Home সারা দেশ সুনামগঞ্জে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হলেই ব্যবস্থা

সুনামগঞ্জে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হলেই ব্যবস্থা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সুনামগঞ্জে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। শহরে কোথাও একের অধিক মানুষকে চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। কেউ মাস্ক ছাড়া ঘর থেকে বের হলে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। সরকারের দেয়া ১০ দিনের সাধারণ ছুটিতে যেন কোনো ব্যক্তি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হন এবং আড্ডা না জমান হয় সেজন্য এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ফলে রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা রয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা, কালিবাড়ি রোড, ট্রাফিক পয়েন্ট ও মধ্যবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ দিনের তুলনায় সকাল থেকে মানুষের চলাচল ছিল খুব সীমিত। ওষুধের দোকান ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের কয়েকটি দোকান ছাড়া সব রকমের দোকানপাট ও হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া রাস্তায় রিকশা ছাড়া চলাচল করছে না অন্য কোনো যানবাহন। রিকশায় একজনের বেশি উঠলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। রাস্তায় চলাচলেও রয়েছে নির্দেশনা। রাস্তায় একের অধিক কেউ ঘোরাঘুরি করলে বা আড্ডা দিলে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।

জানা যায়, গত কয়েকদিনে সুনামগঞ্জে ৪ হাজারের অধিক প্রবাসী আসলেও বুধবার পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৪৫০ জন প্রবাসী। তাদের মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৯৪ জনের। সুনামগঞ্জে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও এখনও মাঠে নামেনি সেনাবাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার তারা শহরের বিভিন্ন জায়গা পর্যবেক্ষণ করে গেলেও এখনও তাদের কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে জানান জেলা প্রশাসক।

বাজার করতে আসা হাসান আহমদ বলেন, অনেকদিন পর সুনামগঞ্জকে জনশূন্য দেখলাম। বাড়ির কিছু জরুরি বাজার করতে আজকে বাইরে আসা। বাজার করেই বাড়ি চলে যাব। সরকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেটি আমাদের মানা জরুরি।

রিকশাচালক লিমন মিয়া বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ঘরে বসে থাকলে খাবার পামু না। মানুষ মাস্ক দিসে এটা নিয়ে রিকশা চালাইতেছি। কিন্তু পুলিশ দেখলাম রিকশায় একজনের বেশি তুললে মাইর দিচ্ছে। তাই আমিও একজন ছাড়া দুইজনকে রিকশায় তুলতেছি না।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, সরকারের দেয়া ১০ দিনের ছুটিতে যেন কেউ জরুরি কারণ ছাড়া ঘরের ভেতর থেকে বের না হন তাই আমরা একটু কড়াকড়ি অবস্থানে রয়েছি। আমরা চাই না মানুষের অহেতুকু ঘোরাঘুরি ও আড্ডার কারণে ভাইরাসটি সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। মানুষকে ঘরমুখী করতে বিকেল থেকে আমরা আরও একটু শক্ত অবস্থানে যাব

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মাঠে নামেনি। তাদের সঙ্গে সকালে কথা হয়েছে তারা মিটিং করে আমাদের পরবর্তীতে জানাবেন। আমরা সকল দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। সরকারের দেয়া ১০ দিনের ছুটিতে কোনো কারণ ছাড়া যাতে কেউ বাইরে বের হতে না পারেন সেদিকেও আমাদের নজরদারি রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ

পরিবারে বিদেশফেরত কেউ নেই, তবুও করোনায় মারা গেলেন বৃদ্ধ

অধিকার ডেস্ক:: পরিবারে কেউ বিদেশফেরত নেই। গত এক মাসের মধ্যে বিদেশফেরত কেউ তাদের বাড়িতেও আসেনি। এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের কেউও না। এরপরও করোনায় আক্রান্ত...

কোয়ারেন্টিনে বিরক্ত ভক্তদের নিজের ফোন নম্বর দিলেন শারাপোভা

অধিকার ডেস্ক:: কত দিন আর ঘরবন্দী হয়ে থাকতে ভালো লাগে! ঘরে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছেন যে ভক্তরা, তাঁদের জন্য এগিয়ে...

চট্টগ্রামে সুপারশপ বন্ধ, ১৪ কর্মী হোম কোয়ারেন্টাইনে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর ছেলে কর্মরত থাকায় চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:: চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর ছেলে কর্মরত থাকা একটি সুপার শপ বন্ধ...

এবার রাজধানীমুখী মানুষ ঠেকাতে পুলিশকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ

অধিকার ডেস্ক:: রাজধানীমুখী মানুষের ঢল থামাতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শনিবার রাত ১০টার দিকে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।