বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩

সিলেটে কয়েক ঘন্টার মধ্যে ‘নগর চত্বর’ হয়ে গেল ‘কামরান চত্বর’

এখানে শেয়ার বোতাম

মেয়র আরিফের সিদ্ধান্তকে আ.লীগের চ্যালেঞ্জ

সিলেট প্রতিনিধি:: সিলেট সিটি করপোরেশনের সামনের চত্বর সিটি পয়েন্ট নামেই নগরবাসীর কাছে পরিচিত ছিল। রোববার রাতে বেসরকারি একটি ব্যাংকের অর্থায়নে এই পয়েন্টের নামকরণ করা হয় ‘নগর চত্বর’। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নগর চত্বরের উদ্বোধন করার কয়েক ঘন্টার মধ্যে তা বদলে দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। সোমবার দুপুরে মেয়রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল সহকারে এসে সিটি পয়েন্টে ‘জনতার কামরান চত্বর’ লেখা বোর্ড সাটিয়ে সমাবেশ করেন।

গত ১৫ জুন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান করোনায় মারা যান। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তৎকালীন সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান, কমিশনার থেকে শুরু করে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন কামরান। এই জনপ্রিয় নেতার মৃত্যুর পর নগর ভবনের সামনের চত্বরের নাম ‘কামরান চত্বর’ রাখার দাবি ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবির পাশাপাশি ভার্চুয়াল একটি সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

বিগত দু’টি নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি নেতা আরিফুল হকের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কামরান। তারপরও কামরানের মৃত্যুর পর বিভিন্ন মহলে স্মৃতি রক্ষার দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন মেয়র আরিফুল। এতে নগর ভবনের সামনের চত্বর কামরানের নামে হচ্ছে বলে অনেকে ধারনা করেন। কিন্তু রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে মেয়র আরিফুল হক সিটি করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে ওই চত্বরের নাম ‘নগর চত্বর’ রাখার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সাবেক মেয়র কামরানের নাম নগর ভবনের সামনে না রাখতে মেয়র আরিফুল হক তড়িঘড়ি করে ‘নগর চত্বর’ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে এসে নবনির্মিত চত্বরে ‘জনতার কামরান চত্বর’ লেখা বোর্ড সাটিয়ে দেয়। এ সময় সংহতি জানিয়ে বক্তৃতা করেন সিটি করপোরেশনের দুই কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ ও আফতাব হোসেন খান। আজাদ মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও আফতাব মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।

এই চত্বরের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কামরান চত্বর’ রাখতে মঙ্গলবার সিটি করপোরেশনের মাসিক সভায় প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলেছেন কাউন্সিলর আজাদ ও আফতাব। কাউন্সিলর আজাদ বলেন, বদর উদ্দিন কামরান ৩৩ বছর সিলেটবাসীকে সেবা দিয়েছেন। করপোরেশনের মাসিক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন এবং পাস করানোর চেষ্টা করবেন। অন্যথায় দলীয় কাউন্সিলররা মাসিক সভা বর্জন করবেন। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠুর সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম, রশিদ আহমদ, জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

সোমবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গীরদার দাবি করেন জানান, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুর পর এই চত্বরের নামকরণ কামরানের নামে রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেয়র আরিফুল হক। কিন্তু রাতের আঁধারে তিনি ‘নগর চত্বর’ নামকরণ করে সিলেটবাসীর আবেগে কুঠারাঘাত করেছেন। তিনি অবিলম্বে এই চত্বর কামরানের নামে রাখার দাবি জানান। মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি ২৪ ঘন্টার মধ্যে ‘কামরান চত্বর’ ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ‘নগর চত্বরের’ নকশাকারী প্রতিষ্ঠান ডিজাইন আর্টিস্টির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজহার উদ্দিন কাওসার বলেন, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া সিলেটের ঐতিহাসিক স্থাপনা আবু সিনা ছাত্রাবাস ও বন্দর এলাকার স্মৃতি ধরে রাখতে লাইট হাউজের ভাবনার সমন্বয় করে এই চত্বরের অবকাঠামো করা হয়েছে। এই চত্বরের অর্থায়ন প্রসঙ্গে ইউনাইডেট কমার্সিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) সিলেট রিজিওনাল হেড আমিনুল হক বলেন, আধ্যাত্মিক ও পর্যটন নগরীর সিলেটের সৌন্দর্য্যবর্ধনে করপোরেশনের সঙ্গে আমরা অংশ হতে পেরে গর্বিত।

মেয়র আরিফুল হক একদিন যাওয়ার আগেই ‘নগর চত্বরের’ নাম এভাবে বদলে দেওয়াকে ‘নতুন কিছু নয়’ বলে আওয়ামী লীগের প্রতি কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘যারা নাম বদলে দিলেন, তারা আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দাবি জানাতে পারতেন। যা করেছেন, দুঃখজনক। এই চত্বর কামরানের নামে রাখার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ কেউ বললেও কিন্তু লিখিত কিছু আসেনি।’ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রয়াত কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই চত্বরের নামকরণে তাদের নামও দাবির মধ্যে রয়েছে। এখন আমি কার দাবি রাখব।

মেয়র আরিফুল হক দাবি করেন, কামরানের মৃত্যুর পূর্বেই সিটি পয়েন্ট ‘নগর চত্বর’ করার ব্যাপারে ইউসিবিএলের সঙ্গে চুক্তি হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুরাতন নাম-ই রয়েছে। সিটি পয়েন্টকে বাংলায় নগর চত্বর করা হয়েছে। এজন্য সিটি করপোরেশনের মাসিক সভায় অনুমোদনের প্রয়োজন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, সাবেক মেয়র কামরানের নামে তিনি কোন স্থাপনার নাম রাখতে চান। এক্ষেত্রে করপোরেশনের দাতব্য চিকিৎসালয়, ক্লিনিক বা স্কুলের নামকরণ করার কথা বিবেচনা করছেন তিনি।


এখানে শেয়ার বোতাম