ে এপ্রিল মাস থেকে কারখানা বন্ধ রেখেছে। শ্রমিকের সমগ্র চাকুরি জীবনের আইনানুগ পাওনা অর্থাৎ সার্ভিস বেনিফিট, শ্রমিকদের বেতন থেকে প্রতি মাসে প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ কেটে রাখা মোট বেতনের ৭ শতাংশ ও তার সাথে আইন অনুযায়ী মালিকের জমাকৃত সমপরিমাণ অর্থ, অর্জিত ছুটির টাকা এবং দুই মাসের বকেয়া বেতন ইত্যাদি পাওনা পরিশোধে অস্বীকার করে শ্রমিকদের বিদায় করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে মালিকপক্ষ স্থায়ী শ্রমিকদের বাদ দিয়ে একই ভবনে ভিন্ন একটি কারখানার নামে ঠিকা ভিত্তিতে অস্থায়ী শ্রমিক দিয়ে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালাচ্ছে। শ্রমিকরা তাদের পাওনার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।

লিখিত বক্তব্য আরও বলা হয়, শ্রমিকরা আইনানুগ পাওনার দাবিতে গত কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দিনের পর দিন ধর্ণা দেয়া হয়েছে। সরকার কর্তৃক গঠিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি সংকটের সুরাহা করতে কয়েকবার সভায় বসলেও মালিক পক্ষকে আইন প্রতিপালনে বাধ্য করতে পারেনি।উপরোন্তু পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের কেউ কেউ তাদের দায়িত্ব ভুলে মালিকের সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, ড্রাগন গ্রুপের অসহায় ও নিরন্ন শ্রমিকরা দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনো সুরাহা না পেয়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তারা আগামী সোমবার থেকে ‘অক্যুপাই শ্রম ভবন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

নেতৃবৃন্দ জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিজয় নগরে অবস্থিত শ্রম ভবনে লাগাতারভাবে অবস্থান আন্দোলন পরিচালনা করা হবে। লাগাতার কর্মসূচি চলাকালে অবস্থান অব্যাহত রেখেই মালিকের বাসভবন ঘেরাও, বিজিএমইএ ঘেরাও, গণভবন অভিমুখে ভুখা মিছিল কর্মসূচি পালিত হবে।

নেতৃবৃন্দ সমাজের অপরাপর শ্রেণি পেশার বিবেকবান মানুষের কাছে শ্রমিকদেরএই আন্দোলনে সমর্থন ও সংহতি জানিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


এখানে শেয়ার বোতাম