মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯

‘সূর্যের বলয় অতিপ্রাকৃতিক সাধারণ ঘটনা তাই গুজবে কান দিবেন না’

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চে কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন এবং সাধারণ সম্পাদক স্থপতি সুব্রত সরকার এক যুক্ত বিবৃতিতে, আজ বিভিন্ন এলাকা থেকে যে সূর্যের বলয় দেখা গেছে সেটা নিয়ে কোন ধরণের বিভ্রান্তি বা গুজব না ছড়ানোর জন্য এবং এধরণের গুজবে কান না দিয়ে বিজ্ঞানের যুক্তিকে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন বলেন, আমরা অনেকে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের সঙ্গে পরিচিত হলেও সূর্য বলয়ের দুর্লভ এই দৃশ্যের সাথে তেমন একটা পরিচিত নয়। এটিকে অনেকে সূর্যের রংধনুও বলে থাকেন। বায়ুচাপ কমে যাওয়ায় জলীয় বাস্প উপরে বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে পৌঁছানোর পর ঠাণ্ডায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বরফ কণায় পরিণত হয়। এই বরফ কণার উপর সূর্যের আলো পড়ে প্রতিসরিত হয়ে এই দৃশ্যমান সূর্যের বলয় তৈরি করে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (নাসা) এটিকে বলয় সাড়ে ২২ ডিগ্রি হ্যালো (halo) নামে অবিহিত করেন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বিজ্ঞানীরা বলেন, বায়ুমণ্ডলে স্ট্রাটোস্ফিয়ারে ছোট ছোট বরফ কণা রয়েছে। সূর্যের আলো স্ট্রাটোস্ফিয়ারে পৌঁছানোর পর বরফে পড়ে তা প্রতিসরণ হয়। হ্যালো সাড়ে ২২ ডিগ্রি থেকে ৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। তবে সাড়ে ২২ ডিগ্রি হলেই এই বলয় সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়। বায়ুমণ্ডলে জমে থাকা বরফ কণা থেকে প্রতিসরণ হওয়ায় বৃষ্টিরও সম্ভাবনা থাকে।

আজ বিভিন্ন এলাকাতে বেলা ১২টা থেকে সূর্যকে ঘিরে রংধনু বলয়ের দেখা মেলে। স্থানীয় লোকজনের মধ্যে এটা নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল তৈরি হয়। অনেকেই ঘর থেকে বের হয়ে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। অনেকের বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় বিভ্রান্তিতে পড়েন। এই সুযোগে একদল কুচক্রি মহল এই প্রাকৃতিক সাধারণ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করেন।

বিবৃতিতে বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের নেতৃবৃন্দ জনগণকে এই সমস্ত গুজবে কান না দিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা গ্রহণ করে এ ধরণের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ঘটনাগুলো উপভোগ করতে বলেন। তবে সূর্যের আলো বেশি থাকায় সরাসরি সূর্যের দিকে না তাকানোর পরামর্শ দেন তাঁরা।


এখানে শেয়ার বোতাম