বুধবার, জানুয়ারি ২০

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ চায় বাংলাদেশ কংগ্রেস

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 123
    Shares

অধিকার ডেস্ক:: জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা, নির্বাচনের দিন দলীয় ক্যাম্প ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করা এবং নির্ধারিত স্থান ছাড়া পোস্টার টানানো ও সভা বন্ধের দাবী জানিয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেস।

“সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনে করণীয়” শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা না থাকায় সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ভর করছে। রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের উদ্যোগে ৫ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় উক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ কাজী রেজাউল হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সকল প্রকার নির্বাচনে নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ বন্ধের আহবান জানান।

বক্তৃতা দানকালে বাংলাদেশ কংগ্রেসের চেয়ারমান এ্যাডঃ কাজী রেজাউল হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং তাদের মূল কাজ নির্বাহী বিভাগের সহায়তায় সকল প্রকার নির্বাচন পরিচালনা করা। কিন্তু জেলা প্রশাসকদেরকে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে তারা আত্মঘাতি কাজ করেন যাতে তাদের স্বাধীন স্বত্তা ক্ষুন্ন হয়। জেলা প্রশাসকরা নির্বাচন পরিচালনাকারী হতে পারেন না। কারণ সাংবিধানিক বাধা আছে। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে”। জেলা প্রশাসকগণ প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী বিভাগে কর্মরত আছেন। তাই তারা নিজেরা সরাসরি নির্বাচন পরিচালক হতে পারবেন না।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব এ্যাডঃ মোঃ ইয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচনী প্রচারে জনদূর্ভোগ ও কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করতে নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধন করতে হবে। অতিরিক্ত পোস্টার ব্যবহারে একদিকে যেমন কাগজের অপচয় হয়, অন্যদিকে তেমনি পরিবেশ নষ্ট হয়। কোন কোন প্রার্থী রাতারাতি পোস্টার দিয়ে সব জায়গা দখল করে ফেলে, যার ফলে সব প্রার্থীরা পোস্টার মারার সমান সুযোগ পান না। যত্রতত্র জনসভা ও মাইকের ব্যবহার অতিমাত্রায় শব্দ দূষণ ঘটায় যা শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণীর মানুষের জন্য ক্ষতিকর ও বিরক্তিকর।

স্বাস্থ্য বিধির আওতায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সাবেক মন্ত্রী ও বিএলডিপি’র চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বাংলাদেশ ন্যাপ’র মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, জাগপা’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, গণফ্রন্টের মহাসচিব এ্যাডঃ আহমেদ আলী শেখ, এনডিএম’র যুগ্ম মহাসচিব মমিনুল আমিন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ভাইস-চেয়ারম্যান এ্যাডঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডঃ মোঃ আব্দুল আওয়াল, ন্যাশনাল সিনেট সদস্য মোঃ শাহজাহান, মোঃ নাজমুল হক (এন. এইচ.বাদল), এ্যাডঃ মোঃ মিজানুর রহমান, এ্যডঃ দেবদাস সরকার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল মোর্শেদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক মোস্তাফা আনোয়ার রিপন, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) মোঃ আল আমীন বেপারী, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) রাহাতুল ইসলাম রাহাত, নির্র্বাহী সদস্য ফয়েজ আহম্মেদ, নির্র্বাহী সদস্য মোঃ আবুল হোসেন প্রমুখ বক্তৃতা প্রদান করেন।

নেতৃবৃন্দ মনে করেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা না থাকায় সৎ ও যোগ্য জনপ্রতিনিধি তৈরী হচ্ছে না। পাপলুর মতো কালো টাকার মালিকরা টাকার বিনিময়ে জনপ্রতিনিধি বনে যাচ্ছে। ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। অসৎ ও দুর্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রশাসনে জেঁকে বসে বেপরোয়া ও স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছে। ক্রস ফায়ার, খুন, গুম, ধর্ষণ, টাকা পাচারসহ সব ধরণের অপরাধ ও দুর্নীতি সংঘটিত হচ্ছে এসব জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায়। যেনতেন প্রকারে নির্বাচিত হয়েই এসব জনবিচ্ছিন্ন জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের আখের গোঁজাতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। তাদের হাতে উপেক্ষিত থাকে দেশ ও দেশের জনগণ। দুর্যোগের সময় ত্রাণ চুরির মহোৎসবে নামে তারা। দেশকে ভয়াবহ বিপর্যায়ের হাত থেকে বাঁচাতে হলে দরকার একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থা। নির্বাচনকে প্রশাসনের প্রভাবমুক্ত করতে না পারলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আদৌ সম্ভব নয়। এজন্য নির্বাচন ব্যবস্থার সংষ্কার জরুরী। নির্বাচন কমিশনের সকল কর্মকর্তাকে হতে হবে কমিশনের নিজস্ব।

সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টিতে সর্বদলীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, কোন একক দল সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরীর জন্য কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে পারছে না। অপ্রধান বিষয়গুলো নিয়ে মাঠ গরম রাখতে কিছু দলগুলিকে কৌশলে ব্যবহার করা হচ্ছে। মাঝখান দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছে সরকার। সর্বস্তরে প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন করে সব জায়গায় সরকারী দলকে জেতানো হচ্ছে। এই ধরণের নির্বাচন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন আর জনগণ ভোট দিতে যায় না। এটাকে সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে সরকারী দল।

 


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 123
    Shares