মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪

সেনাবাহিনী প্রস্তুত, চীনকে ভারতের হুঁশিয়ারি

এখানে শেয়ার বোতাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: লাদাখে চীনের সেনাবাহিনীর আগ্রাসন ঠেকাতে প্রয়োজনে সেনা অভিযান চালানো হবে। ভারতের সেনাবাহিনীকে সেভাবেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে রোববার হুঁশিয়ারি দিলেন দেশটির চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) বিপিন রাওয়াত।

স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিপিন রাওয়াত বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে সীমান্ত উত্তেজনা বন্ধের চেষ্টা করছে ভারত। তবে দু’দেশের মধ্যে যদি সামরিক এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা ব্যর্থ হয় তবে সেনা অভিযানকেই বিকল্প পথ হিসেবে বেছে নেব আমরা।’

লাদাখের পরিস্থিতি নিয়ে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সে বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল পর্যালোচনা করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিপিন রাওয়াত বলেন, ভারত ও চীনের মধ্যে সামরিক স্তরে আলোচনা চলছে। কূটনীতিকরাও এ বিষয়ে আলোচনা করছেন। কিন্তু এসব উপায় যদি সফল না হয় তবে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথ খোলা রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘চীনা সেনারা যেন লাদাখে না ঢুকতে পারে সেজন্য কেন্দ্রীয় সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ পথে দু’দেশের বিতর্ক মিটিয়ে ফেলার পক্ষপাতী। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ রেখায় আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনার সব চেষ্টা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে সেনাবাহিনী তৈরি আছে।’

গত আড়াই মাসে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে কয়েক দফা আলোচনা চালিয়েছে ভারত ও চীন। কিন্তু পূর্ব লাদাখ নিয়ে বিতর্কের মীমাংসা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যায়নি। গত বৃহস্পতিবার দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে বৈঠক হয়েছে। এরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় যে, দু’দেশের চুক্তি ও প্রোটোকল মেনে দ্রুত লাদাখ নিয়ে বিতর্ক মিটিয়ে ফেলা হবে।

জুলাইয়ের শুরুতে সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য অজিত দোভাল চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে ফোনে দু’ঘণ্টা কথা বলেছেন। এরপর সীমান্তে দু’দেশই সেনার সংখ্যা কমিয়ে আনতে থাকে। কিন্তু জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে সীমান্তে ফের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার মোদি সরকার জানায়, পূর্ব লাদাখে উত্তেজনা কমানোর বিষয়টি আদৌ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে না চীন। একটি সূত্র বলছে, চীনের সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় সেনারা দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে যে, নিয়ন্ত্রণ রেখায় গত এপ্রিল মাসের আগে যে পরিস্থিতি ছিল তাই বজায় রাখতে হবে। কিন্তু চীন এতে রাজি নয়।

ভারত বলছে, চীন যদি নিয়ন্ত্রণ রেখায় পরিবর্তন আনতে চায় তা মেনে নেওয়া হবে না। চীনা সেনারা এর মধ্যেই গালওয়ান উপত্যকা থেকে সরে গেছে। কিন্তু প্যাংগং সো, দেপসাং এবং আরও কয়েকটি এলাকা দখল করে আছে এখনও। অন্যদিকে মোদি সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে যেন সামনে শীতের দিনগুলোতেও লাদাখের বিভিন্ন অঞ্চলে আগের মতোই সেনা মোতায়েন রাখা যায়।


এখানে শেয়ার বোতাম