শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের শ্রীরামসী গণহত্যা দিবস আজ

এখানে শেয়ার বোতাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: শ্রীরামসী গণহত্যা দিবস আজ । ১৯৭১ সালের এই দিনে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসী গ্রামে ১২৬ জন বাঙালিকে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। স্থানীয়দের সহযোগিতায় এলাকায় শান্তি স্থাপনের কথা বলে এলাকার লোকজনকে নৌকৈা যোগে শ্রীরামসি হাইস্কুল মাঠে একত্রিত করা হয়।

এরপর পাকিস্তানি সেনারা একজন একজন করে বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে ঢুকিয়ে ফেলে। পরে ১০/১২ জনকে একত্রিত করে হাত-পা বেঁধে বিদ্যালয়ের নিকটস্থ রসুলপুরের হিরণ মিয়ার বাড়ির পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে সবাইকে লাইন ধরিয়ে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে সকলের মরদেহ পুকুরের পানিতে ফেল দেয়া হয়।

নিহতদের মধ্যে ছাত্র, শিক্ষক, সরকারী কর্মচারী, যুবক, সাধারণ গ্রামবাসী ও বেড়াতে আসা স্বজনরাও ছিলেন। পাকিস্তানি সেনারা এ হত্যাকাণ্ডের পরপরই শ্রীরামসি গ্রামে ঢুকে গ্রামের প্রায় ২৫০টি ঘরবাড়ী আগুনে পুড়িয়ে দেয়।

ভীত মানুষজন গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেলে দাফনের অভাবে লাশগুলো কুকুর শেয়াল টানা হেঁচড়া করে। ঘটনার ৪/৫দিন পর কয়েকজন লোক গ্রামে ফিরে লাশগুলো দাফনের ব্যবস্থা করে। এরপর দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর এই স্বাধীনতার পর থেকেই দিনটিতে শ্রীরামসি গ্রামবাসী শহীদের স্মরণে আঞ্চলিক শোক দিবস পালন করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবারও এলাকাবাসীর আয়োজনে শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এছাড়া জেলা-উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়ার শ্রীরামসী গ্রামের আশদ আলী বলেন, ভয়াল সেই দিনের নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ আজও নাড়িয়ে দেয়। সেদিন পাকসেনারা শান্তি কমিটির সভার কথা বলে গ্রামবাসীকে ডেকে নেয়। ওই দিন আমিও গিয়ে ছিলাম। এক পর্যায়ে ঘাতকরা দফায় দফায় দলবদ্ধ করে বেঁধে নিয়ে বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ করে নির্বিঘ্নে হত্যাকাণ্ড চলছিল। তখন আমিসহ আরও কয়েকজন বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে আটক ছিলাম। হঠাৎ করে কোন কারণে আমাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। সেদিনে ভাগ্যক্রমে আমরা বেঁচে যাই। তিনি বলেন, হত্যাযজ্ঞের পর পর পাকসেনা বাজারে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।

শ্রীরামসি হত্যাকাণ্ডের বর্বর কাহিনীকে স্মরণ করে ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে শহীদের নাম সংবলিত স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হয় এবং ১৯৮৭ সালে শহীদ স্মৃতি সংসদ নামে একটি স্মৃতি সংসদ গঠিত হয়। স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে প্রতি বছর শহীদ স্মরণে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এবছরও অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন।


এখানে শেয়ার বোতাম