শনিবার, মার্চ ৬
শীর্ষ সংবাদ

সিন্ডিকেট চামড়া ব্যবসায়িদের শাস্তির দাবিতে বাসদের সমাবেশ

এখানে শেয়ার বোতাম

অধিকার ডেস্ক :: সরকার নির্ধারিত রেটের তোয়াক্কা না করে, সিন্ডিকেট করে নামমাত্র দামে চামড়া বিক্রি করতে জনগণকে বাধ্যকরার প্রতিবাদে এবং সিন্ডিকেট চামড়া ব্যবসায়িদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আজ-১৩ আগস্ট ১১: ৩০ টায় সাতমাথায় মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

বাসদ বগুড়া জেলা আহবায়ক কমরেড অ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলা সদস্য মাসুদ পারভেজ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় সভাপতি ইমরান হাব্বি রুমন, বগুড়া জেলা সাবেক সভাপতি রাধা রানী বর্মন, শ্রমিকনেতা সুরেশ চন্দ্র দাস মনু, আবু রায়হান প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে কমরেড সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, দেশের চামড়ার চাহিদার প্রায় ৮০ ভাগ চামড়া সংগ্রহ করা হয় কোরবানির পশুর চামড়া থেকে, এবছর বাণিজ্য মন্ত্রনালয় কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতিবর্গফুট রাজধানী শহরে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাহিরে প্রতিবর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। খাসির কাঁচা চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা । বকরির কাঁচা চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা। কিন্ত বাস্তবে আমরা দেখলাম প্রায় অর্ধেকের কম দামে চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনছে আর জনগণ এই সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় হয়ে তাদের কোরবানির পশুর চামড়া নামমাত্র দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশের বাণিজ্য মন্ত্রনালয় দাম নির্ধারণ করে দিয়ে তাঁদের দায়িত্ব শেষ করেছে। সাধারণ জনগণ যাতে নির্ধারিত দাম পায় সে ক্ষেত্রে তাদের বাজার তদারকির কোন তদারকির ব্যবস্থা নাই।

এই রকম হরিলুট ব্যবস্থায় আমাদের রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে, এখানে কৃষক তার ধানের দাম পায়না, কোরবানির পশুর চামড়ার দাম জনগণ পায়না আর সরকার জনগনের পক্ষে রাষ্ট্র পরিচালনা করে না । অপরদিকে সরকার কত ভাবে ব্যবসায়িরা সুবিধা পেতে পারে তার সকল আয়োজন নিশ্চিত করে। ব্যবসায়িদের খেলাপী ঋনের সুদ মুকুফ করা হয় কিন্তু কৃষকের ৫০০০ টাকা কৃষি ঋনের কারণে তাদের কোমরে দড়ি দিয়ে গ্রেফতার করা হয়। অর্থাৎ আমাদের রাষ্ট্র নীতি ও সরকার গুলি জণগনের স্বার্থের পক্ষে পরিচালিত হচ্ছে না, তাই জনগণের রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লড়াই-সংগ্রামে সকলকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন,- একটি মাঝারি গরু থেকে কমপক্ষে ২০ বর্গফুট এবং সর্বোচ্চ ৩৫ বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। সাধারণ হিসাবে দেখা যায় এক জোড়া জুতা তৈরি করতে ৪ বর্গফুট চামড়া লাগে। তাহলে চামড়ার দাম পড়ে- ২০০ টাকা। চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে খরচ পড়ে প্রতি বর্গফুটে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। জুতা তৈরিতে শ্রমিকের মজুরিসহ সব খরচ হিসেব করলে এক জোড়া জুতা ৬০০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাজারে মাঝারি মানের জুতাও তো ২০০০ টাকার কমে বিক্রি হয় না। গত ৬ বছরে ক্রমাগত চামড়ার দাম কমলেও জুতার দাম কিন্তু বেড়েই চলছে। দাম হারাচ্ছে চামড়া অথচ দাম বাড়ছে জুতার এই হলো আমাদের দেশের ব্যাবসায়ি ও ব্যবসায়ি বান্ধব সরকার গুলির নীতি। তাই এই নীতি জনগণের পক্ষের নীতি হতে পারে না তাই এই নীতি পরিবর্তন দরকার। নেতৃবৃন্দ জনগণের পক্ষের নীতি প্রনয়নের আন্দোলনে দেশবাসীকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান


এখানে শেয়ার বোতাম