মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৩
শীর্ষ সংবাদ

সিপিবি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মোর্শেদ আলী আর নেই

এখানে শেয়ার বোতাম
  • 263
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)’র ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মোর্শেদ আলী মারা গেছেন। তিনি আজ বুধবার (০৭ এপ্রিল ২০২১) সকাল সাড়ে ৭টায় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি নানাবিধ রোগে ভুগছিলেন। গত ২৬ মার্চ ব্রেইন স্ট্রোক করলে, তাঁকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কয়েকদিন তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

কমরেড মোর্শেদ আলী বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাবেক সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

কমরেড মোর্শেদ আলীর মরদেহ আজ সকাল ১১টায় হাসপাতাল থেকে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তিভবনে নিয়ে আসা হয়। প্রথমেই সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কাস্তে-হাতুড়ি খচিত কমিউনিস্ট পার্টির লাল পতাকা দিয়ে প্রয়াত কমরেডের মরদেহ আচ্ছাদিত করেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর বিভিন্ন দল, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সিপিবির বিভিন্ন শাখা ও কমিটি, বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী) বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, টিইউসি, কৃষক সমিতি, ক্ষেতমজুর সমিতি, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, উদীচী, খেলাঘর, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি, সাপ্তাহিক একতা, মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনী, মণি সিংহ-ফরহাদ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে কমরেড মোর্শেদ আলীর বিপ্লবী স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সিপিবির সভাপতি কমরেড কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, এ দেশের কমিউনিস্ট, প্রগতিশীল আন্দোলনে কমরেড মোর্শেদ আলীর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর স্বপ্নের সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইকে অগ্রসর করার অঙ্গীকার করছি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন। ‘কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল’ গেয়ে সিপিবি ও বিভিন্ন বামপন্থী দলের নেতা-কর্মীরা কমরেড মোর্শেদ আলীকে শেষ বিদায় জানান।

দুপুরে মুক্তিভবন থেকে কমরেড মোর্শেদ আলীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার জানানো হয়। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর মিরপুরস্থ বাসভবনে।

কমরেড মোর্শেদ আলীর মরদেহ নিয়ে পার্টি নেতা-কর্মীরা ও পরিবারের সদস্যরা পাবনার ঈশ্বরদির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। ঈশ্বরদির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে।


এখানে শেয়ার বোতাম
  • 263
    Shares