সোমবার, মার্চ ৮
শীর্ষ সংবাদ

সীতাকুণ্ডে আ.লীগের সন্মেলন শুক্রবার, তৎপর সম্ভাব্য পদ প্রার্থীরা

এখানে শেয়ার বোতাম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :: চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রিবার্ষিক সন্মেলন আগামী ২৯ নভেম্বর তারিখ নিধার্রণ করা হয়েছে। এর আগে দুই দফা ১৬ ও ২৩ নভেম্বর সন্মেলনের তারিখ নিধার্রণ ছিল। সন্মেলনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে উপজেলার ৯০টি ওয়ার্ড এবং ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কাউন্সিল শেষ করা হয়েছে।

আগামী শুক্রবার সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সীতাকুণ্ড উপজেলার আওয়ামী লীগের বহুল প্রতিক্ষিত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ে চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। কারা সভাপতি-সম্পাদক হচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। সভাপতি-সম্পাদক পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় সরাসরি উপস্থিত থেকে কাউন্সিলরদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। প্রার্থিতা ঘোষণা নিয়ে সরগরম প্রার্থী ও সমর্থকদের ফেসবুক। বিশেষ করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ফেসবুকে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালের ২২ অক্টোবর। তিন বছরের মেয়াদের কমিটি মেয়াদ সাত বছর পার হলেও দলীয় গ্রুপিংসহ নানা সমস্যায় যথাসময়ে হয়নি সম্মেলনও। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ২২ অক্টোবর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন তৎকালীন এমপি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মরহুম এবিএম আবুল কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর এ,বি,এম আবুল কাশেম ওই বছরের ২৪ নভেম্বর মারা যান। ওই সময় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ ইসহাক।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে যেসকল সম্ভাব্য প্রার্থী সভাপতি হিসাবে প্রতিদ্বন্ধিতা করার জন্য মাঠে নেমেছেন তার মধ্যে রয়েছেন, স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলম, সাবেক এমপি মরহুম এ,বি,এম আবুল কাসেম মাস্টারের জ্যৈষ্টপুত্র উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম আল মামুন, উপজেলা আ.লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া, উত্তরজেলা আওয়ামীলীগের নেতা ইদ্রিছ।

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী রয়েছেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য আ ম ম দিলসাদ, সৈয়দপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম ইসলাম নিজামী, বারৈয়ারঢালা ইউপি চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন, বাঁশবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী জাহাঙ্গীর।

বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব দিদারুল আলম বলেন, দলীয় নেতাকর্মীরা যদি দলের স্বার্থে উনাকে সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে যোগ্য মনে করেন, তাহলে তিনি তঁদের দাবী মেনে নেবেন। তবে তিনি এখনো প্রাথ হবেন কীনা নিশ্চিত নন বলে জানান।

তবে এবিষয়ে উপজেলা আ.লীগের সন্মেলন সমন্বয়ক এড্ভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপজেলা পযার্য়ে সভাপতি/সম্পাদক পদে এমপিদের নিরুৎসাহিত করার জন্য কথাটা বলেছে। কারণ নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করা এবং একেই ব্যক্তি উপজেলা পযার্য়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ ধরে না রাখে সেটার জন্য তিনি একথা বলেছেন। তবে এমপিরা উপজেলা পযার্য়ে সভাপতি হতে পারবে না এমন বাধ্যবাধকতা নেই।

উপজেলা রাজনীতি বর্তমান তিন ধারায় ভিভক্ত :

এমপি দিদারুল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন এবং উপজেলা আ,লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল বাকের ভুঁইয়া। এতে নেতাকর্মীরা তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তবে নেতাকর্মীরা দাবি তুলছেন, যারা জামায়াত-বিএনপি থেকে দলে ভিড়ে পদ-পদবি নেওয়ার চেষ্টা করছে তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করতে হবে। যে সকল নেতা জামায়াত-বিএনপি ও নাশকতাকারীদের দলে ভিড়াতে চাই তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হবে না হুঁশিয়ারী দেন তৃণমূলের নেতারা।


এখানে শেয়ার বোতাম